Category: Study Materials

  • আর্দ্রতা ও অধঃক্ষেপন (অধ্যায় ২.৪)

    আর্দ্রতা অধঃক্ষেপন

    1. বাষ্পীভবন মাপার যন্ত্রঅ্যাটমোমিটার ও এভাপরিমিটার বা এভাপরেশন প্যান ।
    2. হিমাঙ্ক নির্দিষ্ট চাপে যে উষ্ণতায় জল ঘনীভূত হয়ে বরফে পরিনত হয় তাকে হিমাঙ্ক বলে । এর পরিমান হল 0°C ।
    3. মেঘের পরিমানকে মাপা হয় – অক্টো এককে ।
    4. 4 ‘o’ Clock Rain বলা হয় পরিচলন বৃষ্টিপাত ।
    5. সীমান্ত নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্নবাতে শীতল, শুষ্ক ও ভারী মেরু বায়ু পুঞ্জ এবং উষ্ণ, আর্দ্র ও হালকা উপক্রান্তীয় পশ্চিমা বায়ু পুঞ্জ পরস্পর মুখোমুখি হলে পরস্পরের সঙ্গে না মিশে যে অদৃশ্য ঢালু সীমানা বরাবর পরস্পর থেকে পৃথক থাকে, তাকে সীমান্ত বলে । এটি দুই ধরনের হয় – উষ্ণ সীমান্ত ও শীতল সীমান্ত ।
    6. Bumpy Cloud বলা হয় স্ট্যাটোকিউমুলাস মেঘকে ।
    7. সমবর্ষন রেখা পৃথিবীর যে সব স্থানে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমান একই রকম সেই সমস্ত স্থান গুলিকে মানচিত্রে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করলে যে রেখা পাওয়া যায়, তাকে সমবর্ষন রেখা বলে ।
    1. মৌসুমি বায়ুতে NLM কথাটি কী সাপেক্ষে ব্যাবহৃত হয় ?

    উঃ – মৌসুমি বায়ু ভারতবর্ষে প্রবেশের পর অভ্যন্তরের রাজ্যগুলিতে বর্ষা ঋতুর আগমন হয় । এইভাবে জলীয় বাষ্প পূর্ন বায়ু মহাদেশে যত ভিতর পর্যন্ত প্রবেশ করে, তাকে যে কাল্পনিক রেখার দ্বারা চিহ্নিত করা হয় তাকেই Normal Limit Of Monsoon বা NLM বলে ।

    1. Resort Climate Of The World – সারাবছর নাতিশীতোষ্ণ, রোদ ঝলমলে মনোরম জলবায়ুর জন্য ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলকে Resort Climate Of The World বলা হয় ।
    2. আর্দ্রতা কাকে বলে ? এর শ্রেনিবিভাগ কর ?

    উঃ – আর্দ্রতা : কোনো নির্দিষ্ট স্থানে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বায়ুতে অবস্থিত মোট জলীয় বাষ্পের পরিমানকে হিউমিডিটি বা আর্দ্রতা বলে । বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমান বেশি হলে তাকে আর্দ্র বায়ু এবং কম হলে তাকে শুষ্ক বায়ু বলে ।

    শ্রেনিবিভাগ : আর্দ্রতা 3 ভাবে প্রকাশ করা হয় – চরম, বিশেষ ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা ।

    ভিত্তি চরম আর্দ্রতা বিশেষ আর্দ্রতা আপেক্ষিক আর্দ্রতা
    i) সংজ্ঞা নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমান জলীয় বাষ্প আছে তাকে চরম বা নিরপেক্ষ আর্দ্রতা বলে । নির্দিষ্ট ওজনের বায়ুতে যে পরিমান জলীয় বাষ্প আছে তাকে বিশেষ বা নির্দিষ্ট আর্দ্রতা বলে । নির্দিষ্ট উষ্ণতা, নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে প্রকৃত জলীয়বাষ্পের ভরের সঙ্গে ওই উষ্ণতায় ওই বায়ুকে পরিপৃক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্পের ভরের যে অনুপাত, তাকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে ।
    ii) প্রকৃতি চরম আর্দ্রতা হল পরিমান । বিশেষ আর্দ্রতা হল পরিমান । আপেক্ষিক আর্দ্রতা হল অনুপাত ।
    iii) প্রকাশ বা একক গ্রাম / ঘনসেমি গ্রাম / কিগ্রা শতাংশ (%)
    iv) অধঃক্ষেপন অধঃক্ষেপনের পরিমান নির্ধারন করে । অধঃক্ষেপনের পরিমান নির্ধারন করে । পূর্বাভাস জানতে সাহায্য করে ।
    v) পরিবর্তন সারাদিন পরিবর্তিত হতে থাকে । বিশেষ বিশেষ সময়ে পরিবর্তিত হয় । দিনের বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয় ।
    vi) উষ্ণতা উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পায় । উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পায় । উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্দ্রতা হ্রাস পায় ।
    1. জলচক্র কাকে বলে ? এর উপাদানগুলি লেখ ?

    উঃ – জলচক্র : বায়ুমন্ডল, শীলামন্ডল ও বারিমন্ডলের মধ্যে জলের বিরামহীন পরিক্রমন ও তার চক্রাকারে আবর্তিত হওয়ার ঘটনাকে জলচক্র বলে । জলের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থার পরিবর্তন যে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংঘটিত হয়, তা জলচক্রের অন্তর্গত ।

    ♦ জলচক্রের উপাদন : জলচক্রের উপাদানগুলি হল – i) পৃথিবীর সাগর ও মহাসাগর, ii) বরফাবৃত ভূভাগ, iii) ভূপৃষ্ঠস্থ জল, iv) ভৌমজল, v) উদ্ভিদ দেহে আবদ্ধ জল, vi) বায়ুর জলীয় বাষ্প ও vii) জল ।

    1. বাষ্পীভবন কাকে বলে ?

    উঃ – জলের গ্যাসীয় অবস্থা হল বাষ্প । যে প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট উষ্ণতায় তরল ধীরে ধীরে বাষ্পে পরিনত হয়, তাকে বাষ্পীভবন বলে । সাগর, মহাসাগর, নদী, হ্রদ প্রভৃতি জলভাগ থেকে জল বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুতে জলীয় বাস্পের সৃষ্টি হয় ।

    1. সম্পৃক্ত অসম্পৃক্ত বায়ু কাকে বলে ?

    উঃ – সম্পৃক্ত বায়ু : যে বায়ুতে কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ুর সর্বোচ্চ জলীয়বাষ্প থাকে, তাকে সম্পৃক্ত বা পরিপৃক্ত বায়ু বলে । অর্থাৎ সম্পৃতাঙ্ক অর্জনকারী বায়ু হল সম্পৃক্ত বায়ু । সম্পৃক্ত বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা 100% ।

    অসম্পৃক্ত বায়ু : যে বায়ুতে নির্দিষ্ট উষ্ণতায় তার ধারন ক্ষমতার চেয়ে কম জলীয়বাষ্প থাকে, তাকে অসম্পৃক্ত বায়ু বলে ।

    1. সম্পৃতাঙ্ক কাকে বলে ?

    উঃ – কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ুর সর্বোচ্চ জলীয়বাষ্প ধারন ক্ষমতা বা সীমাকে সম্পৃতাঙ্ক বলে ।

    1. শিশিরাঙ্ক কী ?

    উঃ – যে নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ু সম্পৃক্ত হয় বা আর্দ্র বায়ুর জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে শিশির, কুয়াশা, মেঘে পরিনত হয়, তাকে শিশিরাঙ্ক বলে । অন্যভাবে যে তাপমাত্রায় বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমান 100% হয় তাকে শিশিরাঙ্ক বলে ।

    1. ঘনীভবন কী ?

    উঃ – যে প্রক্রিয়ায় বায়ুর বাষ্প শীতল হয়, শিশিরাঙ্কের উষ্ণতায় জলকনা এবং হিমাঙ্ক উষ্ণতায় বরফ কনায় পরিনত হয়, তাকে ঘনীভবন বলে । অর্থাৎ জলীয় বাষ্পের জলকনায় রুপান্তর প্রক্রিয়া হল ঘনীভবন ।

    1. ঘনীভবনের নিয়ন্ত্রকগুলি কী কী ? এর বিভিন্ন রূপগুলি লেখ ?

    উঃ – ঘনীভবনের নিয়ন্ত্রক :

    i) আপেক্ষিক আর্দ্রতা : ঘনীভবনের সঙ্গে আপেক্ষিক আর্দ্রতার সরল সম্পর্ক আছে । আর্দ্রতা 100% হলে বায়ু সম্পৃক্ত হয় এবং দ্রুত ঘনীভবন ঘটে ।

    ii) শীতলতার মাত্রা : আর্দ্র বায়ু যত ওপরে উঠে দ্রুত শীতল হয়, তত ঘনীভবন তাড়াতাড়ি ঘটে ।

    iii) ঘনীভবন কেন্দ্র : বায়ুতে ধুলো, কার্বন, লবন কনার উপস্থিতি বেশি থাকলে শিশিরাঙ্ক উষ্ণতায় দ্রুত ঘনীভবন ঘটে ।

    • ঘনীভবনের বিভিন্ন রূপ বা ফলাফল :ঘনীভবনের রূপ দুই জায়গায় লক্ষ্য করা যায় –

    i) ভূপৃষ্ঠস্থ বায়ুতে :

    a) শিশির : জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ভূপৃষ্ঠস্থ বস্তুর ওপর যে জলবিন্দুতে জমা হয়, তাকে শিশির বলে । শিশিরাঙ্ক উষ্ণতায় শিশির সৃষ্টি হয় ।

    b) তুহিন : শিশিরাঙ্ক হিমাঙ্কের নীচে নেমে গেলে জলীয়বাষ্প ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়ায় সরাসরি বরফ কনায় পরিনত হয়ে ভূপৃষ্ঠস্থ বস্তুর ওপর জমা হয়, একে তুহিন বলে ।

    c) কুয়াশা : ভূপৃষ্ঠের উপরিস্থিত বায়ুস্তরে ঘনীভবন ঘটলে অসংখ্য অতি ক্ষুদ্র বায়ুতে ভেসে বেড়ায় । এই ভাসমান জলকনাগুলি বায়ুমন্ডলকে অস্বচ্ছ করে তোলে ও দৃশ্যমানতা হ্রাস পায়, একেই কুয়াশা বলে ।

    d) কুজ্ঝটিকা বা মিস্ট :বায়ুমন্ডলের নিম্ন স্তরে কুয়াশা অপেক্ষাও ক্ষুদ্র জলকনা রূপে বায়ুস্থিত বাষ্প গুলি ঘনীভূত হলে তাদের মিস্ট বলে । পার্বত্য উপত্যকায় ও উপকূল ভাগে শীতকালে মিস্ট সৃষ্টি হয় ।

    e) ধোঁয়াশা : শিল্প নগরীতে কলকারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া, CO2, কার্বন মনোক্সাইড, SO2, নাইট্রাস অক্সাইড, নাইট্রিক অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস ও এরোসলের অধিক্য থাকলে শীতকালে সেগুলির সঙ্গে জলীয়বাষ্পের আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ধোঁয়াপূর্ন কুয়াশার সৃষ্টি হয়, একে ধোঁয়াশা বলে ।

    1905 সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী এইচ. এ. দেসভো ধোঁয়াশা শব্দটি প্রথম ব্যাবহার করেন ।

    f) রাইন : কুয়াশার জলকনা তীক্ষ্ণ বস্তুর অগ্রভাগে সঞ্চিত ও শীতল হয়ে তুষার কনার সৃষ্টি করলে, তাকে রাইন বলে ।

    ii) ঊর্ধ্ব বায়ুস্থ :

    মেঘ : ঊর্ধ্ব আকাশে বায়ুতে ভাসমান অতি সূক্ষ থেকে ক্ষুদ্র জলকনা বা তুষার কনার সমষ্টিকে মেঘ বলে । এতে জলকনা বা তুষার কনার ব্যাস 0.001 থেকে 0.006 mm হয় । এই মেঘ থেকে বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, তুষারপাত ঘটে । প্রচলিত মেঘ 24 টি।

    যথা :

    পরিষ্কার আবহাওয়ার মেঘ : সাদা সিরাস, সিরোকিউমুলাস, অল্টোকিউমুলাস, কিউমুলাস ।

    প্রবল বৃষ্টিপাতের মেঘ : স্ট্যাটোকিউমুলাস ।

    একটানা বৃষ্টিপাতের মেঘ :– নিম্বোস্ট্যাটাস ।

    বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল বৃষ্টিপাতের মেঘ : কিউমুলোনিম্বাস ।

    গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত : সিরোস্ট্যাটাস, স্ট্যাটাস ।

    1. অধঃক্ষেপন কাকে বলে ? এর বিভিন্ন রূপগুলি লেখ ?

    উঃ – অধঃক্ষেপন :– মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে বায়ুমন্ডল থেকে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে তরল ও কঠিন অবস্থায় ভূপৃষ্ঠের পতনকে অধঃক্ষেপন বলে ।

    প্রকারভেদ :

    i) তরল অধঃক্ষেপন :– বৃষ্টিপাত, গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি ।

    ii) কঠিন অধঃক্ষেপন : তুষারপাত, শ্লিট, শিলাবৃষ্টি ।

    a) বৃষ্টিপাত :– বায়ুমন্ডল থেকে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে তরল জলকনা রুপে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের পতনকে বৃষ্টিপাত বলে ।

    b) গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি :অতি সূক্ষ জলকনা খুব ঘনভাবে ও বায়ুতে ভেসে ভেসে ভূপৃষ্ঠে পড়লে তাকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি বলে ।

    c) তুষারপাত : মেঘ থেকে ঘনীভূত জলকনা অতি সুক্ষ ময়দার গুঁড়োর মতো বরফ কনা রূপে ভূপৃষ্ঠে পড়লে, তাকে তুষারপাত বলে ।

    d) শ্লিট : নকুল দানার মতো ছোটো বরফ গুটি ভূপৃষ্ঠে পড়লে তাকে শ্লিট বলে ।

    e) শিলাবৃষ্টি :– শিলাপাতের সঙ্গে বড়ো বড়ো বরফ টুকরো শিলা আকারে ভূপৃষ্ঠে পড়লে তাকে শিলাবৃষ্টি বলে ।

    1. বৃষ্টিপাতের শ্রেনিবিভাগ করে আলোচনা কর ?

    উঃ – সৃষ্টির ভিত্তি অনুযায়ী বৃষ্টিপাতকে 3 ভাগে ভাগ করা যায় যথা :

        বিষয়    পরিচলন বৃষ্টিপাত শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘূর্নবাত জনিত বৃষ্টিপাত
    i) সংজ্ঞা উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠের উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু স্রোত সরাসরি ওপরে উঠে প্রসারিত ও শীতল হয়ে কিউমুলোনিম্বাস মেঘ সৃষ্টি হয়ে সেখানেই প্রবল বৃষ্টিপাত হয় তাকে পরিচলন বৃষ্টিপাত বলে । জলীয় বাষ্পপুর্ন বায়ু পর্বত দ্বারা বাধা পেয়ে ওপরে উঠে ও ঘনীভুত হয়ে পর্বতের প্রতিবাদ ঢালে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়, তাকে শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে । ঘূর্নবাতের প্রভাবে ঝড়ঝঞ্জা সহ যে বৃষ্টিপাত হয় তাকে ঘূর্নবাতজনিত বৃষ্টিপাত বলে ।
    ii) বাষ্প স্থায়িত্ব যেখান থেকে জলীয় বাষ্প উৎপন্ন হয় সেখানেই পরিচলন বৃষ্টিপাত হয় । বাষ্পের উৎপত্তি স্থল ও শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত সংঘটন স্থলের মধ্যে দীর্ঘ দূরত্ব থাকে । দীর্ঘক্ষন ভারী বৃষ্টি হয় । উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু প্রবল বেগে ঘুরতে ঘুরতে উপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্নবাত বৃষ্টিপাত হয় । বজ্রবিদ্যুত সহ প্রবল ঝড় ও বৃষ্টি হয় ।
    iii) কারন বায়ুপুঞ্জের ঊর্ধ্বগমন ও ঘনীভবন হয়ে বৃষ্টিপাত হয় । বায়ুপুঞ্জের পর্বতের প্রতিবাদ ঢালে বাধা পেয়ে বৃষ্টিপাত হয় । নিম্নচাপ কেন্দ্রে প্রবেশ করে ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত হয় ।

    i)

    চিত্র – পরিচলন বৃষ্টিপাত

    ii)

    চিত্র – শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত

    iii)

    চিত্র – ঘূর্ণবাতজনিত বৃষ্টিপাত

    1. জলবায়ু অঞ্চল কাকে বলে ? এর শ্রেণিবিভাগ করে আলোচনা কর ?

    উঃ – জলবায়ু : ভূপৃষ্ঠের জলবায়ু ও আবহাওয়া উপাদান গুলির বৈশিষ্ট্যগত সাদৃশ্য ও সমধর্মীতার ভিত্তিতে কাল্পনিক রেখাযুক্ত অঞ্চলকে জলবায়ু অঞ্চল বলে ।

    শ্রেণিবিভাগ : উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, স্বাভাবিক উদ্ভিদ ও উচ্চতার ভিত্তিতে পৃথিবীর উভয় গোলার্ধে পাঁচটি বৃহৎ অঞ্চলে ও 15 টি জলবায়ু অঞ্চলে চিহ্নিত করা হয় ।

    i) নিরক্ষীয় বৃষ্টি জলবায়ু :

    অবস্থান : 0° – 10° উঃ ও দঃ অক্ষাংশ । দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, আফ্রিকার কঙ্গোজাইরে, এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া ম্যালেশিয়া ।

    বৈশিষ্ট্য :

    a) উষ্ণতা : মাসিক গড় উষ্ণতা 24°C – 27°C বার্ষিক গড় উষ্ণতা 26°C, বার্ষিক উষ্ণতার প্রসার 2°C – 3°C ।

    b) বায়ুচাপ : স্থায়ী ও শক্তিশালী নিম্নচাপ বলয় সৃষ্টি হয়েছে । উচ্চ উষ্ণতা, বায়ুতে প্রচুর জলীয় বাষ্পের জন্য ।

    c) বায়ুপ্রবাহ : সারাবছর নিয়মিতভাবে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু ও দক্ষিণ–পূর্ব আয়ন বায়ু এখানে মিলিত হয়ে আন্তঃক্রান্তীয় মিলন অঞ্চলে (ITCZ – Inter Tropical Convergence Zone) গঠিত হয়েছে । উর্ধ্বগামী উষ্ণ বায়ুস্রোত থাকার জন্য অনুভুমিক বায়ুপ্রবাহ বোঝা যায় না । তাই এই অঞ্চল নিরক্ষীয় শান্তবলয় ।

    d) মেঘাচ্ছন্নতা : প্রতিদিন আকাশে গড়ে 50-60% মেঘাবৃত থাকে ।

    e) বৃষ্টিপাত : এই অঞ্চলে বর্জ্রবিদ্যুৎ ও ঝড়সহ প্রবল পরিচলন বৃষ্টিপাত হয় । গড় বার্ষিক বৃষ্টি 250 cm.

    f) আর্দ্রতা : আপেক্ষিক আর্দ্রতা অনেক বেশি । গড়ে 80-90% ।

    ii) মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল :

    অবস্থান : 10° – 25° উঃ ও দঃ অক্ষাংশ । এশিয়ার ভারত, মায়ানমার, বাংলাদেশ, দঃ চিন, আফ্রিকার গিনি, লাইবেরিয়া, দক্ষিন আমেরিকার গায়না, ভেনেজুয়েলা, উত্তর আমেরিকার মেক্সিকো ।

    বৈশিষ্ট্য :

    a) ঋতু বৈচিত্র : সারাবছর ধরে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, শীত চারটি ঋতু চক্রাকারে ঘটে ।

    b) উষ্ণতা : গড় বার্ষিক উষ্ণতা 24°C গ্রীষ্মকালে 27°C -32°C, শীতকালে 10°C – 27°C , বার্ষিক উষ্ণতার প্রসার 2°C – 11°C ।

    c) বায়ুচাপ : ঋতু অনুসারে সম্পুর্ন বিপরীত বায়ুচাপ কক্ষ ও চাপ ঢাল সৃষ্টি হয় ।

    d) বায়ুপ্রবাহ :– গ্রীষ্মকালে দঃ এশিয়াতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি এবং পূর্ব এশিয়াতে দঃ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয় ।  শীতকালে দঃ এশিয়াতে উঃ-পূঃ মৌসুমি এবং পূর্ব এশিয়াতে উত্তর-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয় ।

    e) মেঘাচ্ছন্নতা : বর্ষাকালে আকাশ কালো মেঘ দ্বারা 75-100% আবৃত থাকে ।

    f) বৃষ্টিপাত :– বার্ষিক বৃষ্টিপাত 90% সংঘটিত হয় । বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমান 150-200 Cm.

    iii) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল :

    অবস্থান : 30° – 40°  উঃ ও দক্ষিণ অক্ষাংশ । ভূমধ্য সাগর সংলগ্ন ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকা দেশ সমূহ । দঃ আমেরিকার মধ্য চিলি ।

    বৈশিষ্ট্য :

    a) ঋতু বৈচিত্র : বৃষ্টির বন্টন অনুসারে শুস্ক গ্রীষ্ম ও আর্দ্র শীত ঋতু চক্র ঘটে ।

    b) উষ্ণতা : বার্ষিক গড় উষ্ণতা 27°C । গ্রীষ্মকালে 24°C – 27°C এবং শীতকালে 10°C – 15°C । গড় বার্ষিক উষ্ণতা 17°C ।

    c) বায়ুচাপ : স্থায়ী কর্কট ও মকরক্রান্তি উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়েছে ।

    d) বায়ুপ্রবাহ :– গ্রীষ্মকালে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু ও শীতকালে দক্ষিণ –পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয় ।

    e) মেঘাচ্ছন্নতা :– প্রায় সারাবছর রোদ ঝলমল মনোরম আবহাওয়ার জন্য একে পর্যটন বায়ু, বিনোদন জলবায়ু বলে ।

    f) বৃষ্টিপাত : বার্ষিক বৃষ্টিপাত 75% সংঘটিত হয় । বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমান কম, 25 – 75 cm.

    g) তুহিন তুষারপাত : শীতকালে নিম্নভূমি ও অভ্যন্তর ভাগে হালকা তুহিন পাত ও পর্বত ও উচ্চভূমিতে ব্যাপক তুষারপাত ঘটে ।

    iv) উষ্ণ মরু জলবায়ু অঞ্চল :

    অবস্থান : 15° – 35° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ । আফ্রিকার সাহারা, কালাহারি, এশিয়ার মধ্যপ্রাচ্য, থর, উত্তর আমেরিকার সোনেরান, দক্ষিন আমেরিকার আটাকামা, অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাংশ ।

    বৈশিষ্ট্য :

    a) উষ্ণতা :– বার্ষিক গড় উষ্ণতা অত্যন্ত বেশি, 28°C – 36°C, উষ্ণতার প্রসার 17°C – 22°C ।

    b) বৃষ্টিপাত : খুবই কম ও অনিশ্চিত, 25 cm এর কম ।

    v) তুন্দ্রা জলবায়ু :

    অবস্থান : 65° – 80° উঃ ও দঃ অক্ষাংশ । এশিয়ার রাশিয়া, ইউরোপের নরওয়ের সুইডেন, উঃ আমেরিকার কানাডা ।

    বৈশিষ্ট্য :

    a) উষ্ণতা : শীতে 20°C থেকে 50°C । গ্রীষ্মে 5°C – 10°C ।

    b) বৃষ্টিপাত :– গ্রীষ্মে বৃষ্টি ও শীতে তুষারপাত 10-40 cm.

  • বায়ুর চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ (অধ্যায় ২.৩)

    বায়ুর চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ

    1. ‘The Doctor’ নামে পরিচিত বায়ুপ্রবাহ হারমাট্টান ।
    2. সমুদ্র পৃষ্ঠের বায়ুচাপ হল 1013.25 মিলিবার ।
    3. বায়ুর আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম হাইগ্রোমিটার ।
    4. বানিজ্য বায়ু বলে আয়ন বায়ুকে ।
    5. সবচেয়ে বিধ্বংসী ঝড় টর্নেডো ।
    6. তুষার ভক্ষক বলা হয় চিনুক ।
    7. চিন সাগরের ঘুর্নবাতকে বলে – টাইফুন ।
    8. ক্যারিবিয়ান সাগরের ঘুর্নিঝড় হল হ্যারিকেন ।
    9. বায়ুর চাপ মাপার একক মিলিবার ।
    10. তীক্ষ্ণ চিৎকারকারী ষাট 60° দঃ অক্ষরেখা বরাবর তীক্ষ্ণ শব্দে প্রবাহিত পশ্চিমা বায়ুকে তীক্ষ্ণ চিৎকারকারী ষাট বলে ।
    11. অশ্ব অক্ষাংশ বলা হয় 35° উত্তর অক্ষাংশটিকে ।
    12. বঙ্গোপসাগরের ঝড়কে বলা হয় সাইক্লোন ।
    13. পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার ঝড়কে বলা হয় উইলি – উইলি ।
    14. ভারত মহাসাগরের ঝড়কে বলা হয় সাইক্লোন ।
    15. হ্যাডলির কক্ষ – 0° – 30° অক্ষাংশ ।
    16. ফেরেল কক্ষ 30° – 60° অক্ষাংশ ।
    17. মেরু কক্ষ 60° – 90° অক্ষাংশ ।
    18. জেট বায়ু 15° – 35° অক্ষাংশ ।
    19. গর্জনশীল চল্লিশার নাম 40° দঃ অক্ষাংশ ।
    20. সাময়িক বায়ুকে বলা হয় মৌসুমি বায়ু ।
    21. স্থানীয় বায়ু বোরা, চিনুক, লু, আঁধি ।
    22. আকস্মিক বায়ু হ্যারিকেন ।
    23. রসবি তরঙ্গ 1930 খ্রিষ্টাব্দে সি. জি. রসবি আবিষ্কার করেন ।
    24. অক্লুসান নাতিশীতোষ্ণ ঘুর্নবাতের অন্তিম পর্যায় ।
    25. সাইক্লোন কথার অর্থ সাপের কুণ্ডলী ।
    26. অ্যাজোরস উচ্চচাপ উঃ আটলান্টিকের পুর্বাঞ্চলে উষ্ণমণ্ডলীয় প্রতীপ ঘূর্ণবাত ।
    27. ঘুর্নবাত প্রতীপ ঘুর্নবাতের মধ্যে পার্থক্য লেখ ?

    উঃ – ঘুর্নবাত প্রতীপ ঘুর্নবাতের মধ্যে পার্থক্য

    বিষয় ঘুর্নবাত প্রতীপ ঘূর্নবাত
    i) কেন্দ্রের চাপ কেন্দ্রে থাকে নিম্নচাপ । কেন্দ্রে থাকে উচ্চচাপ ।
    ii) গমনের দিক এর বায়ু ঊর্ধ্বগামী । এর বায়ু নিম্নগামী ।
    iii) বাঁকের দিক উত্তর গোলার্ধে বাঁদিকে এবং দক্ষিন        গোলার্ধে ডানদিকে । উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিন গোলার্ধে বামদিকে ।
    iv) গতিবেগ গতিবেগ খুব বেশি । গতিবেগ কম ।
    v) মেঘাচ্ছন্নতা আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে । আকাশ মেঘমুক্ত থাকে ।
    vi) বিস্তৃতি এর বিস্তৃতি কম । এর বিস্তৃতি বেশি ।
    vii) সংঘটন ঋতু সাধারানত গ্রীষ্মকালে দেখা যায় । সাধারানত শীতকালে দেখা যায় ।
    viii) প্রভাব স্থায়িত্ব বিধ্বংসী কিন্তু স্বল্প স্থায়ী । বিধ্বংসী নয় তবে দীর্ঘস্থায়ী ।

     

    চিত্র :

    1. পার্বত্য বায়ু বা ক্যাটাবেটিক বায়ু উপত্যকা বায়ু বা অ্যানাবেটিক বায়ুর মধ্যে পার্থক্য লেখ ?

    উঃ –

             বিষয়                  পার্বত্য বায়ু        উপত্যকা বায়ু
    i)সংঞ্জা পার্বত্য শান্ত আবহাওয়া রাতের বেলায় পর্বতের চাল বেয়ে নিম্নগামী ঠাণ্ডা ও ভারী বায়ুকে পার্বত্য বায়ু বলে । পার্বত্য শান্ত আবহাওয়া দিনের বেলায় পর্বতের ঢাল বেয়ে ঊর্ধ্বগামী উষ্ণ ও হালকা বায়ুকে উপত্যকা বলে ।
    ii) সময়কাল  সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত ।  সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ।
    iii) প্রকৃতি  নিম্নগামী শীতল ও ভারী বায়ু ।  ঊর্ধ্বগামী উষ্ণ ও হালকা বায়ু ।
    iv) গতিবেগ  বেশি ও ভোরে সর্বোচ্চ হয় ।  কম ও দুপুরে সর্বোচ্চ হয় ।
    v) চিত্র

     

    1. বায়ুচাপের তারতম্যের নিয়ন্ত্রকগুলী কী ?

    উঃ – বায়ুচাপের তারতম্যের জন্য দায়ী প্রধান পাঁচটি কারন হল

    i) উচ্চতা :বায়ুর উচ্চতার সঙ্গে বায়ু চাপের ব্যাস্তানুপাতিক সম্পর্ক বিদ্যমান । সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 274 – 300 মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে 1 ইঞ্চি বা 34 মিলিবার হারে বায়ুচাপ হ্রাস পায় । এজন্য সমভূমির তুলনায় পর্বতের বায়ুচাপ কম ।

    ii) উষ্ণতা : বায়ুর উষ্ণতার সঙ্গে বায়ু চাপের ব্যাস্তানুপাতিক সম্পর্ক আছে । উষ্ণতা বাড়লে বায়ুর চাপ কমে এবং উষ্ণতা কমলে বায়ুচাপ বাড়ে ।

    iii) জলীয় বাষ্প : বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাপের সঙ্গে বায়ুচাপের বিপরীত সম্পর্ক দেখা যায় । আর্দ্র বায়ুর চাপ কম এবং শুষ্ক বায়ুর চাপ বেশি হয় ।

    iv) পৃথিবীর আবর্তন : পৃথিবী নিজ অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে সবসময় ঘুরছে । সেজন্য পৃথিবী পৃষ্ঠে সৃষ্ট ঘূর্ননজনিত বল ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তির জন্য সৃষ্ট কেন্দ্রাতিক বল বায়ুমন্ডলের চাপকে প্রভাবিত করে ।

    v) স্থলভাগ জলভাগ বণ্টন : জলভাগ ও স্থলভাগের তাপ গ্রহীতা শক্তির পার্থক্যের জন্য বায়ুচাপের তারতম্য হয় ।

    1. মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে জেটবায়ুর সম্পর্ক লেখ ?

    উঃ – মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে জেটবায়ুর সম্পর্ক : মৌসুমি জলবায়ুর ওপর জেট বায়ুর অপরিসীম প্রভাব রয়েছে । মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের ঋতু পরিবর্তন, শীতকাল এবং গ্রীষ্মকালের স্থায়িত্ব ও তীব্রতা, বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত প্রভৃতি বিষয় জেট বায়ুর গতি প্রকৃতি ও অবস্থানের ওপর বহুলাংশে নির্ভর করে । এপ্রিল – মে মাসে দুই ধরনের জেট বায়ু মৌসুমি বায়ুপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রন করে । যেমন –

    i) ক্রান্তীয় পুবালি জেট বায়ু :– জুন মাসে পূর্বদিক থেকে এই প্রবাহটি চিনের দক্ষিন উপকুল থেকে শুরু করে 9 – 12 km উচ্চতায় পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে, 12° – 15° উঃ অক্ষাংশ বরাবর থাইল্যান্ড ও ভারতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আফ্রিকা মহাদেশের সাহারা মরুভূমিতে গিয়ে শেষ হয় ।

    ii) উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেট বায়ু : উত্তর ভারতে 20° থেকে 24° অক্ষাংশ বরাবর 9-12 km উচ্চতায় পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত এই জেট বায়ুটি অক্টোবর – নভেম্বর মাসে দক্ষিন – পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তনের পর ভারতের ওপর সক্রিয় হয় ।

    1. স্থানীয় বায়ু কাকে বলে ?

    উঃ – বছরের বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানীয় কারনে স্বল্প পরিসর অঞ্চলে যেসব বায়ু প্রবাহিত হয়, তাদের স্থানীয় বায়ু বলে । এগুলি দুই ধরনের হয় – উষ্ণ ও শীতল ।

    উষ্ণ স্থানীয় বায়ু :

    • ফন – আল্পস পর্বতমালা
    • চিনুক – প্রেইরি তৃণভূমি
    • খামসিন – মিশর ও আরব
    • হারমাট্টান –গিনি উপকূল
    • সিরক্কো – ইতালি
    • লেভেচ –স্পেন
    • সিমুম – সাহারা
    • লু – উত্তর-পূর্ব ভারত
    • আঁধি – রাজস্থান
    • সান্টানা – ক্যালিফরনিয়া

    শীতল স্থানীয় বায়ু :

    • মিস্ট্রাল – ফ্রান্স
    • বোরা – ইটালি
    • পম্পেরো – পম্পাস
    • টাকু – আলাস্কা তৃণভূমি
    • জোন্ডা – আর্জেন্টিনা
    • বার্গ – দক্ষিণ আফ্রিকা
    • কারাবুরান – কাজাকিস্তান
    • ল্যাভেন্টার – স্পেন
    • পুগা – রাশিয়া
    1. জলবায়ুগত মরুদ্যান বলা হয় সুইজারল্যান্ডকে ।
    2. লু লাগা লু একপ্রকার তাপ প্রবাহ । উষ্ণতা 45°C – 50°C হয় । শরীরের তাপ অত্যন্ত বেড়ে যায়, একে লু লাগা বলে । এর প্রভাবে প্রতিবছর বহু মানুষ ও গবাদি পশু মারা যায় ।
    3. ঘূর্নবাতের চক্ষু ক্রান্তীয় শক্তিশালী ঘূর্নবাতের কেন্দ্র থেকে 10 – 20 km ব্যাসের বৃত্তাকৃতি অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠে বায়ু গতিহীন, শান্ত এবং আকাশ মেঘ মুক্ত নির্মল ও বৃষ্টিহীন থাকে, একে ঘূর্নবাতের চক্ষু বলে ।
    4. বিশ্বের উল্লেখযোগ্য ক্রান্তীয় ঘূর্নবাত :
    ঘূর্নবাত দেশ উৎপত্তিস্থল
    টর্নেডো যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো উপসাগর
    টাইফুন চিন, জাপান দক্ষিন চিন সাগর
    হ্যারিকেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্যারিবিয়ান সাগর
    তাইফু জাপান, তাইওয়ান জাপান সাগর
    ব্যাগুই ফিলিপাইন্স উত্তর ভারত মহাসাগর
    উইলি উইলি অস্ট্রেলিয়া দক্ষিন – পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর
    সাইক্লোন ভারত, বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগর, আরবসাগর

     

    1. চিত্রের সাহায্যে ভূপৃষ্ঠের বায়ুর চাপবলয় গুলির অবস্থান উৎপত্তির কারন বর্ননা কর ?

    উঃ – বায়ুচাপের তারতম্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠে 7 টি বায়ুচাপ বলয় দেখা যায় । এগুলি হল –

    i) নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় :

       অবস্থান : নিরক্ষরেখার দুই পাশে 5° -10° অক্ষাংশের মাঝে অবস্থিত ।

    উৎপত্তির কারন :

    i) সারাবছর লম্বভাবে পর্যাপ্ত সূর্যকিরণের জন্য উষ্ণ বায়ু হালকা হয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয় ।

    ii) এখানে স্থলভাগের তুলনায় জলভাগ বেশি থাকায় জলীয় বাষ্পের পরিমান বৃদ্ধি পায় বলে বায়ু আর্দ্র ও হালকা হয় ।

    iii) পৃথিবীর আবর্তনের প্রভাব এখানে সর্বাধিক হওয়ায় বায়ু প্রবাহ সর্বদা ঊর্ধ্বমুখী হয় ও অনুভূমিক প্রবাহ বোঝা যায় না । বায়ুমণ্ডলে সর্বদা শান্তভাবে বিরাজ করে তাই অঞ্চলটিকে নিরক্ষীয় শান্ত বলয় বা ডোলড্রামস বলে ।

    ii) iii) কর্কটীয় মকরীয় উচ্চচাপ বলয় :

    অবস্থান :– উভয় গোলার্ধে 25° – 35° উত্তর ও দক্ষিন অক্ষাংশে এই উচ্চচাপ বলয় দুটি সৃষ্টি হয়েছে ।

    উৎপত্তির কারন :

    i) নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে বিক্ষিপ্ত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু 5 কিমি উচ্চতায় ক্রমশ প্রসারিত, শীতল ও ভারী হয়ে এই অঞ্চলে অবতারন করে ।

    ii) দুই মেরু বৃত্ত প্রদেশীয় অঞ্চল থেকে কোরিওলিস বলের প্রভাবে ঠাণ্ডা ও ভারী বায়ু বিক্ষিপ্ত হয়ে এই অঞ্চলে নেমে এসে বায়ুর পরিমাপ বৃদ্ধি পায়, ফলে বায়ুচাপ বেড়ে যায় ।

    iii) iv) সুমেরু কুমেরু বৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয় :

    অবস্থান : উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের 60° – 70° অক্ষাংশের মধ্যে এই নিম্নচাপ বলয় দেখা যায়।

    উৎপত্তির কারন :

    i) ক্রান্তীয় অঞ্চল অপেক্ষা এখানে কোরিওলিস বল অধিক হওয়ায় বায়ু বিক্ষিপ্ত হয় ।

    ii) দুই মেরু অঞ্চল থেকে আগত শীতল শুষ্ক বায়ু এখানে পৌঁছে ক্রান্তীয় উষ্ণ বায়ুর সঙ্গে সংঘর্ষে ঊর্ধ্বমুখী হয় । ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে কোনো বায়ুপ্রবাহ থাকে না তাই একে মেরু বৃত্ত প্রদেশীয় শান্তবলয় বলা হয় ।

    vi) vii) সুমেরু কুমেরু উচ্চচাপ বলয় :

    অবস্থান : উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে 80° – 90° অক্ষাংশের এই উচ্চচাপ বলয় লক্ষ্য করা যায় ।

    উৎপত্তির কারন :

    i) সারাবছর মেরু অঞ্চলে তির্যক রশ্মির জন্য উষ্ণতা হিমাঙ্কের বহু নিচে থাকে । বায়ু অত্যন্ত শীতল ও ভারী হয় ।

    ii) তির্যক সূর্যরশ্মি জমাটবদ্ধ সমুদ্রের জন্য বাষ্পীভবন হার খুব কম, ফলে বায়ু বাষ্পহীন শূস্ক ।

    1. বায়ুপ্রবাহ কাকে বলে ? একে কয়ভাগে ভাগ করা হয় কী কী ব্যাখ্যা কর ?

    উঃ – বায়ুপ্রবাহ : ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে সমান্তরালে অর্থাৎ অনুভূমিক ভাবে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ুর চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে ।

    শ্রেণিবিভাগ :উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য ও গতিপ্রকৃতি অনুসারে বায়ুপ্রবাহ চার প্রকার ।

    যথা –    i) নিয়ত বায়ু

    ii) সাময়িক বায়ু

    iii) স্থানীয় বায়ু

    iv) আকস্মিক বায়ু

    i) নিয়ত বায়ু : স্থায়ী চাপবলয়গুলির সঙ্গে তাল রেখে যেসব বায়ু সারাবছর ধরে নিয়মিত ভাবে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে ও গতিবেগে প্রবাহিত হয়, তাদের নিয়ত বায়ু বলে । এই বায়ুকে 3 ভাগে ভাগ করা হয় । যথা –

    a) আয়ন বায়ু : কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত নিয়ত বায়ুকে আয়ন বায়ু বলে । এই বায়ুকে বানিজ্য বায়ু ও পুবালি বায়ু বলা হয় । দুই গোলার্ধে দুটি আয়ন বায়ু আছে । যথা – উত্তর পূর্ব আয়ন বায়ু, দক্ষিনপূর্ব আয়ন বায়ু । ( 5° – 35° অক্ষাংশ)

    b) পশ্চিমা বায়ু : কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে সুমেরু ও কুমেরু বৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত নিয়ত বায়ুকে পশ্চিমা বায়ু বলে । এই বায়ুকে দুই ভাগে ভাগ করা হয় ।

    যথা- দক্ষিন – পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু ও উত্তর – পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু । ( 35° – 60° অক্ষাংশ)

    দক্ষিন গোলার্ধে 40° – 60° অক্ষাংশে জলভাগের বিস্তার বেশি হওয়ায় উত্তর – পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু বিনা বাধায় প্রবল বেগে তীক্ষ্ণ শব্দ করে প্রবাহিত হয় । একে সাহসী পশ্চিমা বায়ু বলে ।

    এই বায়ু প্রবাহিত অক্ষরেখাগুলি বিভিন্ন নামে পরিচিত । 40° দক্ষিন অক্ষরেখা গর্জনশীল চল্লিশা, 50° দক্ষিন অক্ষরেখা ক্রোধোন্মত্ত পঞ্চাশ, 60° দক্ষিন অক্ষরেখা তীক্ষ্ণ চিৎকারকারী ষাট ।

    c) মেরু বায়ু :– সুমেরু ও কুমেরু উচ্চচাপ বলয় থেকে সুমেরু ও কুমেরু বৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত নিয়ত বায়ুকে মেরু বায়ু বলে । ( 70° – 80° অক্ষাংশ)। এটি দুই প্রকারের । যেমন – উত্তর-পূর্ব মেরু বায়ু ও দক্ষিন পূর্ব মেরু বায়ু ।

    ii) সাময়িক বায়ু :– দিন বা রাতের বিশেষ সময়ে কিংবা বছরের বিশেষ ঋতুতে বায়ুচাপের তারতম্যে যে বায়ু সাময়িকভাবে প্রবাহিত হয় তাকে সাময়িক বায়ু বলে। এই বায়ু পাঁচ প্রকারের হয়। যথা –

    a) স্থলবায়ু : রাতের বেলায় উপকূল অঞ্চলে স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে স্থলবায়ু বলে ।

    b) সমুদ্র বায়ু :– দিনের বেলায় উপকূল অঞ্চলে জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে যে শীতল সাময়িক বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে সমুদ্র বায়ু বলে ।

    c) মৌসুমি বায়ু :– শীত ও গ্রীষ্ম ঋতুভেদে বিপরীত দিক থেকে সুবৃহৎ অঞ্চল জুড়ে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত সাময়িক বায়ুকে মৌসুমি বায়ু বলে ।

    d) পার্বত্য বায়ু :– পার্বত্য শান্ত আবহাওয়ায় রাতের বেলায় পর্বতের ঢাল বেয়ে নিম্নগামী ঠাণ্ডা ও ভারী বায়ুকে পার্বত্য বায়ু বলে ।

    e) উপত্যকা বায়ু : পার্বত্য শান্ত আবহাওয়ায় দিনের বেলায় পর্বতের ঢাল বেয়ে ঊর্ধ্বগামী উষ্ণ ও হালকা বায়ুকে উপত্যকা বায়ু বলে ।

    iii) স্থানীয় বায়ু : বছরের বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানীয় কারনে স্বল্প পরিসর অঞ্চলে যেসব বায়ু প্রবাহিত হয়, তাদের স্থানীয় বায়ু বলে । এইগুলি দুই ধরনের হয় – উষ্ণ ও শীতল ।

    • উষ্ণ স্থানীয় বায়ু :– ফন, চিনুক, খামসিন, হারমাট্টান, সিরোক্কো, লেভেচ, সিমুম, লু, আন্ধি, সান্টানা প্রভৃতি ।
    • শীতল স্থানীয় বায়ু : – মিস্ট্রোল, বোরা, পম্পেরো, টীকু, জোন্ডা, বার্গ, কারাবুরান, লাভেন্টার ও পুবা প্রভৃতি।

    iv) আকস্মিক বায়ু : স্বল্প পরিসর এলাকার চাপের তারতম্যের জন্য অনিয়মিতভাবে হটাৎ যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাদের আকস্মিক বায়ু বলে । এগুলি দুই ধরনের । যথা –

    a) ঘূর্নবাত :– ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোস্ন মণ্ডলে নিম্নচাপ কক্ষকে বেষ্টন করে কুন্ডলীর মতো পাক খেয়ে কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বগামী দ্রুত গতিসম্পন্ন উষ্ণ ঘুর্নি বায়ুপ্রবাহকে ঘূর্নবাত বলে । হেনরি পিডিংটন ঘূর্নবাত শব্দটির প্রচলন করেন ।

    b) প্রতীপ ঘূর্নবাত :– শীতল নাতিশীতোষ্ণ ও হিমমন্ডলে উচ্চচাপকে কেন্দ্র করে কুন্ডলীর মতো পাক খেয়ে কেন্দ্র বহির্মুখী ও অধঃগামী ধীর গতিসম্পন্ন শীতল ও শুষ্ক বায়ুপ্রবাহকে প্রতীপ ঘূর্নবাত বলে । ফ্রান্সিস গলটন প্রথম শব্দটির প্রচলন করেন ।

    38) জেট প্রবাহ কাকে বলে ? এর শ্রেনীবিভাগ কর ?

    উঃ – জেট প্রবাহ :– যে দীর্ঘ তরঙ্গ বিশিষ্ট শক্তিশালী জিওট্রপিক বায়ু অতি দূরন্ত বেগে উচ্চ ট্রপোস্ফিয়ার 9 -12 km উচ্চতায় সমোষ্ণরেখা সমান্তরালে পশ্চিম-পূর্ব দিকে আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয়, তাকে জেট বায়ু বা জেট স্টিম বলে । 1944 সালে আবহবিদ এম বেকন জেট বিমান চলাচলের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে জেট প্রবাহ নামে অভিহিত করেন ।

    বৈশিষ্ট :

    i) প্রকৃতি :– জেট প্রবাহগুলি আঁকাবাঁকা দীর্ঘ তরঙ্গ যুক্ত ।

    ii) বিস্তার :– প্রস্থ কয়েক শত কিমি, দৈর্ঘ্য কয়েক হাজার কিমি এবং বেগ 2-4 km হয় ।

    iii) গতিবেগ :– গতিবেগে ঘণ্টায় 161-322 কিমি ।

    iv) প্রবাহ : সমচাপ রেখার সমান্তরালে জিওট্রপিক বায়ু রূপে পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত হয় । এটি ঊর্ধ্বাংশে পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহ । আঁকাবাঁকা ঢেউ এর মতো প্রবাহ পথে অগ্রসর হয় । এই পথকে রসবিতরঙ্গ বলে ।

    শ্রেণীবিভাগ :– অবস্থানের ভিত্তিতে জেটপ্রবাহকে তিনটি প্রধান শ্রেনিতে ভাগ করা হয় ।

    যথা –

    i) মেরুদেশীয় জেট :– 45° – 60° অক্ষাংশে সারা বছর ধরে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘন্টায় 250-300 কিমি বেগে এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয় । এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ।

    ii) উপক্রান্তীয় জেট :– 25° – 35° অক্ষাংশে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘণ্টায় 300-375 কিমি বেগে সারাবছর ধরে প্রবাহিত হয় ।

    iii) ক্রান্তীয় জেট :– 15° – 20° অক্ষাংশে গ্রীষ্মকালে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে ঘন্টায় 175-200 কিমি বেগে প্রবাহিত হয় । এটি পুবালি জেট । ভারত ও আফ্রিকা

  • বায়ুমণ্ডলের তাপ, উষ্ণতা ও বিশ্ব উষ্ণায়ন (অধ্যায় ২.২)

    বায়ুমণ্ডলের তাপ, উষ্ণতা, ও বিশ্ব উষ্ণায়ন

    1. বায়ুমণ্ডলে উষ্ণতার তারতম্যের কারনগুলি লেখ

    উঃ – বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতার তারতম্যের কারনগুলি হল –

    i) অক্ষাংশ :- বায়ুর উষ্ণতার গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক হল অক্ষাংশগত অবস্থান । অক্ষাংশের মান বৃদ্ধির সঙ্গে উষ্ণতা হ্রাস পায় । নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরুর দিকে প্রতি 1° অক্ষাংশে 0.28°C  হারে উষ্ণতা হ্রাস পায় ।

    উদাহরণ : 10° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত ব্যাঙককের উষ্ণতা 36° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত বেজিং এর তুলনায় 12°C বেশি হয় ।

    কারন : সূর্য রশ্মির পতন কোনের পার্থক্য এবং দিন রাতের দৈর্ঘ্য ।

    ii) উচ্চতা :- উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতি হাজার মিটার বা 1 কিমিতে 4°C বা প্রতি 155 মিটারে 1°C হারে উষ্ণতা হ্রাস পায় । একে স্বাভাবিক উষ্ণতা হ্রাসের হার বা Normal Lapse Rate বলে ।

    উদাহরণ : শিলিগুড়ি অপেক্ষা দার্জিলিং বেশি শীতল ।

    iii) জল ও স্থলভাগের বন্টন :- জলভাগ অপেক্ষা স্থলভাগ দ্রুত উষ্ণ ও দ্রুত শীতল হয় । একই পরিমান সৌরশক্তি দ্বারা নির্দিষ্ট পরিমান জলভাগের তুলনায় ওই পরিমান স্থলভাগ 3 গুন বেশি উষ্ণ হয় ।

    উদাহরণ : পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় মধ্যপ্রদেশ, পুরির তুলনায় নাগপুর চরমভাবাপন্ন ।

    iv) বায়ুপ্রবাহ :- নানা ধরনের উষ্ণ ও শীতল বায়ু ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অংশের উষ্ণতার পরিবর্তন ঘটায় ।

    উদাহরণ : উষ্ণ লু গ্রীসে উত্তর–পশ্চিম ভারতের তাপপ্রবাহ ঘটায় । এবং দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ু জুন মাসে ভারতীয় উপমহাদেশে 10°C উষ্ণতা হ্রাস করে ।

    v) সমুদ্রস্রোত :- উপকূলের অদূরে উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোত উপকূলীয় জলবায়ুকে দারুনভাবে নিয়ন্ত্রন করে ।

    উদাহরণ : উষ্ণ উত্তর আটলান্টিক স্রোতের প্রভাবে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ ও নরওয়ের উপকূল, উত্তর সাগর শীতকালে বরফাবৃত হয় না ।

    vi) ভূমিঢাল :- উত্তর গোলার্ধের পর্বতের উত্তর ঢাল অপেক্ষা দক্ষিণ ঢালে অধিক সূর্যকিরণের জন্য উষ্ণতা বেশি হয় । আল্পস পর্বতের সূর্যালোকিত পর্বত গাত্রকে ফরাসি ভাষায় এড্রিট এবং ছায়াছন্ন পর্বত গাত্রকে উবেক বলে।

    vii) মেঘাচ্ছন্নতা :- আকাশে মেঘের আবরন পৃথিবীর ওপর কম্বলের মতো কাজ করে । মেঘমুক্ত অবস্থায় দিনের বেলায় সৌরশক্তির আগমন বাড়ে ও বিকিরন হার বৃদ্ধি পেয়ে উষ্ণতা বাড়ে । এবং রাতের বেলায় তাপ বিকিরন করে ঠাণ্ডা বোধ হয় । মেঘাচ্ছন্ন অবস্থায় দিনের বেলায় ভূপৃষ্ঠে সৌরতাপ কম পায় বলে উষ্ণতা কম হয় । এবং রাতের বেলায় মেঘের কারনে তাপ বিকিরন করে বেরোতে পারেনা ফলে উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় ।

    এছাড়াও

    viii) অধঃক্ষেপণ, ix) স্বাভাবিক উদ্ভিদ, x) মাটি, xi) নগরায়ন, xii) শিল্পায়ন ইত্যাদি ।

    1. গরিষ্ঠ উষ্ণতা কাকে বলে ?

    উঃ – একটি নির্দিষ্ট স্থানে সারাদিনের সবচেয়ে বেশি উষ্ণতাকে গরিষ্ঠ উষ্ণতা বলে । দুপুর 2 টায় ও বিকেল 5:30 মিনিটে সর্বোচ্চ পাঠ নেওয়া হয় ।

    1. লঘিষ্ট উষ্ণতা কাকে বলে ?

    উঃ – একটি নির্দিষ্ট স্থানে সারাদিনের সবচেয়ে কম উষ্ণতাকে লঘিষ্ট উষ্ণতা বলে । ভোর 4 টায় ও সকাল 8:30 মিনিটে সর্বনিম্ন উষ্ণতার পাঠ নেওয়া হয় ।

    1. গড় দৈনিক উষ্ণতা : একটি নির্দিষ্ট স্থানে সারাদিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উষ্ণতাকে যোগ করে 2 দিয়ে ভাগ করলে প্রাপ্ত ভাগফলকে সেই স্থানের সেই দিনের গড় দৈনিক উষ্ণতা বলে ।

    সূত্র :– গড় দৈনিক উষ্ণতা = (দিনের সর্বোচ্চ উষ্ণতা + সর্বনিম্ন উষ্ণতা) ÷ 2

    1. গড় মাসিক উষ্ণতা : একটি নির্দিষ্ট স্থানে একটি মাসের প্রতিদিনের গড় দৈনিক উষ্ণতাকে যোগ করে ওই মাসের দিন সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রাপ্ত ভাগফলকে গড় মাসিক উষ্ণতা বলে ।

    সূত্র : গড় মাসিক উষ্ণতা = (1 তারিখের গড় উষ্ণতা + … + … + শেষ তারিখের গড় উষ্ণতা) ÷ মাসের মোট দিন সংখ্যা ।

    1. গড় বার্ষিক উষ্ণতা : একটি নির্দিষ্ট স্থানে একটি বছরের 12 টি মাসের গড় মাসিক উষ্ণতাকে যোগ করে 12 দিয়ে ভাগ করে প্রাপ্ত ভাগফলকে গড় বার্ষিক উষ্ণতা বলে । ক্রান্তীয় উষ্ণ মরু অঞ্চলে গড় বার্ষিক উষ্ণতা সর্বোচ্চ ও মেরু অঞ্চলে সর্বনিম্ন হয় ।

    সূত্র : গড় বার্ষিক উষ্ণতা = (জাঃ গড় উষ্ণতা + ডিঃ গড় উষ্ণতা) ÷ 12

    1. উষ্ণতার প্রসার : একটি নির্দিষ্ট স্থানে দিন বা মাস বা বছরের সর্বোচ্চ উষ্ণতা থেকে সর্বনিম্ন উষ্ণতা বিয়োগ করে প্রাপ্ত বিয়োগফল বা উষ্ণতার পার্থক্যকে উষ্ণতার প্রসার বলে । মরু অঞ্চলে সর্বোচ্চ এবং নিরক্ষীয় অঞ্চলে সর্বনিম্ন হয় ।

    প্রকার : এটি 3 ভাবে পরিমাপ করা হয় । যথা –

    i) দৈনিক উষ্ণতার প্রসার :- একটি নির্দিষ্ট স্থানে একটি দিনের সর্বোচ্চ উষ্ণতা থেকে সর্বনিম্ন উষ্ণতা বিয়োগ করে প্রাপ্ত বিয়োগফল বা উষ্ণতার পার্থক্যকে দৈনিক উষ্ণতার প্রসার বলে ।

    ii) মাসিক উষ্ণতার প্রসার :- একটি নির্দিষ্ট স্থানে একটি মাসের সর্বোচ্চ উষ্ণতা থেকে সর্বনিম্ন উষ্ণতা বিয়োগ করে প্রাপ্ত বিয়োগফল বা উষ্ণতার পার্থক্যকে মাসিক উষ্ণতার প্রসার বলে ।

    iii) বার্ষিক উষ্ণতার প্রসার :- একটি নির্দিষ্ট স্থানে একটি বছরের সর্বোচ্চ উষ্ণতা থেকে সর্বনিম্ন উষ্ণতা বিয়োগ করে প্রাপ্ত বিয়োগফল বা উষ্ণতার পার্থক্যকে বার্ষিক উষ্ণতারপ্রসার বলে ।

    1. বৈপরিত্য উত্তাপ : কিছু ক্ষেত্রে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উষ্ণতা হ্রাস না পেয়ে বৃদ্ধি পায় । উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উষ্ণতা হ্রাসের স্বাভাবিক সম্পর্কে বিপরীত অবস্থাকে বৈপরীত্য উত্তাপ বা উষ্ণতার উৎক্রম বলে ।
    2. সামুদ্রিক বায়ু : সমুদ্রের তীরবর্তী অঞ্চলে আর্দ্র ও মৃদু ভাবাপন্ন জলবায়ুকে সামুদ্রিক বায়ু বলে ।

    যেমন : ইউরোপের পশ্চিম উপকূলীয় সামুদ্রিক জলবায়ু ।

    1. মহাদেশীয় জলবায়ু : সমুদ্র থেকে দূরে দেশ বা মহাদেশে অভ্যন্তরীণ স্থলভাগে শুষ্ক ও চরমভাবাপন্ন জলবায়ুকে মহাদেশীয় জলবায়ু বলে ।

    যেমন- মধ্য এশিয়া, যুক্ত রাষ্ট্রের মধ্য পশ্চিমাংশের জলবায়ু ।

    11.সমউষ্ণ রেখা কাকে বলে ?এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ ?

    উঃ – সমোষ্ণরেখা :- ভূপৃষ্টের একই বা সমান সমুদ্র পৃষ্ঠ উষ্ণতাযুক্ত স্থানগুলিকে মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয়, তাকে সমোষ্ণরেখা বা আইসোথার্ম (Isotherm) বলে । সুতরাং, সমোষ্ণরেখা হল সমান উষ্ণতা নির্দেশক কাল্পনিক রেখা ।

    বৈশিষ্ট্য :-

    i) বিস্তার – সমোষ্ণরেখাগুলি অক্ষরেখার সঙ্গে প্রায় সমান্তরালে পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃত । কারণ একই অক্ষাংশে সূর্যরশ্মির তাপীয় ফল সমান ।

    ii) বক্রতা – সমুদ্রের জলভাগে রেখাগুলি পরস্পরের সমান্তরাল । কিন্তু স্থলভাগে কিছুটা আঁকাবাঁকা হয় । উত্তর গোলার্ধে জল থেকে স্থলে বিস্তারের সময় দক্ষিণ দিকে এবং স্থল থেকে জলে উত্তরদিকে কিছুটা বক্র হয় । কারণ, স্থল ও জলের উষ্ণতার পার্থক্য ও সমুদ্রস্রোতের প্রভাব । দক্ষিণ গোলার্ধের চেয়ে উত্তর গোলার্ধে এই বক্রতা বেশি ।

    iii) মান – নিন্ম অক্ষাংশ থেকে উচ্চ অক্ষাংশের দিকে রেখাগুলির মান ক্রমশ হ্রাস পায় । সূর্যরশ্মির তাপীয় ফল সর্বাধিক হওয়ায় নিরক্ষরেখায় এর মান সবচেয়ে বেশি এবং মেরুতে এর মান সবচেয়ে কম ।

    iv) ব্যবধান – জলভাগের আধিক্যের জন্য দক্ষিণ গোলার্ধে রেখাগুলির মধ্যে ফাঁক বেশি থাকে । স্থলভাগের প্রাধান্যের জন্য উত্তর গোলার্ধে রেখাগুলি খুব ঘনভাবে অবস্থান করে ।

    1. পৃথিবীর তাপবলয়কে কয়ভাগে ভাগ করা হয় ? ব্যাখ্যা কর

    উঃ –

    চিত্র :- পৃথিবীর তাপবলয়

    প্রকারভেদ : পৃথিবীপৃষ্ঠে পড়া সৌরতাপের তারতম্য অনুসারে পৃথিবীকে প্রধান পাঁচটি তাপমন্ডলে ভাগ করা যায়, যথা :-

    i) উষ্ণমণ্ডল :- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে অবস্থিত কর্কটক্রান্তি রেখা ও মকরক্রান্তি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে প্রায় সারাবছর ধরেই সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে বলে এই অঞ্চলের উষ্ণতা পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে অনেক বেশি, তাই একে উষ্ণমণ্ডল বলে ।

    ii) উত্তর ও দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল :- উত্তর গোলার্ধে কর্কটক্রান্তি রেখা ও সুমেরু বৃত্তের মধ্যবর্তী অঞ্চলে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে মকরক্রান্তি রেখা ও কুমেরু বৃত্তের মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যরশ্মি খুব একটা লম্বভাবে পড়ে না । তাই এই দুই অঞ্চলে গ্রীষ্মকাল খুব একটা উষ্ণ বা শীতকাল খুব একটা শীতল হয় না । এই জন্য উত্তর গোলার্ধের এই অঞ্চলকে উত্তর নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল বলা হয় এবং দক্ষিণ গোলার্ধে একে দক্ষিন নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল বলা হয়।

    iii) উত্তর ও দক্ষিণ হিমমণ্ডল :- সুমেরু ও কুমেরুর চারিদিকে 66 (1/2)°  অক্ষাংশ পর্যন্ত সমস্ত জায়গায় সূর্যের পতন কোন বছরের সবসময় 43° -এর বেশি থাকে । সূর্যরশ্মি সারাবছর সবচেয়ে তির্যকভাবে পড়ে বলে এই অঞ্চলে দুটি ভয়ংকর শীতল । উত্তর গোলার্ধের সুমেরু বিন্দু এবং সুমেরু বৃত্তের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে উত্তর হিমমণ্ডল বলে । দক্ষিণ গোলার্ধের কুমেরু বিন্দু ও কুমেরু বৃত্তের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে দক্ষিণ হিমমণ্ডল বলে ।

    1. সবুজ ঘর কাকে বলে ?

    উঃ – শীতপ্রধান দেশে যেখানে সারাবছর ধরে বায়ুর উষ্ণতা হিমাঙ্কের কাছাকাছি সেখানে উষ্ণমণ্ডলীয় ফুল, ফল, সবজি চাষের জন্য বাগানে স্বচ্ছ কাঁচ বা পলিথিনের দেওয়াল ও ছাউনিযুক্ত যে আবদ্ধ ও উষ্ণতার কক্ষ তৈরি করা হয়, তাকে Green House বলে ।

    1. সবুজ ঘর প্রভাব কাকে বলে ?

    উঃ – বায়ুদূষণের ফলে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির বিশেষত CO2 এর ঘনত্ব বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বৃদ্ধির ঘটনাকে Green House Effect বলে ।

    1827 সালে বিজ্ঞানী বাপটিস্ট জোসেফ ফুরিয়ার সর্বপ্রথম Green House Effect নাম করন করেন।

    1. বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব বা ফলাফল লেখ

    উঃ – বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব : ক্রমবর্ধমান হারে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি নির্গত হওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা ক্রমশ বাড়ছে। যেমন – 1850-1990 খ্রিঃ মধ্যে বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা 1°C বেড়েছে । গ্লোবাল ওয়ার্মিং -এর সম্ভাব্য প্রভাবগুলি নিচে আলোচনা করা হল –

    i) মেরু অঞ্চলের বরফের গলন ও পার্বত্য হিমবাহের গলন :- বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে কুমেরু মহাদেশের গভীর পুরু বরফের স্তর এবং অন্যান্য মহাদেশীয় ও পার্বত্য হিমবাহ খুব দ্রুত গলতে থাকবে এবং বরফ গলা জল সমুদ্রে যুক্ত হয়ে সমুদ্রের জলের পরিমানকে আরও বাড়িয়ে দেবে ।

    ii) সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি :- বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে মেরু ও উঁচু পার্বত্য অঞ্চলের বরফ বেশি পরিমানে গলবে এবং সমুদ্র জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে । বিগত শতাব্দীতে 1.5°C তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সমুদ্র জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় 10-12 সেমি ।

    iii) অধঃক্ষেপনের প্রকৃতি পরিবর্তন :- বায়ুমণ্ডলীয় উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলবায়ুগত পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী । বৃষ্টিপাতের বন্টনে সামগ্রিক পরিবর্তন ঘটবে । উত্তর গোলার্ধের উত্তর দিকের দেশগুলিতে অতিবৃষ্টি এবং দক্ষিণ দিকের দেশগুলিতে খরার প্রকোপ বাড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে ।

    iv) শস্য উৎপাদনের হ্রাসবৃদ্ধি :- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে ঋতুগুলির সময়সীমা বৃদ্ধি পাবে, ফলে কৃষি পন্যের উৎপাদন হ্রাস পাবে । এছাড়া তাপমাত্রা বাড়লে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষের হার বাড়ে । এই কারনে ভুট্টা, আম, জোয়ার, বাজরা প্রভৃতি ফসলের উৎপাদন বাড়লেও ধান, গম, ওট, বার্লি, সয়াবিন, তামাক, তুলো, পাট প্রভৃতি ফসলের উৎপাদন কমে যাবে ।

    v) কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তন :- বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কৃষি ক্ষেত্রের স্থান পরিবর্তন ঘটবে এবং কৃষিজমির পরিমান 10% – 50% কমে যাবে । উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যেসব অঞ্চলে গম চাষ হত, উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সেসব অঞ্চলে গমের পরিবর্তে অন্য শস্যের চাষ হচ্ছে ।

    1. এল নিনো ঘটনা কাকে বলে ?

    উঃ – বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জল উষ্ণ হয়ে উঠলে যে নিম্নচাপ তৈরি হয় তা আয়ন বায়ুপ্রবাহকে দুর্বল করে এবং এইভাবে দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় । অন্যদিকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে স্বাভাবিকের থেকে বেশি শীতল আবহাওয়া সৃষ্টি হয়, একে এল নিনো ঘটনা বলে ।

    • বায়ুমন্ডলের স্তর বিন্যাসের সংক্ষিপ্ত পরিচয় :

     স্তরের নাম

    অবস্থান বিস্তার

    বৈশিষ্ট্য

     ট্রপোস্ফিয়ার বা ক্ষুব্ধমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের একেবারে নিচে ।

    1000 feet – 3.6° F

    8-18 km

    গড়ে 12 km

    i) উষ্ণতা 1000 মিটার বা 1 km তে 6.5°C হারে কমতে থাকে একে সাধারন তাপ হ্রাস (Normal Lapse Rate) বা Enviromental Lapse Rate বলে।

    ii) এর উর্ধ্বে বা শেষে উচ্চতা -55°C থেকে 66°C হয় ।

    iii) বায়ুমণ্ডলের 75% ভর পাওয়া যায় ।

    iv) এখানে বায়ুমণ্ডলীয় সব কার্য হয়ে থাকে ।

    v) ট্রপোপজ এর কাছে বায়ু স্থির থাকে বলে একে Isothermal Zone বা সমোষ্ণ অঞ্চল বলে ।

    vi) এই স্তর কে ঢাকমিও বলা হয়।

     স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার বা শান্তমণ্ডল  ট্রপোস্ফিয়ার এর উর্ধের স্তর 273°K/0°C 12-50 km

    (15 – 35 O3গ্যাস)

     i) এই স্তরে 24-40 km এর মধ্যে ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব বেশি থাকায় একে ওজোনোস্ফিয়ার বলে ।

    ii) মেরু অঞ্চলে নিম্ন স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার বরফের কেলাস দিয়ে গঠিত ‘শুক্তির জননী মেঘ’ নামে একপ্রকার মেঘ দেখা যায় ।

    iii) এই অঞ্চলে গোধুলির আলো পৌছায় না বলে একে বলে ঊর্ধাকাশ ।

    iv) এই স্তর -এ বায়ুর উষ্ণতা বাড়তে থাকে এবং শেষে 0°C – 4°C -এ পৌছায় ।

    v) সিরাস মেঘ দেখা যায় ।

     মেসোস্ফিয়ার বা মধ্যমণ্ডল

    শীতলতম স্তর

        

    স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার এর উপরের স্তর 50-80 km  i) এই স্তরে উষ্ণতা কমতে থাকে 80 km উচ্চতায় 90°C থেকে 100°C হয় ।

    ii) উজ্জ্বল মেঘ দেখা যায় ।

    iii) এখানে উল্কাপিন্ড পুড়ে ছাই হয়ে যায় ।

    iv) 30-60 km তে O3 গ্যাস দেখা যায় বলে একে ওজোনোস্ফিয়ার বলে ।

    v) এটি সমমণ্ডলের শেষ সীমা ।

    vi) অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করে ।

    থার্মোস্ফিয়ার বা আয়োনোস্ফিয়ার মেসোস্ফিয়ার এর উপরের স্তর 80-600 km  i) ধনাত্বক ও ঋনাত্বক তড়িৎগ্রস্থ কনা বা আয়ন থাকায় একে আয়নোস্ফিয়ার বলে ।

    ii) 90-160 km কে কেনেলি – হেভিসাইড স্তর বলে ।

    iii) এই স্তরে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় ।

    iv) সুমেরু ও কুমেরু প্রভা মেরুজ্যোতি দেখা যায় ।

    v) 200km তে 700°C এবং সবশেষে 1200°C হয় ।

    vi) x-ray শোষণ করে ।

    vii) 480 km তে তাপ বাড়েও না কমেও না তাই একে সমতাপ অঞ্চল বলে ।

    viii) 150-380 km স্তরের F স্তর কে অ্যাপেলের স্তর বলে । (1947 সালে এডওয়ার্ড অ্যাপেলটন)

     এক্সোস্ফিয়ার বা বহিঃমণ্ডল

    উষ্ণতম স্তর

    থার্মোস্ফিয়ারের উপরের স্তর 600-1500 km i) এই স্তরের উষ্ণতা 1200°C – 1600°C

    ii) বায়বীয় কনাগুলি মহাশূন্যে বিলিন হয়ে যায় ।

    iii) কৃত্রিম উপগ্রহের কক্ষপথ ।

    ম্যাগনেটোস্ফিয়ার বা চৌম্বকমণ্ডল  এক্সোস্ফিয়ারের পরবর্তী স্তর 1500- 10000km  i) বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ যে স্তরে চৌম্বকক্ষেত্র তাকে ম্যাগনেটোস্ফিয়ার বলে । যে অংশে পার্থিব চৌম্বকক্ষেত্র থেমে যায় তাকে ম্যাগনেটোপজ বলে ।

    ii) এই স্তরকে ভ্যান অ্যালেন বিকিরন বলয় বলে । (দুটি ঘন বলয়যুক্ত ম্যাগনেটোপজকে)

     

  • বায়ুমণ্ডলের ধারণা উপাদান ও স্তর বিন্যাস (অধ্যায় ২.১)

    বায়ুমণ্ডলের ধারণা উপাদান ও স্তর বিন্যাস

    1. বায়ুতে অক্সিজেনের পরিমান – 20.946%

    বায়ুতে গ্যাসের পরিমাণ :

    গ্যাস

    সংকেত

    পরিমান

    নাইট্রোজেন N2 78.084%
    আর্গন Ar 0.934%
    কার্বন ডাই অক্সাইড Co2 0.033%
    নিস্ক্রিয় গ্যাস সমূহ 0.003%
    নিয়ন Ne 0.0018%
    হিলিয়াম He 0.0005%
    ক্রিপ্টন Kr 0.0001%
    জেনন Xe 0.0005%
    1. সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণকারী গ্যাস : ওজন গ্যাস ।
    2. ওজন গ্যাসের আবিষ্কারক :– জার্মান রসায়নবিদ সি. এফ. স্কনবি ।
    3. বায়ুমণ্ডলের ক্ষুব্ধমণ্ডল :- ট্রপোস্ফিয়ার ।
    4. বায়ুমণ্ডলের শান্তমণ্ডল :– স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার ।
    5. বায়ুমণ্ডলের ঊর্ধ্বতম স্তর :– ম্যাগনেটোস্ফিয়ার ।
    6. বায়ুর উষ্ণতা মাপক যন্ত্র : থার্মোমিটার ।
    7. বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রধান কারন :– গ্রীন হাউস গ্যাস বৃদ্ধি ।
    8. এলনিনো শব্দের অর্থ :– শিশুখ্রিস্ট ।
    9. ব্যারোমিটার যন্ত্রের আবিষ্কারক :– টরিসেলি ।
    10. বায়ুপ্রবাহের দিক নির্নায়ক যন্ত্র :– বাতপতাকা ।
    11. বায়ুচাপ পরিমাপক যন্ত্র :– ব্যারোমিটার ।
    12. বায়ুর গতিবেগ মাপক যন্ত্র :– অ্যানিমোমিটার ।
    13. বৃষ্টিপাত মাপক যন্ত্র :– রেনগজ ।
    14. বায়ুর দিক বিক্ষেপকারী বল : কোরিওলিস বল ।
    15. সমান উষ্ণতা বিশিষ্ট রেখা :– সম উষ্ণ রেখা ।
    16. সমান বৃষ্টিপাত যুক্ত রেখা :– সমবর্ষণ রেখা ।
    17. সমান চাপবিশিষ্ট রেখা :– সমপ্রেষ রেখা ।
    18. সমুদ্র বায়ু স্থল বায়ুর বৃহৎ সংস্করণ : মৌসুমি বায়ু ।
    19. ওজন গ্যাসের ঘনত্ব পরিমাপের একক :– ডবসন একক । (DU) (গর্ডন ডবসন)
    20. ওজনস্তর সংরক্ষনের নাম :– মন্ট্রিল প্রটোকল ।
    21. বিশ্ব ওজনস্তর সুরক্ষা দিবস :– 16 সেপ্টেম্বর ।
    22. পৃথিবীর গড় উষ্ণতা :– 15°C
    23. গ্রিন হাউস গ্যাস উৎপাদনে প্রথম :– চিন ।
    24. গ্রিন হাউস গ্যাস বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণ :– কিয়োটা প্রোটকল ।
    25. সর্বোচ্চ বায়ুচাপ : 1075 মিলিবার, ইর খুটকস, রাশিয়া, 1493 সাল ।
    26. সমুদ্র পৃষ্ঠে বায়ুচাপ :– 1013.25 মিলিবার বা হেক্টো পাস্কাল ।
    27. বিউফোর্ট স্কেল : বায়ুর শক্তির মাত্রা নির্নয়ের স্কেল।
    28. Knot (নট) :বায়ুর গতিবেগের একক হল knot.
      1 Knot = 1.877 Km/hr.
    1. বায়ুর আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র :– হাইগ্রোমিটার ।
      (1783 খ্রিস্টাব্দে হেরেস বেনেডিক্ট ডিসসুর)
    1. বায়ুমণ্ডলের ওজন গ্যাস ঘনীভূত হয় :– স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে ।
    2. ট্রপোস্ফিয়ারের প্রতি হাজার মিটার উচ্চতায় উষ্ণতা কমে :– 1°C
    3. হিমাঙ্ক :– নির্দিষ্ট চাপে যে উষ্ণতায় জল ঘনীভূত হয়ে বরফে পরিনত হয়, তাকে হিমাঙ্ক বলে । এর পরিমান 0°C
    4. স্থায়ী গ্যাসীয় উপাদান : যে সমস্ত গ্যাসীয় উপাদান বাতাসের সম অনুপাতে সর্বদা উপস্থিত থাকে, তাকে স্থায়ী গ্যাসীয় উপাদান বলে ।
      যেমন : N2, O2, H2, Ne, Xe, Kr, He.
    1. অস্থায়ী উপাদান : যে সমস্ত গ্যাসীয় উপাদান সময় ও স্থান বিশেষে পরিবর্তিত হয়, তাকে অস্থায়ী উপাদান বলে ।
      যেমন :- জলীয় বাষ্প, CO2 ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস ।
    2. বায়ুমণ্ডল কাকে বলে ?

    উঃ – ভূ-পৃষ্ঠের যে অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরন, অতি সূক্ষ ধূলিকনা ও জলীয় বাষ্প পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে । পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর গায়ে লেগে আছে এবং পৃথিবীর সাথে আবর্তিত হচ্ছে ।

    1. এরোসল কাকে বলে ?

    উঃ – ধূলিকনা বা এরোসল হল মরু অঞ্চল বা সমুদ্র তীরের অতি সূক্ষ ধূলোবালি ও লবন কনা, পোড়া কয়লার ছাই, আগ্নেয় গিরির ছাই, ভস্মের মিশ্রন যা বায়ুমন্ডলের নীচের স্তরে ভেসে বেড়ায় ।

    1. গ্রীনহাউস গ্যাসের নামগুলি লেখ

    উঃ – বায়ুমণ্ডলের গ্রীনহাউস গ্যাসগুলি হল – CO2, কার্বন মনোক্সাইড ( CO), CH4, নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), CFC, জলীয় বাষ্প (H2O) ইত্যাদি ।

    1. বায়ুমণ্ডলের স্তর বিন্যাস দেখাও

    উঃ – বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস –

    1. SPM কী ?

    উঃ – SPM এর পুরো অর্থ হল- Sus Pended Particulate Matters, বায়ুতে ভাসমান কঠিন ও তরল সূক্ষ বস্তু কনা যথা – ধূলো, বালি, জলকনাকে SPM বলে ।

    1. ওজন কী ?

    উঃ – ইংরেজি Ozone শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Ozo (বিশেষ গন্ধ) থেকে । বায়ুতে অক্সিজেন গ্যাসের তিনটি পরমানুর আইসোটোপ যুক্ত হালকা নীল রঙের উগ্র আঁশটে গন্ধযুক্ত বিষাক্ত গ্যাসকে ওজন বলে । 1840 সালে সুইস রসায়নবিদ ক্রিশ্চিয়ান ফেডরিক স্কোনবি ওজন গ্যাস আবিষ্কার করেন ।

    1. ওজন গহ্বর কী ?

    উঃ – বায়ু দূষণের ফলে স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ওজন গ্যাস ধ্বংস হয়ে ওজন গ্যাসের ঘনত্ব 200 Du -এর কম হলে ওজন স্তর ক্রমশ খুবই পাতলা হয় এবং সেখান থেকে অতিবেগুনি রশ্মি প্রবেশ করে, একে ওজন গহ্বর বলে।

    1. ডবসন একক (Dobson Unit ) কী ?

    উঃ – ওজন গ্যাসের ঘনত্ব পরিমাপে ব্রিটিশ পদার্থবিদ গর্ডন ডবসনের নামানুসারে ডবসন একক ( Du ) ব্যাবহৃত হয় ।

    1. অ্যাডভেকশন কী ?

    উঃ – ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে অনুভূমিক বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালন প্রক্রিয়াকে অ্যাডভেকশন বলে ।

    1. বায়ুমণ্ডলের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব লেখ ?

    উঃ – বায়ুমণ্ডলের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব :-

    i) বায়ুমন্ডল আছে বলেই পৃথিবীতে উদ্ভিদ, প্রানী, মানুষ আছে । বায়ুমণ্ডল ছাড়া প্রানের অস্তিত্ব সম্ভব নয় ।

    ii) বায়ুমণ্ডল প্রানীকে O2 ও উদ্ভিদকে CO2 দেয় ।

    iii) বায়ুমণ্ডল অবলোহিত (IR) রশ্মি ও অতি বেগুনি (UV) রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জীবজগৎকে রক্ষা করে ।

    iv) বায়ুমণ্ডল আছে বলে পৃথিবীতে জলচক্র আছে ।

    v) বায়ুমণ্ডল উল্কার আঘাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে ।

    vi) বায়ুর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দানা শষ্য পোষণ করা যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় ।

    1. আয়নোস্ফিয়ারের গুরুত্ব কী ?

    উঃ – আয়নোস্ফিয়ারের গুরুত্ব হল

    i) উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে উষ্ণতা দ্রুত হারে বাড়ে এবং থার্মোস্ফিয়ারের উর্ধ্বে উষ্ণতা হয় 1200°C এর বেশি ।

    ii) বায়ুর ঘনত্ব খুবই কম ।

    iii) অতিবেগুনি ও রঞ্জন রশ্মি এই স্তরে শোষিত হয় ।

    iv) বস্তুকনা আয়নিত আছে বলেই বেতার তরঙ্গ এই স্তর থেকে প্রতিফলিত হয় ।

    v) অরোরা বা মেরুপ্রভা এই স্তরে সৃষ্টি হয় ।

    1. মৌক্তিক মেঘ কী ?

    উঃ – শীতকালে আন্টার্কটিকা ঊর্ধ্বাংশে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করে বর্নময় মেঘের সঞ্চার ঘটায় । একেই বলে মৌক্তিক মেঘ ।

    1. নৈশদ্যুতি মেঘ কী ?

    উঃ – মেসোস্ফিয়ারে সৃষ্ট হালকা মেঘকে নৈশদ্যুতি মেঘ বলে ।

    1. ভ্যান অ্যালেন বিকিরন বলয় কী ?

    উঃ – নিরক্ষীয় অঞ্চলের দুটি ম্যাগনেটোপজ বলয়কে ভ্যান অ্যালেন বিকিরন বলয় বলে ।

    1. সমতাপ অঞ্চল কাকে বলে ?

    উঃ – ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বে প্রায় 3 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত অংশে উষ্ণতার হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে না । উচ্চতা বৃদ্ধি পেলেও উষ্ণতা অপরিবর্তিত থাকে বলেই একে সমতাপ অঞ্চল বলে ।

    1. ওজন স্তর বিন্যাসের কারনগুলি লেখ ?

    উঃ – ওজন স্তর প্রাকৃতিক কারনে ও মানুষের নানবিধ কাজের জন্যে ধ্বংস হয়, যেমন-

    i) ক্লোরিনের অভাব :- ক্লোরিন ওজন গ্যাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ওজোনকে ধ্বংস করে । তাই মানুষের তৈরি ক্লোরিন যৌগ- CFC ওজোনস্তরের পক্ষে ক্ষতিকর । CFC এর বানিজ্যিক নাম হল ফ্রেয়ন গ্যাস ।

    ii) N2 ও SO4 -এর প্রভাব :- জেট বিমান আকাশে নাইট্রোজেন অক্সাইড ও সালফারের অক্সাইড ও সালফারের অক্সাইড ত্যাগ করে । এগুলিও ওজোনস্তরের ক্ষতি করে ।

    1. বায়ুর উষ্ণতা বায়ুমন্ডলে আগত সূর্য রশ্মির তাপের তীব্রতার পরিমাপকে বায়ুর উষ্ণতা বা তাপমাত্রা বলে ।
    2. সূর্য রশ্মির তাপীয় ফল বা Insolation – সূর্য থেকে বিকিরিত তাপ শক্তি যে অতি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ ক্ষুদ্র তড়িৎ চুম্বক তরঙ্গ বা আলোক তরঙ্গ (6000°C থেকে 1/200) পৃথিবীতে পৌঁছে ভূপৃষ্ট ও বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত করে । তাকে সূর্য রশ্মির তাপীয় ফল বা Insolation বলে । এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য < 0.4 মাইক্রোন । সৌর ধ্রুবকের পরিমান 1.94 ক্যালোরি/বর্গকিমি ।
    3. বায়ুমণ্ডলের নিয়ন্ত্রক : স্থান ও ঋতুভেদে Insolation এর পার্থক্য সৃষ্টিতে নিয়ন্ত্রকগুলি হল-
      i) সৌর রশ্মির পতন কোন,
      ii) সৌর বিকিরনের সময়কাল,
      iii) সৌর ধ্রুবক,
      iv) পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে দূরত্ব,
      v)
      বায়ুমন্ডলের স্বচ্ছতা ।
    4. তাপ বাজেট : সূর্য থেকে আগত সৌর বিকিরন ও পৃথিবীতে তার তাপীয় ফলের যে নির্দিষ্ট হিসেব তাকে তাপ বাজেট বলে ।
    5. অ্যালবেডো : সূর্য থেকে আগত 100% Insolation এর মধ্যে যে 34% বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত মেঘ, এরোসল, বায়ুর অনু, বায়ুমণ্ডল ও ভূপৃষ্ঠ দ্বারা বিচ্ছুরিত ও প্রতিফলিত হয়ে ক্ষুদ্র তরঙ্গ রুপে সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায় এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে না, তাকে পৃথিবীর নিষ্ক্রিয় সৌর তাপ বা অ্যালবেডো বলে ।
    6. কার্যকরী সৌর বিকিরন : সূর্য থেকে আগত 100% Insolation এর মধ্যে যে 66% বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে, তাকে পৃথিবীর কার্যকরী সৌর বিকিরন বলে ।
    7. তাপ সমতা : সারাবছর ধরে প্রতিদিনই Insolation এর পৃথিবীতে এলেও উষ্ণতা ক্রমযৌগিক ভাবে বাড়ে না । দিনের বেলার ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল যে পরিমান (66%) ক্ষুদ্র তরঙ্গের সূর্য রশ্মি দ্বারা উত্তপ্ত হয় । রাতের বেলায় সমপরিমান তাপ বৃহৎ তরঙ্গ রূপে বিকিরন করে মহাশূন্যে ফিরে গিয়ে পৃথিবীর যে গড় উষ্ণতার সাম্যাবস্থা বিরাজ করে, তাকে পৃথিবীর উত্তাপের সমতা বলে ।
    8. বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতিগুলি আলোচনা কর ?

    উঃ – বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার প্রধানত তিনটি পদ্ধতি দেখা যায় –

    i) বিকিরন :- যে পদ্ধতিতে তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয়, তাকে বিকিরন পদ্ধতি বলে ।

    ii) পরিচলন :- সূর্য থেকে আসা তাপে পৃথিবীপৃষ্ঠের গায়ে লেগে থাকা সবচেয়ে নীচের বায়ুস্তর প্রথমে উত্তপ্ত হয় । এই উষ্ণ বায়ু হালকা হয়ে ওপরে ওঠে আর ওপরের শীতল বায়ু ধীরে ধীরে নীচে নামে । আবার এই শীতল বায়ু গরম হয়ে ওপরের দিকে উঠে যায় । এইভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়- একে পরিচলন পদ্ধতি বলে ।

    iii) পরিবহন :- যে পদ্ধতিতে দুটি বস্তু পরস্পর সংলগ্ন অবস্থায় থাকলে উষ্ণ বস্তু থেকে শীতল বস্তুতে তাপ সঞ্চালিত হয়, তাকে পরিবহন পদ্ধতি বলে ।

  • বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ (অধ্যায় ১)

    বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ

    1. বহির্জাত প্রক্রিয়াসমূহ – অবরোহণ, পর্যায়ান, জৈবিক প্রক্রিয়া ।
    2. অবরোহণ প্রক্রিয়ার পদ্ধতি সমূহ – আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয়, ক্ষয়ীভবন।
    3. অবরোহণ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ভূমিরূপ – জলপ্রপাত, গিরিখাত, ঝুলন্ত উপত্যকা, অপসারণ গর্ত, ইয়ার্দাঙ, জিউগেন ইত্যাদি ।
    4. আরোহণ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ভূমিরূপ – প্লাবন ভূমি, স্বাভাবিক বাঁধ ।
    5. ভূমিরূপ পরিবর্তনকারী শক্তি গুলির মূল উৎস – সৌরশক্তি ।
    6. আরোহণ –যে প্রক্রিয়ায় ক্ষয়জাত পদার্থ ভূপৃষ্ঠের নীচু অংশে সঞ্চিত হয়, তাকে বলা হয় আরোহণ । ­
    1. নগ্নীভবন – আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় ও ক্ষয়ী ভবনকে একত্রে নগ্নীভবন বলে ।
    1. রেগোলিথ – আবহবিকারের ফলে সৃষ্ট শিথীল শিলাচূর্ণ গঠিত স্তরকে বলে রেগোলিথ ।
    2. ক্ষয়সীমা – ক্ষয়কারী শক্তিগুলি ভূপৃষ্ঠের নীচে যতটা পর্যন্ত ক্ষয় করতে পারে, তাকে বলে ক্ষয়সীমা ।
    3. বীচূর্ণীভবন – আবহবিকারের মাধ্যমে শিলার বিয়োজন ও ভাঙনকে বিচূর্ণীভবন বলে ।
    4. পুঞ্জিত ক্ষয় বা পুঞ্জ ক্ষয় – আবহবিকারজাত পদার্থ সমেত অন্যান পদার্থ সমূহ যখন ভূমির ঢাল বরাবর অভিকর্ষের টানে নীচের দিকে নেমে আসে, তখন তাকে পুঞ্জিত ক্ষয় বা পুঞ্জ ক্ষয় বলে ।
    5. বহির্জাত প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য লেখ ।

    উঃ – বৈশিষ্ট্য :- বহির্জাত প্রক্রিয়ার নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য আছে । যেমন –

    i) বহির্জাত প্রক্রিয়া ভূপৃষ্ঠের ওপরে কাজ করে । ভূ-অভ্যন্তরে শিলার মধ্যে বহির্জাত প্রক্রিয়া কাজ করে না ।

    ii) বহির্জাত প্রক্রিয়ার উৎস হল নদী, হিমবাহ, সমুদ্র তরঙ্গ, তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত ।

    iii) এই প্রক্রিয়া ভূমি বরাবর বা অনুভূমিক ভাবে কাজ করে  ।

    iv) বহির্জাত প্রক্রিয়ার প্রভাবে ভূমিরূপ গঠিত হয়, যেমন – প্লাবনভূমি, পিরামিড চূড়া, সমুদ্র ভৃগু ইত্যাদি ।

    1. আবহবিকার সম্পর্কে আলোচনা করো ?

    উঃ – আবহবিকার :- আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান বিশেষত আর্দ্র ও উষ্ণতার প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের ওপরে অবস্থিত শিলার নিজ জায়গায় ভাঙন বা বিয়োজনকে আবহবিকার বলে । আবহবিকার শিলাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ ও বিয়োজিত করে বলে একে বিচূর্নীভবনও বলা হয় । আবহবিকার হল মাটি সৃষ্টির প্রধান উপায় । আবহবিকার ক্ষয়কে তরঙ্গায়িত করে । আবহবিকারের ফলে কিছু ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, যেমন –

    i) চুনাপাথর অঞ্চলে টেরারোসা নামে এক ধরণের লাল মাটি,

    ii) পর্বতের শীতল পরিবেশে ফেলসেনমির নামের তীঘ্ন শিলাখন্ড ইত্যাদি ।

    তিনটি পদ্ধতিতে আবহবিকার ঘটে, যেমন –

    a) যান্ত্রিক আবহবিকার, b) রাসায়নিক আবহবিকার, c) জৈব আবহবিকার ।

    a) যান্ত্রিক আবহবিকার – আর্দ্রতা ও উষ্ণতার প্রভাবে এবং শিলা দেহে চাপের তারতম্যের কারণে কোনো রাসায়নিক পরিবর্তন ছাড়া শিলার ভাঙনকে যান্ত্রিক আবহবিকার বলে ।

    b) রাসায়নিক আবহবিকার – বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় উপাদান যেমন – O2, CO2, জলীয় বাষ্প ও বিভিন্ন জৈব উপাদান শিলার খনিজের সঙ্গে বিক্রিয়া করে যে পদ্ধতিতে শিলার খনিজ গঠনকে ভঙ্গুর করে, সেই পদ্ধতিকে রাসায়নিক আবহবিকার বলে ।

    c) জৈব আবহবিকার – জীব সম্প্রদায়ের সাহায্যে ও প্রভাবে যে আবহবিকার ঘটে, তাকে জৈব আবহবিকার বলে ।

    1. পর্যায়ন কাকে বলে ?

    উঃ – পর্যায়ন :- নদী, হিমবাহ, বায়ু, সমুদ্র তরঙ্গ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তি ভূপৃষ্ঠে ভূমিরূপ তৈরি করার জন্য ক্ষয়, পরিবহন ও সঞ্চয়ের কাজে যে সমতা বা সামঞ্জস্য আনে, তাকে পর্যায়ন বলে । পর্যায়ন একটি সমগ্রহ কাজ । এই কাজের তিনটি অংশ আছে, যথা –

    i) ক্ষয় করার কাজ বা ক্ষয়সাধন,

    ii) ক্ষয়জাত পদার্থ সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ বা বহন কারার কাজ বা পরিবহন, এবং

    iii) ক্ষয়জাত পদার্থ সরিয়ে নিয়ে কোথাও জমা করার কাজ বা সঞ্চয় সাধন ।

    • ভৌগলিক K Gilbert (গিলবার্ট) 1876 প্রথম পর্যায়নের ধরনা দেন ।
    1. ক্ষয়সাধন কাকে বলে ?

    উঃ – ক্ষয়সাধন :- নদী, হিমবাহ, বায়ু, সমুদ্র তরঙ্গ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তি যে কাজের দ্বারা ভূপৃষ্ঠের ওপরে কোনো উঁচু জায়গাকে সমতল ভূমিতে পরিণত করে, তাকে ক্ষয়সাধন বলে । ক্ষয়সাধন কে অবরোহনও বলা হয় । ক্ষয়সাধনের ফলে ভূ-পৃষ্ঠের ওপর কোনো স্থানের উচ্চতা কমে । ক্ষয়ের ফলে ভূমির ঢাল, নদীর ঢাল খাড়ায় হয় । নতুন ভূমিরূপ তৈরি হয় ।

    যেমন – ‘V’ আকৃতির নদীখাত, ইয়র্দং ইত্যাদি ।

    1. সঞ্চয় সাধন কাকে বলে ?

    উঃ – সঞ্চয় সাধন :- নদী, হিমবাহ, বায়ু, সমুদ্র তরঙ্গ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তি যে কাজের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের নীচু অংশে ক্ষয়জাত পদার্থকে জমা করে, তাকে সঞ্চয় সাধন বলে । সঞ্চয় সাধনকে আরোহণ বা স্তূপীকরণও বলা হয় । ক্ষয়সাধনের বিপরীত কাজ হল সঞ্চয় সাধন । সঞ্চয়ের ফলে ভূপৃষ্ঠের ওপর কোনো স্থানের উচ্চতা বাড়ে ।

    যেমন – প্লাবণভূমি, বদ্বীপ, বালিয়াড়ি ইত্যাদি ।

    1.1. নদীর বিভিন্ন কাজের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ

    1. পৃথিবীর উচ্চতম জলপ্রপাত হল – ভেনেজুয়েলার অ্যাঞ্জেল ।
    2. ইংরেজি ‘I’ আকৃতির নদী উপত্যকাকে বলে – ক্যানিয়ন ।
    3. অগভীর ‘V’ আকৃতির উপত্যকাকে বলে – গিরিখাত ।
    4. মন্থকূপ সৃষ্টি হয় যার ক্ষয়কার্যের ফলে – নদীর ।
    5. পলল শঙ্কু দেখা যায় – পর্বতের পাদদেশে ।
    6. লবণযুক্ত শিলাস্তরের ওপর নদীর প্রধান ক্ষয় প্রক্রায়াটি হল – দ্রবণ ক্ষয় ।
    7. অবতল পাড়ের দিকে নদী খাতের গভীর অংশ জলপূর্ন হলে তাকে বলে – পুল ।
    8. বহিঃধৌত সমভূমি নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন হলে তাকে বলে – ব্যবচ্ছিন্ন সমভূমি ।
    9. কঠিন শিলাযুক্ত অঞ্চলে কম ঢালযুক্ত ছোটো ছোটো জলপ্রপাতকে বলে – র‍্যাপিড ।
    10. যে প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি ভূপৃষ্টের ওপর কাজ করে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়, তাকে বলে – বহির্জাত প্রক্রিয়া ।
    11. পার্বত্য প্রবাহে নদীর দুই পাশে যে সব সমান বা অসমান ধাপের মতো অল্প বিস্তৃত ভূ-ভাগের সৃষ্টি হয়, তাকে বলে – নদী মঞ্চ ।
    12. নিম্ন ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি পায় – আরোহণ প্রক্রিয়ায় ।
    13. পৃথিবীর একটি অদৃশ্য দ্বীপ হল – ঘোড়ামার ।
    14. পাখির পায়ের মতো আকৃতির বদ্বীপ দেখা যায় – মিসিসিপি মিসৌরি নদীর মোহনায় ।
    15. একটি ধনুকাকৃতি বদ্বীপের উদাহরণ হল – নীলনদের বদ্বীপ ।
    16. দুটি নদী অববাহিকার মধ্যবর্তী উচ্চভূমিকে বলে – জলবিভাজিকা ।
    17. জলপ্রপাতের ঢাল বেশি হলে তাকে বলে – ক্যাটার‍্যাক্ট ।
    18. পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী – নীলনদ ।
    19. পৃথিবীর বৃহত্তম নদী – আমাজন ।
    20. দুটি নদীর মধ্যবর্তী স্থানকে বলে – দোয়াব ।
    21. রাইন নদীর বদ্বীপকে বলে – ক্ষারীয় বদ্বীপ ।
    22. পার্বত্য প্রবাহে নদীর বুকে সৃষ্টি গর্তকে বলা হয় – মন্থকূপ ।
    23. জল্প্রপাতের নীচের গর্তের নাম – প্লাঞ্চপুল ।
    24. আবহবিকারজাত বিচূর্ণভূত শিলার স্থানান্তরণকে বলে – ক্ষয়ীভবন ।
    25. ভূপৃষ্টের উচ্চভূমিভাগের উচ্চতা হ্রাসের প্রক্রিয়াকে বলে –অবরোহণ ।
    26. ভূমির ঢাল বরাবর আলগা মাটি শিলা খন্ডের স্থালনকে বলে – পুঞ্জিত ক্ষয় ।
    27. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ সৃষ্টি হয় – নিম্ন গতিতে ।
    28. কিউসেক – একটি নদীর নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যত ঘনফুট জল প্রবাহিত হয়, তাকে কিউসেক বলে ।
    29. কিউমেক – নদীর একটি নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যত ঘনমিটার জল প্রবাহিত হয়, তাকে কিউমেক বলে ।
    30. কাসকেড – যখন কোনো জলপ্রপাতের জল অজস্র ধারায় বা সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে নীচের দিকে নামে, তাকে বা সেই জলপ্রপাতকে কাসকেড বলে ।

    যেমন – ঝাড়খন্ডের জৌনা জলপ্রপাত ।

    1. গিরিখাত ক্যানিয়নের মধ্যে পার্থক্য লেখ ?

    উঃ – গিরিখাত ও ক্যানিয়নের মধ্যে পার্থক্য :-

    বিষয়

    গিরিখাত

    ক্যানিয়ন

    i) সংজ্ঞা উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকা অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ হলে তাকে গিরিখাত বলে । শুষ্ক অঞ্চলের গভীর ও সংকীর্ণ উপত্যকাকে ক্যানিয়ন বলে ।
    ii) আকৃতি ইংরেজি ‘I’ ও ‘V’ অক্ষরের মতো । ইংরেজি ‘I’ অক্ষরের মতো ।
    iii) অঞ্চল অতি উচ্চ নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চলে গিরিখাত সৃষ্টি হয় । মরুপ্রায় শুষ্ক পার্বত্য অঞ্চল বা উচ্চভূমিতে গড়ে ওঠে ।
    iv) জলবায়ু বৃষ্টি বহুল আর্দ্র জলবায়ুতে গড়ে ওঠে । বৃষ্টি বিরল মরুপ্রায় জলবায়ুতে গড়ে ওঠে ।
    v) প্রক্রিয়া অবঘর্ষ ও ঘর্ষণ প্রক্রিয়ায় নিম্নক্ষয় ও জলপ্রবাহ দ্বারা পাড় ক্ষয় হয়ে গিরিখাত সৃষ্টি হয় । শুষ্ক অঞ্চলে বৃষ্টির অভাবে চিরপ্রবাহী নদী উপত্যকার পার্শ্বক্ষয় ঘটে না । কিন্তু নিম্ন- ক্ষয় বেশি হয় বলে গভীরতা বেড়ে যায় ।
    vi) উদাহরণ দক্ষিণ আমেরিকার পেরুর এল ক্যানন দ্য কলকা পৃথিবীর গভীরতম গিরিখাত । আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো নদীর গ্রান্ড ক্যানিয়ন পৃথিবীর গভীরতম ক্যানিয়ন ।
    1. উচ্চগতি বা পার্বত্যপ্রবাহে নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপগুলির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দাও ।

    উঃ – উচ্চগতি বা পার্বত্যপ্রবাহে নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপগুলি হল –

    i) ‘V’ আকৃতির উপত্যকা :- নদীর অল্প-পার্শ্বক্ষয় ও গভীর নিম্নক্ষয়ের কারণে পার্বত্য প্রবাহে বা উচ্চগতিতে ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো যে সংকীর্ণ উপত্যকার সৃষ্টি হয়, তাকে ‘V’ আকৃতির উপত্যকা বলে । এটি নদীর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ ।

    যেমন – হিমালয়ের ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু; অলকাননন্দের ‘V’আকৃতির উপত্যকা ।

    চিত্র – ‘V’ আকৃতির উপত্যকা

    ii) গিরিখাত :- গিরিখাত একটি গভীর ও সংকীর্ণ ‘V’ আকৃতির উপত্যকা । বৃষ্টিবহুল আর্দ্র অঞ্চলে নদীখাতে পার্শ্বক্ষয়ের চেয়ে নিম্নক্ষয় বেশি হলে, গিরিখাত তৈরি হয় । গিরিখাতে কয়েকটি ছোট ছোট উপনদী এসে মিলিত হতে পারে ।

    যেমন –গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্রের গিরিখাত ।

    চিত্র – গিরিখাত

    iii) ক্যানিয়ন :- কঠিন শিলায় গঠিত শুষ্ক পার্বত্য অঞ্চলে নদী প্রবাহিত হলে নদী অত্যন্ত সংকীর্ণ ও গভীর উপত্যকা গঠন করে । এই রূপ গিরিখাতকেই শুষ্ক অঞ্চলে ক্যানিয়ন বলে ।

    যেমন – কলরাডো নদীর গ্রান্ড ক্যানিয়ন পৃথিবীর বিখ্যাত ক্যানিয়ন ।

    চিত্র – ক্যানিয়ন

    iv) শৃঙ্খলিত শৈলশিরা বা আবদ্ধ শৈলশিরা :- পার্বত্য অঞ্চলে হঠাৎ নদীর উচ্চগতিতে পাহাড় বা পর্বতের অভিক্ষিপ্তাংশগুলি বিপরীত দিক থেকে নদীখাতের দিকে ঢালু হয়ে পরস্পরের মুখোমুখি ঢুকে যায় ও আঁকাবাঁকা উপত্যকা তৈরি করে । একে শৃঙ্খলিত শৈলশিরা বলে । এখানে নদীখাত ‘V’ আকৃতির হয় । এগুলি কুমিরের দাঁতের মতো দেখতে লাগে ।

    চিত্র – শৃঙ্খলিত শৈলশিরা

    v) জলপ্রপাত :- নদীর প্রবাহ পথে নদীর শিলা পৃষ্টে আকস্মিক উলম্ব পাতনকে জলপ্রপাত বলে । এটি ক্ষয়জাত ভূমিরূপ । নদীর উচ্চগতিতে জলপ্রপাত তৈরি হয় ।

    যেমন – নর্মদা নদীতে কপিলধারা জলপ্রপাত।

    চিত্র – জলপ্রপাত

    vi) মন্থকূপ :- পার্বত্য প্রবাহে নদীপথ অসমান থাকে । সুতরাং, অসমান নদীপথের জল পাক খেতে খেতে অগ্রসর হয় এবং সেই সঙ্গে জলবাহিত নুড়ি, প্রস্তর খন্ডগুলি নদীখাতে মন্থন কার্যের দ্বারা বৃত্তাকার গর্তের সৃষ্টি করে, এইরূপ গর্তকে মন্থকূপ বা পটহোল বলে ।

    অসংখ্য পটহোল একসঙ্গে গড়ে উঠলে তাকে পটহোল কলোনি বলে ।

    যেমন – সুবর্ণরেখা ।

    চিত্র – মন্থকূপ

    vii) প্রপাতকূপ :- জলপ্রপাতের পাদদেশে জলের আঘাতে ও নদীপ্রবাহে ক্ষয়ের ফলে যে কূপের মতো গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রপাতকূপ বা প্লাঞ্চপুল বলে ।

    যেমন- সুবর্ণরেখার ওপর হুড্রু জলপ্রপাতের নীচে প্রপাতকূপ দেখা যায়।

    viii) খরস্রোত :- নদীর প্রবাহ পথে নদীতলে সিঁড়ির মতো পরস্পর একাধিক ধাপ থাকলে, ওই ধাপগুলিতে নদীর গতিবেগ বেড়ে যায়। নদীখাতের এই ধাপবিশিষ্ট অংশকে খরস্রোত বা র‍্যাপিড বলে।

    যেমন – নর্মদা নদীতে অনেক খরস্রোত আছে ।

    চিত্র – খরস্রোত

    1. নদীর সঞ্চয়কার্যে বা নিম্ন গতিতে গঠিত ভূমিরূপ গুলির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দাও ।

    উঃ – নদীর সঞ্চয়কার্যের দ্বারা গঠিত ভূমিরূপগুলি হল –

    i) মিয়েন্ডার :- নদী বাঁক হল ইংরেজি S আকৃতির বাঁক । মধ্য ও নিম্ন প্রবাহে নদী তার প্লাবণভূমির ওপর সাপের মতো আঁকাবাঁকা নদী বাঁক তৈরি করে । তুরস্কের মিয়েন্ডার নদীর নাম অনুসারে নদী বাঁককে মিয়েন্ডার বলে । কারণ মিয়েন্ডার নদীতে প্রচুর নদী বাঁক আছে ।

    চিত্র – মিয়েন্ডার
    ii) খাড়াপাড় :- নদী বাঁকের যে দিকের পাড় নদীর স্রোতের আঘাতে ভাঙে, সেই পাড় ভাঙার দিকে ঢুকে । সেই দিকের পাড়টিকে অবতল বা খাড়াপাড় বলে ।

    iii) ঢালুপাড় :- নদী বাঁকের যে দিকের পাড় নদীর দিকে এগিয়ে যায়, সেই পাড়কে উত্তল বা ঢালু পাড় বলে ।

    চিত্র – খাড়াপাড় ও ঢালুপাড়

    iv) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ :- অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ ক্ষয় ও সঞ্চয়কার্যের মিলিত ভূমিরূপ । নদী যদি খুব এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয় এবং খাড়াপাড় অংশে পার্শ্বক্ষয় এবং মৃদু ঢালু অংশে সঞ্চয় চলতে থাকে তাহলে এক সময় বাঁকের মধ্যবর্তী স্থান সংকীর্ণ হয়ে যুক্ত হয় এবং নদী সোজা পথে চলতে থাকে । এই অবস্থায় ওই পরিত্যক্ত বা বিচ্ছিন্ন অবশিষ্ট বাঁকটি তখন হ্রদের আকারে অবস্থান করে । এই ধরণের হ্রদ দেখতে ঘোড়ার ক্ষুরের মতো বলেই এটিকে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে ।

    যেমন – নদীয়া জেলার কল্যাণীর কাছে ভাগীরথী নদী গতি পরিবর্তন করার ফলে মথুরা বিল ও কুলিয়া বিল নামের দুটি অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ তৈরি হয়েছে ।

    চিত্র – অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ

    v)প্লাবণভূমি :- নদীর নিম্ন ও মধ্য প্রবাহে নদী খাতের দুপাশে অবস্থিত পলিগঠিত সমতল ভূমি যতদূর পর্যন্ত বন্যায় জলমগ্ন হয় এবং বন্যার জলের সাথে বাহিত পলি যতদূর পর্যন্ত এলাকায় সঞ্চিত হয়, সেই নীচু সমতল ভূমিকে প্লাবণভূমি বলে ।

    vi)স্বাভাবিক বাঁধ :- নদীর মধ্য ও নিম্ন প্রবাহের নদীর সমান্তরালে নদী খাতের দুপাশে পলি সঞ্চিত হয়ে যে দীর্ঘ শিরার মতো ভূমিরূপ গড়ে তোলে, তাকে স্বাভাবিক বাঁধ বা লিভি বলে ।

    চিত্র – প্লাবণভূমি ও স্বাভাবিক বাঁধ
    vii)খাঁড়ি :- নদী মোহনায় অবস্থিত, প্রসস্থ, জোয়ার-ভাঁটায় জল তলের পরিবর্তনশীল নদীখাত গুলিকে খাঁড়ি বলে ।

    যেমন – দঃ 24 পরগণার সপ্তমুখী, জামিরা, মাতলা, গোসাবা নদীর খাঁড়ি ।

    viii) বদ্বীপ :- নদীর নিম্ন গতিতে নদীর মোহনায় অবক্ষেপণের ফলে নদী যে মাত্রাহীন ‘ব’ বা গ্রিক অক্ষর ‘’ (ডেল্টা) -এর মতো সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ গড়ে তোলে, তাকে বদ্বীপ বলে ।

    যেমন – গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্রের মিলিত বদ্বীপ ।

    চিত্র – খাঁড়ি ও বদ্বীপ

    1.2. হিমবাহ

    1. পৃথিবীর দীর্ঘতম বৃহত্তম মহাদেশীয় হিমবাহ – অ্যান্টার্কটিকার ল্যাম্বার্ট হিমবাহ ।
    2. পৃথিবীর দ্রুততম হিমবাহ – গ্রীনল্যান্ডের জেকবসভ্যান (দিনে 42 – 46 মিটার) ।
    3. পৃথিবীর মন্থরতম হিমবাহ – অ্যান্টার্কটিকার মোসার্ভ (বছরে 3 – 4 মিটার) ।
    4. পৃথিবীর বৃহত্তম পার্বত্য হিমবাহ – আলাস্কার হুবার্ট ।
    5. পৃথিবীর বৃহত্তম পাদদেশীয় হিমবাহ – আলাস্কার মালাসপিনা ।
    6. ভারতের দীর্ঘতম বৃহত্তম হিমবাহ – সিয়াচেন (75.6 কিমি) ।
    7. পৃথিবীর গভীরতম ফিয়র্ড – নরওয়ের সোজনে ফিয়র্ড ।
    8. ভারতের দীর্ঘতম তথা বৃহত্তম হিমবাহ – কারাকোরাম পর্বতের সিয়াচেন ।
    9. উত্তর গোলার্ধের বৃহত্তম মহাদেশীয় হিমবাহ – গ্রীনল্যান্ডের স্টরস্ট্রম ।
    10. উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম মহাদেশীয় হিমবাহ – গ্রীনল্যান্ডের পিটারম্যান ।
    11. বার্গস্রুন্দ – হিমবাহ ও পর্বত গাত্রের মাঝে সংকীর্ণ ফাঁককে বলে বার্গস্রুন্দ ।
    12. ভ্যালি ট্রেন – হিমবাহ থেকে নিঃসৃত জলস্রোতের মাধ্যমে হিমবাহ উপত্যকায় যে সমস্ত পলি সঞ্চিত হয় তাকে বলে ভ্যালি ট্রেন ।
    13. রসে মতানে – পার্বত্য হিমবাহ ক্ষয়ের ফলে একটি মাত্র শিলাখন্ডের ওপর গঠিত ঢিবির মতো আকৃতি বিশিষ্ট ভূমিরূপকে রসে মতানে বলে ।
    14. প্যার্টানওস্টার হ্রদ – হিমসিঁড়ির বেসিনের মতো অংশে সৃষ্ট হ্রদকে প্যার্টান ওস্টার হ্রদ বলে ।
    15. ভার্ব – কেটল হ্রদের তলদেশে স্তরে স্তরে সঞ্চিত পলিকে ভার্ব বলে ।
    16. ফিয়র্ড – হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্টি হওয়া আংশিক জলময় উপত্যকাকে ফিয়র্ড বলে ।
    17. বোল্ডার ক্লে বা টিল – হিমবাহের সঙ্গে প্রবাহিত পাথরখন্ড ও বালিসহ মিশ্র উপাদানকে একসঙ্গে বোল্ডার ক্লে বা টিল বলে ।
    18. প্রান্ত গ্রাবরেখা – হিমবাহ যেখানে এসে শেষ হয় অর্থাৎ গলে যায়, সেই অংশের গ্রাবরেখাকে প্রান্ত গ্রাবরেখা বলে ।
    19. সার্ক – করি হ্রদকে ফ্রান্সে সার্ক বলে ।
    20. আগামুক – হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে পর্বতের পাদদেশে বড়ো বড়ো প্রস্তরখন্ড সঞ্চিত হয়ে যে ভূমিরূপ গঠিত হয়, তাকে আগামুক বলে ।
    21. নুনাটক – উচ্চ অক্ষ্যাংশে অবস্থিত বরফমুক্ত পর্বতের শিখর দেশগুলিকে নুনাটক বলে ।
    22. লোব – পাদদেশীয় হিমবাহের অগ্রভাগকে লোব বলে ।
    23. হিমরেখা – যে কাল্পনিক সীমারেখার ওপর সারাবছর বরফ জমে থাকে, তাকে হিমরেখা বলে ।
    24. ফার্ণ – জমাটবদ্ধ তুষার কণাকে ফার্ণ বলে ।
    25. ব্লো আউট – হিমবাহ জিভের মতো এগিয়ে গেলে তাকে ব্লো আউট বলে ।
    26. অর্ন্তবর্তী হিমযুগ – দুটি হিমযুগের মধ্যবর্তী সময় কালকে অর্ন্তবর্তী হিমযুগ বলে ।
    27. র‍্যান্ড ক্লাফট কী ?

    উঃ – র‍্যান্ড ক্লাফট :- করি অংশের পিছনের মস্তক দেওয়াল ও হিমবাহের যে ফাঁক তা হল র‍্যান্ড ক্লাফট। হিমবাহের দেওয়াল অংশ তুলনামূলক উষ্ণ বলে হিমবাহ গলে ওই ফাঁক সৃষ্টি হয় ।

    1. হিমসিঁড়ি বা হিমসোপান কাকে বলে ?

    উঃ – হিমসিঁড়ি :- অসম ক্ষয়কার্যের কারণে উপত্যকা বরাবর সিঁড়ি বা ধাপ সৃষ্টি হয় । এই ভূমিরূপ হল হিমসিঁড়ি বা হিমসোপান ।

    1. “Basket of Egg Topography” বলতে কী বোঝ ?

    উঃ – এক সঙ্গে অসংখ্য ড্রামলিন একটা স্থানে গড়ে উঠলে তাকে ঝুড়ি ভরতি ডিমের মতো দেখায়, এই কারণে একে “Basket of Egg Topography” বলে ।

    1. কোন দেশকে “The Land of Fiords” বলা হয় কেন ?

    উঃ – নরওয়েকে “The Land of Fiords” বলা হয় ।

    কারণ নরওয়েতে অসংখ্য জলমগ্ন ফিয়র্ড দেখা যায় ।

    1. হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ গুলির ব্যাখ্যা দাও

    উঃ – হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপগুলি হল –

    i) করি বা সার্ক : উচ্চ পার্বত্য গাত্রে হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত হাতল যুক্ত চেয়ার বা অ্যাম্পিথিয়েটারের মতো আকৃতি বিশিষ্ট ভূমিরূপকে যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে করি, ফ্রান্সে সার্ক, নরওয়েতে বন, ওয়েলেসে -এ কাম, জার্মানিতে কার, স্পেনে হয়ো, ক্যান্ডিনেভিয়াতে কেদল ও বৎন বলে । যথা -আর্ন্টাকটিকা ওয়ালকট সার্ক, বিশ্বের বৃহত্তম ও গভীরতম । করি বা সার্ক -এর তিনটে অংশ থাকে। যথা – a) পেছনে হেডওয়াল, b) মধ্যভাগে বেসিন, c) প্রান্তভাগে থ্রেসহোল্ড । করির মধ্যভাগে বেসিনে বরফগলা জল জমে হ্রদ সৃষ্টি হয় । একে করিহ্রদ বা টার্ন বলে ।

    ii) অ্যারেট বা এরিট : পাশপাশি অবস্থিত দুটি সার্কের মধ্যবর্তী উঁচু, খাড়া ও করাতের দাঁতের মতো খাঁজকাটা তীক্ষ্ণ প্রাচীরকে হিমশিরা বা অ্যারেট বা এরিট বলে ।

    iii) পিরামিড চূড়া :– একটি পার্বত্যশৃঙ্গের দিকে তিন-চারটি সার্ক গঠিত হলে মধ্যবর্তী অংশে পিরামিডের মতো দেখতে খাড়া পার্বত চূড়াকে পিরামিড চূড়া বা হর্ণ বলে ।

    যথা – সুইজারল্যান্ডে ম্যাটারহর্ণ, ভিসহর্ণ, হিমালয়ের নীলকন্ঠ, নেপালে মাকালু ।

    iv) কর্তিত শৈলশিরা : পার্বত্য উপত্যকার উভয়দিক থেকে নেমে আসা ও সম্মুখভাগ উল্লম্বভাগকে কাটা পর্বতের অভিক্ষিপ্তাংশকে কর্তিত শৈলশিরা বা পল কাটা বলে ।

    চিত্র – কর্তিত শৈলশিরা

    v) হিমদ্রোণী বা ‘U’ আকৃতির উপত্যকা : হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে তলদেশ প্রশস্থ ও এবড়োখেবড়ো এবং পার্শবদেশ মসৃণ ও খাড়াই হয়ে ইংরেজি অক্ষর ‘U’ আকৃতি বিশিষ্ট যে উপত্যকা সৃষ্টি হয়, তাকে হিমদ্রোণী বা হিমসিঁড়ি বলে । বরফগলা সারিবদ্ধ হ্রদ গুলিকে প্যান্টার্নস্টার হ্রদ বলে ।

    যথা – যুক্তরাষ্ট্রের ইয়সোমাইট উপত্যকা ।

    চিত্র – U আকৃতির উপত্যকা

    vi) ক্রাগ টেল :হিমবাহ উপত্যকার মধ্যে বৃহৎ ও কঠিন শিলাস্তুপ নরম শিলাকে হিমবাহের ক্ষয় থেকে রক্ষা করে টিলার মতো উঁচু হয়ে থাকে । একে ক্রাগ বলে । পেছনে সরু ও মৃদু ঢালু ল্যাজের মতো দেখতে নরম শিলাকে টেল বলে । ল্যাজটি টিলার সঙ্গে 30-33 কোণে ঢাল সৃষ্টি করে  । ল্যাজটি 2কিমি দীর্ঘ হয়।

    যেমন – স্কটল্যান্ডের রজমল ক্রাগ ।

    চিত্র – ক্রাগ ও টেল

    vii) ঝুলন্ত উপত্যকা :- যখন একটি শাখা হিমবাহ দ্বারা গঠিত হিমদ্রোনী বা ‘U’ আকৃতির উপত্যকা প্রধান হিমবাহ গঠিত উপত্যকার ওপর ভাসমান অবস্থায় থাকে, তখন তাকে ঝুলন্ত উপত্যকা বলে ।

    যেমন – ভারতের গাড়োয়াল হিমালয়ের বদ্রীনাথের কাছে নরপর্বত থেকে নীচের দিকে কুবের নামে এই রকম ঝুলন্ত উপত্যকা হিমবাহ দেখা যায় ।

    চিত্র – ঝুলন্ত উপত্যকা

    viii) রসে মতানে :পার্বত্য হিমবাহের ক্ষয়ের ফলে একটি মাত্র শিলাখন্ডের ওপর গঠিত ঢিবির মতো আকৃতির ভূমিরূপকে রসে মতানে বলে ।

    যেমন – কাশ্মীরের ঝিলাম নদীর উপত্যকাসহ অধিকাংশ হিমবাহ অধ্যুষিত অঞ্চলেই রসে মতানে দেখা যায় ।

    চিত্র – রসে মতানে

    ix) ফিয়র্ড :হিমবাহের ক্ষয় কাজের ফলে সৃষ্টি হওয়া বর্তমানে আংশিক জলমগ্ন উপত্যকাকে ফিয়র্ড বলে ।

    যেমন – ইউরোপ মহাদেশের স্কটল্যান্ড ও নরওয়ের সমুদ্র উপকূল ভাগে অসংখ্য ফিয়র্ড দেখা যায় ।

    চিত্র – ফিয়র্ড

    1. হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপগুলি আলোচনা কর

    উঃ – হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপগুলি হল –

    গ্রাবরেখা :– পার্বত্য অঞ্চল দিয়ে হিমবাহ প্রবাহিত হওয়ার সময় ক্ষয় পাওয়া শিলাখন্ড, নুড়ি, কাঁকড়, বালি প্রভৃতি হিমবাহের সঙ্গে বাহিত হয়ে উপত্যকার বিভিন্ন অংশে সঞ্চিত হয় । সঞ্চিত এইসব শিলাস্তুপকে গ্রাবরেখা বলে ।

    গ্রাবরেখার শ্রেণীবিভাগ :– অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রাবরেখা নানান ধরণের হয় । যেমন –

    a) পার্শ্বগ্রাবরেখা :- হিমবাহের প্রবাহপথের দু-পাশে শিলাস্তূপ প্রাচীরের মতো সঞ্চিত হলে তাকে পার্শ্বগ্রাবরেখা বলে ।

    b) মধ্যগ্রাবরেখা :- দুটি হিমবাহ, দুই দিক থেকে এসে একসঙ্গে মিলিত হলে উভয়ের মধ্যবর্তী অংশে আর একটি গ্রাবরেখার সৃষ্টি হয় একে মধ্যগ্রাবরেখা বলে ।

    চিত্র – গ্রাবরেখা

    c) প্রান্তগ্রাবরেখা :- হিমবাহ যেখানে এসে শেষ হয় অর্থাৎ গলে যায়, সেই অংশের গ্রাবরেখাকে প্রান্ত গ্রাবরেখা বলে ।

    1. হিমবাহ জলধারার মিলিত কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপগুলি আলোচনা কর

    উঃ – হিমবাহ ও জলধারার মিলিত কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপগুলি হল –

    i) বহিঃধৌত সমভূমি বা Out Wash Plain :- পর্বতের পাদদেশবর্তী অঞ্চলে হিমবাহ ও জলধারার মিলিত কাজের ফলে যে সমভূমি গঠিত হয়, তাকে বহিঃধৌত সমভূমি বা Out Wash Plain বলে ।

    ii) এস্কার :- হিমবাহের বহন করে আনা বিভিন্ন আকৃতির নুড়ি, পাথর, কাদা, বালি, মাটি প্রভৃতি পদার্থ জলস্রোতের দ্বারা পরিবাহিত হয়ে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের পাদদেশবর্তী নিম্নভূমিতে সঞ্চিত হলে এক একটি দীর্ঘ, সংকীর্ণ আঁকাবাঁকা শৈলশিরার মতো ভূমিরূপ গঠিত হয় । এই ধরণের ভূমিরূপকে এস্কার বলে ।

    iii) কেটল :- বহিঃধৌত সমভূমিতে নানারকম অবক্ষেপণের মধ্যে চাপা পড়া বিরাট বরফের চাঁই থেকে যায় । কালক্রমে বরফ গলে গলে অঞ্চলটি বেশ বড়ো আকারের গহ্বরের মতো অবস্থান করে, এই সমস্ত গহ্বরকে কেটল বলা হয় ।

    চিত্র – বহিঃধৌত সমভূমি, এস্কার, কেটল

    iv) ড্রামলিন :- হিমবাহের সঙ্গে বয়ে আসা বালি ও কাদার সঙ্গে বিভিন্ন আকৃতির নুড়ি-পাথর অবক্ষেপ হিসেবে সঞ্চিত হয়ে উল্টানো নৌকা বা আধখানা ডিম বা চামচের মতো আকৃতির যে ঢিলার মতো ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, তাকে ড্রামলিন বলে । এটি ‘ডিমের ঝুড়ি ভূমিরূপ’ নামে পরিচিত ।

    চিত্র – ড্রামলিন

    v) কেম :- হিমবাহ অধ্যুষিত পর্বতের পাদদেশে কোনো হ্রদ থাকলে সেখানে কাদা, বালি, কাঁকড় ইত্যাদি স্তূপাকারে সঞ্চিত হয়ে তিনকোণা বদ্বীপের মতো যে ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, তাকে কেম বলে ।

    চিত্র – কেম

    1.3. বায়ু

    1. পৃথিবীর বৃহত্তম অবসারণ গর্ত – মিশরের পশ্চিমে অবস্থিত কাতারা ।
    2. পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি – আফ্রিকার সাহারা ।
    3. মরু অঞ্চলের লবণাক্ত হ্রদ – প্লায়া ।
    4. বিস্তৃর্ণ অঞ্চলে বিস্তৃত বালির স্তূপ – বালিয়াড়ি ।
    5. মরু অঞ্চলের শুষ্ক নদী খাত – ওয়াদি ।
    6. পৃথিবীর শুষ্কতম মরুভূমি – চিলির আটাকামা মরুভূমি ।
    7. সাহারার বালুকাপূর্ণ মরুভূমি – আর্গ ।
    8. সাহারার প্রস্তরময় অমসৃণ মরুভূমি – হামাদা ।
    9. এশিয়ার বৃহত্তম মরুভূমি – গোবি ।
    10. আফ্রিকার মরু অঞ্চলে প্লায়া হ্রদকে বলে – শটস ।
    11. রাজস্থানের মরু অঞ্চলে প্লায়া হ্রদকে বলে – ধান্দ ।
    1. লোয়েস – বায়ু দ্বারা শুষ্ক পীত বালিকণা বহুদূর বাহিত হয়ে সঞ্চিত হলে তাকে বলে লোয়েস ।
    2. বার্খান – বায়ুর গতিপথে উলম্বভাবে অবস্থিত অর্ধচন্দ্রাকার বালিয়াড়িকে বলে বার্খান ।
    3. ইনসেলবার্জ – প্রায় সমতল মরু অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন শিলা গঠিত টিলাকে বলে ইনসেলবার্জ ।
    4. ওয়াদি – শব্দের অর্থ – শুষ্ক নদীখাত ।
    5. সাহারা শব্দের অর্থ – জনশূন্য প্রান্তর ।
    6. মরুস্থালী শব্দের অর্থ – মৃতের দেশ।
    7. পেডি শব্দের অর্থ – পাদদেশ ।
    8. মন্ট শব্দের অর্থ – পাহাড় ।
    9. পেডিমেন্ট শব্দের অর্থ – পাহাড়ের প্রান্তদেশ ।
    10. মেসার শব্দের অর্থ – টেবিল ।
    11. রেগর – পাথুরে মরুভূমিকে আলজেরিয়ায় রেগর বলে ।
    12. শিফ শব্দের অর্থ – সোজা তরবারি ।
    13. ভেন্টিফ্যাক্ট শব্দের অর্থ – লাতিন Ventus শব্দের অর্থ বাতাস, Fact শব্দের অর্থ সৃষ্টি অর্থাৎ ভেন্টিফ্যাক্ট কথার অর্থ বায়ু প্রবাহের ফলে সৃষ্ট ।
    14. Dreikanter শব্দের অর্থ – জার্মানি শব্দ Dreikanter -এর অর্থ Three sided অর্থাৎ ত্রিপার্শ্ব অর্থাৎ তিন দিক থেকে সৃষ্ট ।
    15. বায়ু ক্ষয় সাধনের প্রক্রিয়া – অপসারণ, অবঘর্ষ ও ঘর্ষণ প্রক্রিয়া ।
    16. বায়ুর বহন কার্য প্রক্রিয়া – লম্ফদান, ভাসমান ও গড়ানো প্রক্রিয়া ।
    17. বায়ুর সঞ্চয় কার্য প্রক্রিয়া – অধঃক্ষেপন, উপলেপন ও অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ।
    18. পৃথিবীর বৃহত্তম বালুকাময় মরু অঞ্চল – সৌদি আরবের রুব-আল-খালি ।
    19. রেগ – কোণাকার শিলাখন্ড পূর্ণ ভূমি । এটি আলজেরিয়ায় দেখা যায় ।
    20. বার্খান শব্দের অর্থ – তুর্কি শব্দ ‘Barchan’ এর অর্থ ফিরগিজ, স্টেপ অঞ্চলের বালিয়াড়ি ।
    21. বোলসন – মেক্সিকোর মরুভূমি প্লায়া হ্রদকে বোলসন বলে ।
    22. স্যালিনা – অতিরিক্ত লবণাত্মক প্লায়াকে স্যালিনা বলে ।
    23. টেরিস – কেরালার মালাবার উপকূলের বালিয়াড়িকে স্থানীয় ভাষায় টেরিস বলে ।
    24. ক্যাসেল কপিজ – ইনসেলবার্জ ক্ষয় পেয়ে বোল্ডার রূপী ভূমিরূপ গঠন করে, তাকে ক্যাসেল কপিজ বলে ।
    25. বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপগুলির বিবরণ দাও

    উঃ – বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপগুলি হল –

    i) অপসারণ গর্ত :- মরু ভূমিতে বায়ুপ্রবাহ দ্বারা শিথিল বালিকণা অপসারিত হয়ে স্থানটি ক্রমশ অবনমিত হয়ে যে ছোট বড়ো গর্ত বা খাত সৃষ্টি হয়, তাকে ব্লো আউট বা ডিফ্লেশন হোল বা অপসারণ গর্ত বলে ।

    যেমন – থর মরুভূমিতে ধান্দ, মিশরে কাতারা (বিশ্বের বৃহত্তম) ।

    চিত্র – অপসারণ গর্ত

    ii) গৌর :- মরুভূমিতে বায়ুর অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে নিম্ন অংশ সরু ও ঊর্ধ্ব অংশ চওড়া শিলাস্তূপকে সাহারা মরুভূমিতে গৌর বা গারা, জামানিতে পিজ ফেলসেন, গ্রেট বেসিনে হুডু বলে । ব্যাঙের ছাতার মতো আকৃতির জন্য একে মাশরুম বলা হয় ।

    চিত্র – গৌর

    iii) জিউগেন :- অনুভূমিক ভাবে পর্যায়ক্রমে কঠিন ও কোমল শিলা গঠিত শিলাস্তূপকে অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে কঠিন শিলা গঠিত চওড়া ও সমতল মাথা যুক্ত এবং নিম্নাংশ সরু টেবিলাকার প্রতিসম ভূমিরূপকে জিউগেন বলে ।

    যেমন – সোনেরান ও মাজাভে মরুভূমিতে জিউগেন দেখা যায় ।

    চিত্র – জিউগেন

    iv) ইয়ার্দাং :- উলম্বভাবে পর্যায়ক্রমে কঠিন ও কোমল শিলা গঠিত শিলাস্তূপে অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে কঠিন শিলা গঠিত স্বল্প উচ্চতা যুক্ত অপ্রতিসম শৈলশিরার মতো ভূমিরূপকে ইয়ার্দাং বলে ।

    যেমন – সাহারা মরুভূমির টিবেষ্টি মালভূমিতে হারমাট্টান বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে বিশ্বের বৃহত্তম ইয়ার্দাং গড়ে উঠেছে । এছাড়াও তাকলামাকান, লুট (ইরান), খশ (আফগানিস্তান), মাজাভে মরুভূমিতে দেখা যায় । আর্থার হোমস ‘কককোম’ নাম দেন ।

    চিত্র – ইয়ার্দাং

    v) ইনসেলবার্জ :- জার্মান শব্দ ইনসেলবার্জ এর অর্থ দ্বীপ শৈল । মরু ক্ষয় চক্রের শেষ পর্যায়ে বৈচিত্র্যহীন পেডিপ্লেনের ওপর ক্ষয়কার্যের ফলে কঠিন শিলা গঠিত অনুচ্চ, খাড়া ঢাল গঠিত, মসৃণ গাত্র যুক্ত প্রায় গোলাকার ক্ষয়ীভূত পাহাড় বা টিলাকে ইনসেলবার্জ বলে ।

    যেমন – বৃহৎ অস্টেলিয় মরুভূমিতে মাউন্ট ওলাগা । ভূতত্ত্ব বিদ এস পাসার্জ (1926 খ্রিঃ) এই মরুপাহাড়ের ইনসেলবার্জ নামকরণ করেন । এগুলি নদীর স্বাভাবিক ক্ষয় চক্রের পেডিপ্লেনের ওপর মোনাডনকের মতো । দীর্ঘকাল ধরে ক্ষয়ের ফলে ইনসেলবার্জ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ছোটো হলে তাকে টর বলে । ইনসেলবার্জ আরও ক্ষয় পেয়ে গম্বুজাকার ঢিবিতে পরিণত হলে তাকে বর্ণহার্ড বলে ।

    উদাহরণ – আফ্রিকার কালাহারি ও বৃহৎ অস্ট্রেলীয় মরুভূমিতে ইনসেলবার্জ দেখা যায় ।

    চিত্র – ইনসেলবার্জ

    1. বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপগুলির বিবরণ দাও

    উঃ – বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপগুলি হল –

    i) বালিয়াড়ি :- বিস্তীর্ণ স্থান জুড়ে থাকা উঁচু ও দীর্ঘ বালির স্তূপকে বালিয়াড়ি বলে । মরুভূমি ছাড়া সমুদ্রোপকূলেও বালিয়াড়ি দেখা যায় ।

    আকৃতি অনুসারে বালিয়াড়ি প্রধানত দুই ধরনের । যথা –

    a) তীর্যক বালিয়াড়ি বা বার্খান :- বালিয়াড়ির একটি বিশেষ শ্রেণি হল বার্খান । ‘বার্খান’ একটি তুর্কি শব্দ, এর অর্থ হল কিরখিজ স্টেপস অঞ্চলের বালিয়াড়ি উষ্ণ মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের পথে আড়াআড়ী ভাবে গঠিত বালির স্তূপ বা বালিয়াড়িকে বার্খান বলে ।

    যেমন – যে কোনো উষ্ণ মরু অঞ্চলে অসংখ্য বার্খান দেখা যায় ।

    চিত্র – বার্খান

    b) সিফ বালিয়াড়ি :- বায়ুর গতিপ্রবাহের সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে যে সমস্ত বালির স্তূপ গঠিত হয়, তাদের অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি বলে । অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ির মধ্যে যেগুলি আকারে বেশ সংকীর্ণ কিন্তু খুব লম্বা তাদের সিফ বালিয়াড়ি বলে ।

    চিত্র – সিফ বালিয়াড়ি

    ii) লোয়েস সমভূমি :- ‘লোয়েস’ কথার অর্থ ‘স্থানচ্যুত বস্তু’ । 0.05 মিমি এর কম ব্যাসযুক্ত অতিসূক্ষ্ম বালিকণা বা মাটির কণা বায়ু দ্বারা পরিবাহিত হয়ে দূরবর্তী কোনো নীচু স্থানে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠন করে, তাকে লোয়েস সমভূমি বলে ।

    উদাহরণ – মধ্য এশিয়ার গোবি মরুভূমি থেকে শীতকালীন উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু বাহিত হয়ে বিপুল পরিমাণে বালি ও মাটি কণা উত্তর চিনের হোয়াং হো নদীর অববাহিকায় দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চিত হয়ে সেখানে লোয়েস সমভূমির সৃষ্টি হয়েছে ।

    চিত্র – লোয়েস সমভূমি

    1. মরুভূমিতে বায়ু জলধারার মিলিত কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি আলোচনা কর

    উঃ – মরুভূমিতে বায়ু ও জলধারার মিলিত কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি হল –

    i) ওয়াদি :- মরুভূমিতে বৃষ্টির জলধারার ক্ষয়কার্যের ফলে যে সমস্ত ছোটো ছোটো অনিত্যবহ ও ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতির নদী বা শুষ্ক নদীখাতের সৃষ্টি হয়, তাকে ওয়াদি বলে । আরবি ভাষায় ওয়াদি শব্দের অর্থ হল শুষ্ক উপত্যকা ।

    চিত্র – বায়ু ও জলধারার প্রভাবে তৈরি ভূমিরূপ

    ii) পেডিমেন্ট :- ক্ষয় ও সঞ্চয় কাজের ফলে উন্মুক্ত শিলাস্তর এবং পলিস্তরে ঢাকা একটি ঢালু সমতল ভূমিতে পরিণত হয়, তখন তাকে পেডিমেন্ট বা পাদদেশীয় সমভূমি বলে ।

    উদাহরণ – আফ্রিকার আটলাস পর্বতের পাদদেশে পেডিমেন্ট দেখা যায় ।

    চিত্র – পেডিমেন্ট

    iii) বাজাদা :- স্বল্পমেয়াদি প্রবল বর্ষণের প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া অস্থায়ী জলধারার সঞ্চয় কাজের ফলে পর্বতের পাদদেশবর্তী নিম্নভূমি বা প্লায়া অঞ্চলে নুড়ি, বালি, কাদা, পলি সঞ্চয়ের ফলে যে প্রায় সমতল ভূমির সৃষ্টি হয়, তাকে বাজাদা বলে ।

    উদাহরণ – সাহারা মরুভূমির আটলাস পর্বতের পাদদেশবর্তী অঞ্চলে বাজাদা ভূমিরূপ দেখা যায় ।

    iv) প্লায়া হ্রদ :- প্রবল বায়ুপ্রবাহের ফলে মরুভূমির বালি অপসারিত হয়ে ছোটো বড়ো অনেক গর্তের সৃষ্টি হয় । এই গর্তগুলি যদি গভীর হয়ে ভূগর্ভের জলস্তরকে স্পর্শ করে, তাহলে ভূগর্ভস্থ জল জমা হয়ে সেখানে প্লায়া হ্রদের সৃষ্টি হয় ।

    1. নগ্নীভবনের সূত্রটি লেখ

    উঃ – নগ্নীভবনের সূত্রটি হল – নগ্নীভবন ≠ অববাহিকার + পুঞ্জিত ক্ষয় + ক্ষয়ীভবন ।

    1. পর্যায়িত ভূমিরূপ কাকে বলে ?

    উঃ – ক্ষয় ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে কোনো ভূমিরূপের মধ্যে যখন সাম্য অবস্থা বিরাজ করে, তখন সেই ভূমিরূপকে পর্যায়িত ভূমিরূপ বলা হয় ।

    1. জলচক্রের প্রধান প্রক্রিয়াগুলি কী কী ?

    উঃ – জলচক্রের প্রধান প্রক্রিয়াগুলি হল – বাষ্পীভবন, ঘনীভবন, অধঃক্ষেপণ, পৃষ্ঠপ্রবাহ, অনুশ্রাবণ ইত্যাদি ।

    1. নদী অববাহিকা কাকে বলে ?

    উঃ – যে সুনির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে মূল নদী, তার শাখানদী ও উপনদী সহ প্রবাহিত হয়, তাকে বলা হয় নদী অববাহিকা ।

    1. নদীর ধারণ অববাহিকা বলতে কী বোঝ ?

    উঃ – নদী অববাহিকার মধ্যে পার্বত্য বা উচ্চভূমি অংশে নদী যতটুকু অঞ্চল অধিকার করে আছে, তাকে বলা হয় নদীর ধারণ অববাহিকা ।

    1. ধারণ অববাহিকা নদীর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কেন ?

    উঃ – নদীর গতিবেগ ও ঢাল, নদীতে উপস্থিত পলির পরিমাণ ও তার গুণাগুণ, জলের পরিমাণ ইত্যাদি অনেকটাই নদীর ধারণ অববাহিকার চরিত্রের ওপর নির্ভরশীল । তাই ধারণ অববাহিকা নদীর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ।

    1. নদী বর্তন কী ?

    উঃ – নদীর জলের বেগ ও জলের পরিমাণ সারাবছর থাকে না । কখনো কম বা কখনো বেশি হয় । নদীর জলধারার এই পর্যায়ক্রমিক ও ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনকেই নদী বর্তন বলে ।

    1. জলবিভাজিকা বলতে কী বোঝ ?

    উঃ – যে উচ্চভূমি দুটি নদীর জলস্রোতকে দুপাশে বয়ে চলার ক্ষেত্রে বিভাজনের ভূমিকা নেয়, তাকে বলে জলবিভাজিকা। অর্থাৎ দুটি পাশাপাশি অবস্থিত নদী অববাহিকা যে উচ্চভূমির দ্বারা পৃথক হয়, তাকে জলবিভাজিকা বলে ।

    উদাহরণ – ভারতের বিখ্যাত দুটি জলবিভাজিকা হল – হিমালয় পার্বত্য ভূমি এবং মধ্যভাগে বিন্ধ্যসাতপুরা পর্বত ।

    1. বিনুনী নদী কাকে বলে ?

    উঃ – নদী প্রবাহপথে চড়া সৃষ্টি হলে নদীখাতের প্রস্থ অনেকটাই কমে যায় । ফলে নদীর জল একটা সরু খাতের মধ্যে দিয়ে অতিমাত্রায় এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হতে বাধ্য হয় । এই ধরণের নদীর বাঁককে বিনুনীর সাথে তুলনা করে এই নদীকে বিনুনী নদী বলা হয় ।

    1. নদী প্রবাহের এককগুলি কী কী ?

    উঃ – কিউসেক (FPS পদ্ধতি), কিউমেক (CGS পদ্ধতি) ।

    1. নদী ষষ্ঠঘাতের সূত্র কী ?

    উঃ – নদীর গতিবেগের সঙ্গে বহণ ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক আছে । দেখা গেছে নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ হলে তার বহণ ক্ষমতা বাড়ে 64 গুণ বা 26 হারে, এটি হল ষষ্ঠঘাতের সূত্র । যার ব্যাখ্যা দেন 1842 খ্রিস্টাব্দে ডব্লু হপকিনস ।

    1. নদীমঞ্চ কাকে বলে ?

    উঃ – সমভূমি প্রবাহে নদীর মধ্যগতিতে নদীর উভয় তীরে অনেক সময় একাধিক অসমান ধাপ বা মঞ্চ দেখা যায়, এদের নদীমঞ্চ বলা হয় ।

    1. সমপ্রায় ভূমি কাকে বলে ?

    উঃ – বৃষ্টি বহুল আর্দ্র অঞ্চলে নদীর জলপ্রবাহ বৃষ্টির জল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক শক্তির প্রবাহে প্রাচীন মালভূমি এবং উচ্চভূমি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয় পেতে পেতে এক সময় উঁচুনীচু ঢেউ খেলানো ভূমি বা সমতল ভূমিতে পরিণত হলে, তাদের সমপ্রায় ভূমি বলা হয় ।

    1. বদ্বীপের শ্রেণীবিভাগ করে ব্যাখ্যা দাও ।

    উঃ – বেশির ভাগ বদ্বীপই ত্রিকোণাকৃতির, তবে আকৃতির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বদ্বীপকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়, যথা –

    i) ধনুকাকৃতি বদ্বীপ :- মোহনার কাছে নদীবক্ষ ভরাট থাকার জন্য নদী বরাবর বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে পাশ কাটিয়ে মোহনার দিকে প্রবাহিত হয় । ফলে নদী যতই মোহনার দিকে যায়, ততই প্রবাহহীন নদীর সংখ্যা বাড়তে থাকে । এভাবে সৃষ্ট বদ্বীপ একটি বড়ো ত্রিভূজের আকার ধারণ করে, একে ত্রিভূজাকৃতির বদ্বীপ বলে । বদ্বীপটি ধনুকের মতো বাঁকা বা অর্ধবৃত্তাকারে বিস্তৃত হয়, একে ধনুকাকৃতি বদ্বীপ বলে ।

    যেমন – নীলনদের বদ্বীপ ।

    চিত্র – ধনুকাকৃতি বদ্বীপ

    ii) তীক্ষ্ণাগ্র বদ্বীপ :- নদীর মোহনায় সঞ্চিত পলি, বালি প্রভৃতি পদার্থ গুলি দু’দিকে বিস্তৃত হলে বদ্বীপের সম্মুখ ভাগ তীক্ষ্ণ আকৃতি ধারণ করে, তাকে তীক্ষ্ণাগ্র বদ্বীপ বলে ।

    যেমন – স্পেনের এব্রো নদীর বদ্বীপ ।

    চিত্র –তীক্ষ্ণাগ্র বদ্বীপ

    iii) পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ :- মোহনার কাছে নদীর জলের ঘনত্ব সমুদ্রের জলের তুলনায় কম হলে এবং বদ্বীপ অঞ্চলে নদীর গতিবেগ বেশি থাকলে দ্রবীভূত পদার্থগুলি সমুদ্রের অনেক দূরে পৌঁছে থিতিয়ে পড়ে । নদীর সূক্ষ্ম পলি সমুদ্রের বেশি লবণাত্মক জলে আসা মাত্রই নদীর দুপাশে থিতিয়ে পড়ে সঞ্চিত হয় । শাখানদীর ক্ষেত্রেও এই ধরণের পলি সঞ্চয় হলে সমগ্র বদ্বীপটিকে পাখির পায়ের মতো দেখায়, একে পাখির মতো বদ্বীপ বলে ।

    যেমন – মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রের মিসৌরী – মিসিসিপি নদীর বদ্বীপ ।

    চিত্র – পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ

    1. নিকপয়েন্ট কী ?

    উঃ – ভূমির পুনযৌবন লাভের ফলে নদী উপত্যকার নতুন ঢাল ও পুরোনো ঢালের সংযোগস্থলে যে খাঁজ তৈরি হয়, তাকে নিকপয়েন্ট বলে । এই নিকপয়েন্টে জল তলের পার্থক্য সৃষ্টি হয় বলে সেখানে জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয় ।

    1. হিমবাহকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী ?

    উঃ – হিমবাহকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় । যথা –

    i) পার্বত্য বা উপত্যকা হিমবাহ

    ii) মহাদেশীয় হিমবাহ

    iii) পর্বতের পাদদেশীয় হিমবাহ ।

    1. ভ্যানিসিং আইল্যান্ড কাকে বলে ?

    উঃ – ভূ-উষ্ণায়ন ও সমুদ্র জলের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সুন্দরবনের তিনটি দ্বীপ (লোহাচোরা, নিউমুর ও বেডফোট বা ঘোড়ামারা) সম্পূর্ণ ডুবে গেছে এবং দশটি দ্বীপ নিশ্চিহ্ন হওয়ার মুখে । এদের ভ্যানিসিং আইল্যান্ড বলে ।

    1. নেভে কী ?

    উঃ – সুউচ্চ পার্বত্য ও মেরু অঞ্চলে তুষারপাতের তুষার কণাগুলি একটি অন্যটির সঙ্গে পেঁজা তুলার মতো আলগাভাবে লেগে থাকে । এই সাদা রঙের আলগা তুষার কণাগুলিকে নেভে বলে ।

    1. ফিন কী ?

    উঃ – তুষার কণাগুলি পরস্পরের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আটকে বৃহৎ কেলাসে পরিণত হয়, একে ফিন বলে ।

    1. হিমশৈল কাকে বলে ?

    উঃ – মেরু অঞ্চলে সমুদ্রের জলে ভাসমান ও গতিশীল বিশালাকার বরফের স্তূপকে হিমশৈল বলে । এগুলি মিষ্টি জল দিয়ে তৈরি বিশালাকার বরফস্তূপ । হিমশৈল কেবল 1/10 অংশ ভাগ জলের ওপর দেখা যায় ।

    1. মগ্নচড়া কী ?

    উঃ – নাতিশীতোষ্ণ সমুদ্রে উষ্ণ সমুদ্র স্রোতের সংস্পর্শে বরফ গলে গিয়ে সমুদ্র তলদেশে বরফের সঙ্গে আগত পলি, বালি, কাদা, নুড়ি, আগাছা ইত্যাদি সঞ্চিত হয়ে মগ্নচড়া সৃষ্টি হয়।

    যথা – আটল্যান্টিক উপকূলে ডগার্স ব্যাঙ্ক, গ্রান্ট ব্যাঙ্ক (বৃহত্তম) ।

    1. আইস সেলফ কাকে বলে ?

    উঃ – ভূমিভাগের সঙ্গে সংযুক্ত পুরু ও সমুদ্রে ভাসমান বরফের সোপানকে আইস সেলফ বলে ।

    যেমন – আন্টার্কটিকার রস ও রনি আইস সেলফ ।

    1. নব কী ?

    উঃ – হিমবাহ বাহিত নুড়ি, শিলাখন্ড প্রভৃতি জলপ্রবাহের সঙ্গে বাহিত হয়ে বহিঃধৌত সমভূমির ওপর টিলার আকারে অবস্থান করলে সেই টিলাগুলিকে নব বলে ।

    1. হোয়েল ব্যাক বা কুঁজ কাকে বলে ?

    উঃ – পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে কোনো কোনো স্থানের চারিদিকে মসৃণ ও খাড়া ঢাল বিশিষ্ট ঢিবি দেখা যায় । একে হোয়েল ব্যাক বা কুঁজ বলে । স্কটল্যান্ডের হুয়াসাউন্ড অঞ্চলে এ ধরণের ভূমিরূপ দেখা যায় ।

    1. নদীর মোহনায় বদ্বীপ গঠনের অনুকূল ভৌগলিক অবস্থাগুলি উল্লেখ কর

    উঃ – পৃথিবীর অধিকাংশ নদীর মোহনায় বদ্বীপ গড়ে ওঠে । তবে সব মোহনায় বদ্বীপ গড়ে ওঠে না । নদীর মোহনায় বদ্বীপ গড়ে ওঠার অনুকূল অবস্থাগুলি হল –

    i) অধিক পরিবাহিত পদার্থ :- নদী যদি তার গতিপথ দিয়ে অধিক পরিমাণে পদার্থ বহন করে তবে তা সহজেই মোহনায় সঞ্চয়ের দ্বারা বদ্বীপ গড়ে তোলে।

    উদাহরণ – গঙ্গা, ইয়াংসিকিয়াং প্রভৃতি নদীর বদ্বীপ এই কারণে গঠিত হয়েছে ।

    ii) কম স্রোতবেগ :- নদীর মোহনায় নদীর স্রোত বেগ কম হলে সহজেই বদ্বীপ গড়ে ওঠে । কেননা, সেখানে পদার্থের অবক্ষেপণ হার বেশি ।

    উদাহরণ – বঙ্গোপসাগরে গঙ্গার বদ্বীপ, মেক্সিকো উপসাগরে মিসিসিপির বদ্বীপ ।

    iii) সুদীর্ঘ দীর্ঘ নিম্নপ্রবাহ :- নদীর গতিপথ সুদীর্ঘ হলে পরিবাহিত পদার্থ বেশি হয় । নিম্নপ্রবাহ দীর্ঘ হলে স্রোত কম হয় । ফলে মোহনায় পলি দ্রুত থিতিয়ে পড়ে ও বদ্বীপ সহজে গড়ে ওঠে ।

    উদাহরণ – ভূমধ্যসাগরে নীলনদের অববাহিকা ।

    iv) কম জোয়ারভাটার প্রকোপ :- নদীতে জোয়ার ভাটার প্রকোপ কম হলে সহজে পলি, বালি, কাদা অবক্ষেপিত হয়ে বদ্বীপ গঠিত হয় ।

    উদাহরণ – ভলগা ও হোয়াং হো নদীর বদ্বীপ ।

    v) নদী স্রোতের বিপরীতে বায়ুপ্রবাহ,

    vi) সমুদ্র অগভীর হলে এবং

    vii) নদীর মধ্যগতিতে উপনদীর সংখ্যা বেশি হলে বদ্বীপ গঠন খুব ভালোভাবে হয় ।

    1. মরুদ্যান কী ?

    উঃ – অনেক সময় মরু অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়কার্যের বিরাট এলাকা জুড়ে বালি অপসারণের ফলে অবনমিত অংশের গভীরতা ভূগর্ভের জলস্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায় । এর ফলে সেখানে তখন সহজেই জলের সন্ধান পাওয়া যায় এবং নানা ধরণের গাছ জন্মায় । এভাবে ধুধু মরুভূমির মাঝখানে গাছপালার ঢাকা যে সবুজ ভূমিটি গড়ে ওঠে তাকে মরুদ্যান বলা হয় ।

    1. ভেন্টিফ্যাক্ট ড্রেইকান্টার কী ?

    উঃ – ভেন্টিফ্যাক্ট :- একদিক থেকে বায়ুপ্রবাহের জন্য বায়ু বাহিত বালিকণা অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় শিলাখন্ডকে ক্ষয় করে । এভাবে বায়ুপ্রবাহের দিকটি মসৃণ ও ধারালো এবং বাকি দিকগুলি অমসৃণ বা এবড়ো খেবড়ো হয়ে উঠলে তাকে ভেন্টিফ্যাক্ট বলে ।

    উঃ – ড্রেইকান্টার :- বিভিন্ন দিক থেকে বায়ুপ্রবাহের জন্য বায়ুবাহিত বালিকণা অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় শিলাখন্ডের তিন দিককে মসৃণ করে তোলে এরূপ শিলাখন্ডকে ড্রেইকান্টার বলা হয় ।

    1. গাসি কাকে বলে ?

    উঃ – শিফ বালিয়াড়িগুলি একে ওপরের সমান্তরালে গড়ে ওঠে । দুটি শিফ বালিয়াড়ির মাঝখানের অংশকে করিডর বলে । এসব করিডর গুলি বালিবিহীন বা রেগ দ্বারা বিচ্ছিন্ন থাকে । এসব করিডর গুলিকে সাহারায় গাসি বলে । মরুভূমিতে এগুলি যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয় ।

    1. আর্গ কাকে বলে ?

    উঃ – মরুভূমিতে কেবলমাত্র বালি দ্বারা গঠিত সমতল অঞ্চলকে আর্গ বলে । যেখানে বায়ু অধিক ক্রিয়াশীল সেখানে বালির পরিমাণ বেশি ।

    1. ডেজার্ট পেভমেন্ট কী ?

    উঃ – মরু অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠে ঘনভাবে অবস্থিত গোলাকার শিলা নুড়ি এবং কোনাকার শিলাখন্ড দিয়ে গঠিত ভূমিরূপকে ডেজার্ট পেভমেন্ট বা ডেজার্ট ফ্লোর বলে । দীর্ঘদিন ধরে বায়ুর অপসারণ প্রক্রিয়ায় বালি অপসারিত হলে ডেজার্ট পেভমেন্ট গঠিত হয় । এই জাতীয় ভূমিরূপকে পশ্চিম সাহারায় রেগ, পূর্ব সাহারায় সেরীর, মধ্য এশিয়ায় সাই এবং অস্ট্রেলিয়ায় গিবার বলে ।

    1. অ্যাডোভ কী ?

    উঃ – উত্তর আমেরিকায় মিসিসিপি মিসৌরি নদীর উপত্যকায় লোয়েস সঞ্চয় দেখা যায় । বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্লিষ্ঠসিন যুগে হিমবাহ গঠিত গ্রাবরেখা ও বহিঃধৌত সমভূমির সূক্ষ্ম পলি উড়ে এসে এমন লোয়েস ভূমি গঠন করেছে । এই লোয়েস উত্তর আমেরিকায় অ্যাডোভ নামে পরিচিত ।

    1. মরু অঞ্চলের প্রসারণের কারণসমূহ প্রতিরোধের উপায় উল্লেখ কর

    উঃ – যে প্রক্রিয়ার দ্বারা উৎপাদনশীল ভূমি ক্রমশ সম্পূর্ণভাবে উৎপাদনে অক্ষম অনুর্বর মরুভূমিতে পরিণত হয়, তাকে মরুকরণ বা মরু অঞ্চলের সম্প্রসারণ বলা হয়।

    প্রসারণের কারণ :-

    i) বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং হল মরুভূমি অঞ্চলের প্রসারণের প্রধান কারণ ।

    ii) পৃথিবীতে green house গ্যাস বেড়ে যাওয়া,

    iii) অত্যধিক উষ্ণতা ও অত্যন্ত কম পরিমাণে বৃষ্টিপাত,

    iv) বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য জলাশয় দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া,

    v) নির্বিচারে গাছ কাটা, পশুচারণ, বনভূমি ধ্বংস করা,

    vi) অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষবাস করা,

    vii) অতিরিক্ত জলসেচের ফলে মাটি লবণাক্ত হয়ে যাওয়া প্রভৃতি নানা মনুষ্যসৃষ্ট কারণে মরু সম্প্রসারণ হয় ।

    প্রতিরোধের উপায় :-

    i) বৃক্ষ রোপন করা এবং শুষ্ক অঞ্চলের মরুদ্যানের কৃষিক্ষেত্র গুলিকে বাঁচানোর জন্য চারপাশে গাছ লাগানো বা তৃণবলয় তৈরি করা ।

    ii) মাটিতে শুঁটি জাতীয় উদ্ভিদ চাষ করা ।

    iii) একই জমিতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফসলের চাষ করা এবং মিশ্র কৃষির মাধ্যমে চাষবাস করা ।

    iv) শুষ্ক অঞ্চলে কৃত্রিমভাবে জলাধার নির্মাণ করা,

    v) নির্দিষ্ট জলনির্গমণ প্রণালী নির্মাণ করা প্রভৃতি ।