Category: Study Materials

  • ভারতের ভূপ্রকৃতি (অধ্যায় ৫.২)

    ভারতের ভূপ্রকৃতি

    1. ভূপ্রাকৃতিক বিভাগ :- ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভারতকে পাঁচটি ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়, যথা –

    i) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল

    ii) বৃহৎ সমভূমি অঞ্চল

    iii) উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল

    iv) উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল

    v) দ্বীপ অঞ্চল

    1. প্রস্থ বরাবর হিমালয়ের শ্রেণি বিভাগ করো
      অথবা, প্রস্থ বরাবর হিমালয়ের ভূপ্রকৃতি বর্ণনা করো
      অথবা, হিমালয়ের উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত পর্বত শ্রেণিগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো

    উঃ – প্রস্থ বরাবর হিমালয়ের শ্রেণি বিভাগ – পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়ে প্রস্থ বরাবর উত্তর-দক্ষিণে চারটি সমান্তরাল পর্বত শ্রেণি রয়েছে । যথা –

    i) টেথিস হিমালয় বা ট্রান্স হিমালয়

    ii) হিমাদ্রি হিমালয় বা উচ্চ হিমালয়

    iii) হিমাচল বা মধ্য হিমালয় বা অব হিমালয়

    iv) শিবালিক বা বহিঃহিমালয়

    i) টেথিস হিমালয় বা ট্রান্স হিমালয় :-

    a) অবস্থান– জম্বু ও কাশ্মীর রাজ্যে অবস্থিত । অধিকাংশই তিব্বতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় একে তিব্বত হিমালয় বলে ।

    b) উৎপত্তি– প্রথমবার ভূ-আলোড়নে (7-12 কোটি বছর আগে) উৎপত্তি হয় ।

    c) প্রস্থ–পর্বত শ্রেণিটি প্রায় 40 কিমি চওড়া ।

    d) উচ্চতা–গড় উচ্চতা প্রায় 4000 মিটার ।

    e) বৈশিষ্ট্য – এটি পর্বত ও মালভূমিময় । জাস্কর (সর্বোচ্চ শৃঙ্গ লিওপারগেল 7420 মিটার, লাদাখ, কৈলাস, কারাকোরাম ও আগিল এবং আকসাইচিন মালভূমি আছে ।

    ii) হিমাদ্রি হিমালয় বা উচ্চ হিমালয় :-

    a) অবস্থান– টেথিস হিমালয়ের দক্ষিণে হিমাচলের উত্তরে অবস্থিত । নেপালে ভারত মহাসাগর লেখ নামে পরিচিত ।

    b) উৎপত্তি – টেথিস হিমালয়ের সঙ্গে প্রথমবার ভূ-আলোড়নে উৎপত্তি হয় ।

    c) বিস্তার – এটি হিমালয়ের উচ্চতম অংশ, গড় উচ্চতা 6100 মিটার, নাঙ্গা পর্বত থেকে নামচাবারওয়া পর্যন্ত 2400 কিমি দীর্ঘ এবং 25 কিমি প্রশস্ত ।

    d) বৈশিষ্ট্য

    ♦ অসংখ্য তুষার বৃত সুউচ্চ শৃঙ্গ আছে । যথা – মাউন্ট এভারেস্ট (বিশ্বের উচ্চতম), কাঞ্চন জঙ্ঘা (তৃতীয় উচ্চতম), লোটসে, মানাসুল, মাকুল, চোওয়া, ধওলাগিরি, অন্নপূর্ণা, কেদারনাথ, কামেট, নন্দাদেবী।

    ♦ এখানে বেশকিছু গিরি পথ আছে – বুর্জিলা, (শ্রীনগর ও লে) জেলেপলা, নাথুলা (সিকিম ও চুম্বি), সিপকি লা ।

    iii) হিমাচল বা মধ্য হিমালয় :-

    a) অবস্থান – হিমাদ্রির দক্ষিণে ও শিবালিকের উত্তরে অবস্থিত ।

    b) উৎপত্তি – দ্বিতীয়বার ভূ-আলোড়নের ফলে (2-3 কোটি বছর) উৎপত্তি হয় ।

    c) বিস্তার–উচ্চতা মাঝারি গড়ে 3500-6500 মিটার। এটি 60-80 কিমি প্রশস্ত ।

    d) বৈশিষ্ট্য

    ♦ অনেক পর্বত শ্রেণি আছে । যথা – পিরপাঞ্জল, ধাওলাধর, মুসৌরি, নাগটিব্বা, মহাভারত (লেখ)

    ♦ অনেক গিরি পথ আছে । যথা – পিরপাঞ্জল (শ্রীনগর ও জম্বু) বানিহাল বা জওহর টানেল (এশিয়ার দীর্ঘতম সুড়ঙ্গ), বিডিল, গোলাবঘর ।

    ♦ শিবালিক ও হিমাচলের অনেক সমান্তরাল ও চওড়া উপত্যকা আছে । যথা – কাশ্মীর, কুলু-কাংড়া।

    iv) শিবালিক বা অব হিমালয় :-

    a) অবস্থান – এটি হিমালয়ের দক্ষিণতম শ্রেণি । নেপালে চুরিয়া মুরিয়া নামে পরিচিত ।

    b) উৎপত্তি – তৃতীয়বার ভূ-আলোড়নে ।

    c) বিস্তার – হিমাচলের সমান্তরালে 2400 কিমি দীর্ঘ খুব সংকীর্ণ 15-60 কিমি প্রশস্ত এবং উচ্চতা 600-1500 মিটার ।

    d) বৈশিষ্ট্য – দক্ষিণ দিকে খুব খাঁড়া ও উত্তর দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে উপত্যকা সৃষ্টি হয়েছে, যাকে পশ্চিম হিমালয়ে দুন ও পূর্ব হিমালয়ে দুয়াব বলে । দেরাদুন, চৌখাম্বা, কোটা, পাটলি, চুম্বি উপত্যকা ।

  • ভারতের অবস্থান ও প্রশাসনিক বিভাগ (অধ্যায় ৫.১) অতিরিক্ত

    ভারতপ্রাকৃতিক পরিবেশ

    অবস্থান, প্রশাসনিক বিভাগ

    1. ভারতের অক্ষাংশগত অবস্থান লেখ ।

    উঃ – ভারত দক্ষিণে 8°4′ উত্তর অক্ষাংশ (কন্যা কুমারিকা অন্তরীপ) থেকে উত্তরে 37°6′ উত্তর অক্ষাংশ (কাশ্মীরের ইন্দিরাকল) পর্যন্ত বিস্তৃত । অক্ষাংশগত ভাবে ভারত উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত।

    1. ভারতের সীমানা বর্ণনা কর 

    উঃ – ভারতের উত্তরে হিমালয় পর্বত এবং চিন, নেপাল, ভুটান অবস্থিত । ভারতের পশ্চিমে পাকিস্থান ও আরব সাগর, পূর্বে মায়ানমার ও বাংলাদেশ, বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণে শ্রীলঙ্কা ও ভারত মহাসাগর ।

    1. উপদ্বীপ কাকে বলে ?

    উঃ – তিনদিক জলভাগ দ্বারা বেষ্টিত স্থল ভাগকে উপদ্বীপ বলে ।

    যেমন – ভারত হল একটি উপদ্বীপ । কারন ভারতের তিন দিকে রয়েছে তিনটি সাগর (পূর্বে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে আরব সাগর এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর)। ভারত পৃথিবীর বৃহত্তম উপদ্বীপ ।

    1. উপসাগর কাকে বলে ?

    উঃ – তিনদিক স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলভাগকে উপসাগর বলে ।

    যেমন – কচ্ছ উপসাগর, খাম্বাত উপসাগর ইত্যাদি ।

    1. ভারতের বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের নাম লেখ ?

    উঃ – i) ভারতের বৃহত্তম রাজ্য – রাজস্থান

    ii) বৃহত্তম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল – আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপ ।

    iii) ক্ষুদ্রতম রাজ্য – গোয়া

    iv) ক্ষুদ্রতম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল – লাক্ষাদ্বীপ ।

    1. ভারতের পশ্চিমে ও দক্ষিণে অবস্থিত উপসাগরগুলির নাম লেখ

    উঃ –

    ♦ পশ্চিমে ভারতের উপসাগর হল – কচ্ছ উপসাগর ও খাম্বাত উপসাগর ।

    ♦ দক্ষিনে ভারতের উপসাগর হল – মান্নার উপসাগর ।

    1. ভারতের কোন রাজ্যের জেলার সংখ্যা সর্বাধিক এবং সর্বনিম্ন ?

    উঃ – ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের জেলার সংখ্যা সর্বাধিক (72 টি) এবং ত্রিপুরা ও সিকিম রাজ্যের জেলার সংখ্যা সর্বনিম্ন (4 টি) ।

    1. সর্বাধিক রাজ্য দ্বারা সীমানা স্পর্শ করেছে এমন দুটি রাজ্যের নাম লেখ ?

    উঃ – সর্বাধিক রাজ্য দ্বারা সীমানা স্পর্শকারী রাজ্য হল –

    i) উত্তরপ্রদেশ – 8টি (উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, রাজস্থান ও বিহার)।

    ii) অসম – 7টি (পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ)।

    1. ভারতের রাজ্যসমূহের পুনঃর্গঠনের প্রধান ভিত্তি কী ছিল ?

    উঃ – ভারতের রাজ্যসমূহের পুনঃর্গঠনের প্রধান ভিত্তিগুলি হল – ভাষা, সংস্কৃতি, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রাকৃতিক সাদৃশ্য ।

    1. SAARC কী ?

    উঃ – পুরো অর্থ – South Asian Association For Regional Co-Operation বা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা পরিষদ ।

    স্থাপন – 8 ডিসেম্বর, 1985 খ্রিস্টাব্দ ।

    সদস্য দেশ – ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, ভূটান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ (8টি) ।

    সদর দপ্তর – নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ।

    1. ভারতকে উপমহাদেশ বলা হয় কেন ?

    উঃ – এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশে ভারতসহ পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ভূ-প্রাকৃতিক, জলবায়ু, আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সাদৃশ্য দেখা যায় । 6 টি দেশের মধ্যে একেবারে মধ্যভাগে অবস্থিত ভারতের ক্ষেত্রমান, জনসংখ্যা এবং প্রভাব প্রতিপত্তি সবচেয়ে বেশি । ভারত হল এই অঞ্চলটির মূলচালিকা শক্তি । তাই এই অঞ্চলকে ভারতীয় উপমহাদেশ বলা হয় ।

    1. ভারতের সীমান্তরেখার বিভিন্ন নাম লেখ ?

    উঃ –

    সীমান্ত রেখা

    রাষ্ট্র

    ম্যাকমোহন লাইন অরুণাচল প্রদেশে ভারত – চিন
    র‍্যাডক্লিফলাইন ভারত – পাকিস্তান
    ডুরান্ড লাইন ভারত – আফগানিস্তান
    Line of Control [LOC] ভারত – পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর
    Line of Actual Control [LAC] ভারত – চিন অধিকৃত কাশ্মীর
    24° প্যারালাল ভারত – পাকিস্তান (পাক দাবি)
    28° প্যারালাল ভারতীয় কাশ্মীর – পাকিস্তানের কাশ্মীর
    1. ভারতের রাজ্য পুনর্গঠনের ভিত্তিগুলি কী কী ?

    উঃ – ভারতের রাজ্য পুনর্গঠনের ভিত্তিগুলি হল –

    i) ভাষা – বহু ভাষার দেশ ভারতে 122 টি প্রধান ভাষা এবং 22 টি সংবিধান স্বীকৃত ভাষা আছে । তাই মূলত আঞ্চলিক ভাষার ভিত্তিতেই রাজ্য ভাগ করা হয়েছে ।

    যেথা – অসম, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু ।

    ii) উন্নয়ন পরিকল্পনা – সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন ঘটানো ও পরিকল্পনা গ্রহনের জন্য উত্তরাখন্ড, ছত্তিশ গড়ের জন্ম হয় ।

    iii) প্রশাসনিক সুবিধা – সুবিশাল রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ কর্মচালানোর জটিলতার জন্য রাজ্য পুনর্গঠন করা হয় ।

    যেমন – উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ত্রিপুরা ।

    iv) সংস্কৃতি – সামাজিক, আচার-অনুষ্ঠান, সংস্কারের পার্থক্যের জন্য একই ভাষা সত্ত্বেও রাজ্য গঠন করা হয়েছে ।

    যেমন – ঝাড়খন্ড, উত্তরাখণ্ড ।

    v) প্রাকৃতিক ও ভৌগলিক – অভিন্ন প্রাকৃতিক ও ভৌগলিক পরিবেশের জন্য রাজ্য গঠন করা হয় ।

    1. ভারতের ভূপ্রাকৃতিক বিভাগগুলি কী কী ?

    উঃ – ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ভূমিরূপের বৈশিষ্টানুসারে ভারত কে 5টি প্রধান ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়, যথা –

    i) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল

    ii) বৃহৎ সমভূমি অঞ্চল

    iii) উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল

    iv) উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল

    v) দ্বীপ অঞ্চল

    1. ভারতের আয়তন লেখ

    উঃ – 32 লক্ষ 87 হাজার 782 বর্গকিমি ।

    1. আয়তনে পৃথিবীতে ভারতের স্থানসপ্তম
    2. জনসংখ্যা (2011) – 121 কোটি 1 লক্ষ 93 হাজার 4 শত 22 জন ।
    3. ভারতের উত্তরতম বিন্দুকাশ্মীরের ইন্দিরা কল ।
    4. ভারতের দক্ষিণতম বিন্দুআন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ইন্দিরা পয়েন্ট ।
    5. ভারতের মূল ভূখন্ডের দক্ষিণতম বিন্দুকন্যাকুমারিকা অন্তরীপ ।
    6. ভারতের পূর্বতম বিন্দুঅরুণাচল প্রদেশের কিবিথু ।
    7. ভারতের পশ্চিমতম বিন্দুগুজরাটের গুহার মোটা ।
    8. ভারতের প্রমান দ্রাঘিমারেখা82°30′ পূর্ব ।
    9. ভারতের নবীনতম রাজ্যতেলেঙ্গানা ।
    10. ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে বৃহত্তমআয়তনে রাজস্থান, জনসংখ্যায় উত্তরপ্রদেশ, জনঘনত্বে বিহার ।
    11. ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে ক্ষুদ্রতমআয়তনে গোয়া, জনসংখ্যায় সিকিম, জনঘনত্বে অরুণাচল প্রদেশ ।
    12. কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে বৃহত্তমআয়তনে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, জনসংখ্যায় ও জনঘনত্বে দিল্লি ।
    13. কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে ক্ষুদ্রতমআয়তনে ও জনসংখ্যায় লাক্ষাদ্বীপ, জনঘনত্বে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ।
    14. ভারতের প্রথম ভাষাভিত্তিক রাজ্যঅন্ধ্রপ্রদেশ ।
    15. ভারতের বৃহত্তম জেলাকচ্ছ ।
    16. ভারতের ক্ষুদ্রতম জেলামাহে ।
    17. ভারতের রাষ্ট্রীয় ভাষাহিন্দি ।
    18. ভারতের প্রধান সংযোগ কারী ভাষা – ইংরেজি ।
    19. ভারতের সংবিধান স্বীকৃত ভাষা 22 টি ।
    20. ভারতের মোট জেলা সংখ্যা 683 টি ।
    21. সর্বাধিক জেলার সংখ্যাবিশিষ্ট রাজ্যউত্তরপ্রদেশ (72টি) ।
    22. সর্বনিম্ন জেলার সংখ্যাবিশিষ্ট রাজ্য সিকিম (4টি) ।
    23. অর্থনৈতিক রাজধানী ও ভারতের প্রবেশদ্বার মুম্বাই ।
    24. ভারতের সর্বাধিক সাক্ষরতার হারকেরালা ।
    25. ভারতের সর্বনিম্ন সাক্ষরতার হারবিহার ।
    26. ভারতের পূর্ব পশ্চিম দ্রঘিমারেখার মধ্যে সময়ের পার্থক্য 1 ঘন্টা 56 মিনিট বা প্রায় 2 ঘন্টা ।
    27. ভারতের উল্লেখযোগ্য প্রণালী

    উঃ –

    প্রনালী

    অবস্থান

    i) গ্রেট চ্যানেল আন্দামান ও নিকোবর, ইন্দোনেশিয়া
    ii ) 10° চ্যানেল আন্দামান ও নিকোবর
    iii) 9° চ্যানেল মিনিকয় ও লাক্ষাদ্বীপ
    iv) 8° চ্যানেল মালদ্বীপ ও মিনিকয়
    v) মান্নার উপসাগর ও পক প্রনালী ভারত ও শ্রীলঙ্কা
    1. দুন কাকে বলে ?

    উঃ – শিবালিক পর্বতের উত্তরে যে সমতল অনুদৈর্ঘ্য উপত্যকা সৃষ্টি হয়েছে উত্তরাখন্ডের স্থানীয় ভাষায় তাকে দুন বলে ।

    উৎপত্তি – শিবালিকের উত্থানের পরে হিমাদ্রি ও হিমাচল থেকে আগত নদীগুলি রুদ্ধ হয়ে হ্রদ সৃষ্টি করে এবং ক্ষতিয় পদার্থ জমা হতে থাকে । পরে নদীগুলি শিবালিক কেটে দক্ষিণে প্রবাহিত হলে এদের জল সরে গিয়ে প্রশস্ত সমভূমি গঠন করে ।

    উদাহরণ – দেরাদুন হল ভারতের বৃহত্তম দুন ।

    1. ছিটমহল কী ?

    উঃ – ইংরেজ শাসনের অবসানের পর ভারত ভাগের সময় 8 টি থানা (পঞ্চগর, ডিমলা, দেবীগঞ্জ, পাটগ্রাম, হাতিবাঁধা, লাল মনির হাট, ফুলবাড়ি ও ভূরাঙ্গামারি ) এলাকা পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে চলে যায় অর্থাৎ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং বাংলাদেশের কিছু ভূখন্ড ভারতে চলে আসে । এই জমিগুলি হল ছিটমহল ।

    1. কাশ্মীর উপত্যকা কাকে বলে ?

    উঃ – জম্বু কাশ্মীর রাজ্যের পিরপাঞ্চল ও জাস্কর পর্বতের মাঝে বিশ্ব বিখ্যাত হ্রদ সমভূমিকে কাশ্মীর উপত্যকা বলে ।

    বৈশিষ্ট্য

    i) এটি 135 কিমি দীর্ঘ 40 কিমি প্রশস্ত 4921 বর্গকিমি ক্ষেত্র যুক্ত ।

    ii) ডাল, উলার হ্রদ, বরফাবৃত শৃঙ্গ, পপলার চিনার বিক্ষেপ, নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য এটি ভূস্বর্গ নামে বিশ্ব বিখ্যাত ।

    উৎপত্তি – প্রাচীনকালে এখানে হ্রদ ছিল যা নদী ও হিমবাহ দ্বারা ভরাট হয়ে সমভূমিটি সৃষ্টি হয় । উপত্যকার 100 – 200 মিটার উঁচু ভূমিটিতে যে ধাপযুক্ত উর্বর পলিস্তর সৃষ্টি হয়েছে , তা কারেওয়া নামে পরিচিত । এতে জাফরান চাষ প্রসিদ্ধ ।

    1. আকসাইচিন কী ?

    উঃ – চিন অধিকৃত কাশ্মীরে কারকোরামের উত্তর -পূর্বে পর্বত বেষ্টিত উঁচু মালভূমি হল আকসাইচিন । উচ্চতা 4500 মিটারেরও বেশি । লবণাত্মক হ্রদ লিং জিটান আছে ।

    1. সোডা সমভূমি কী ?

    উঃ – জম্বু কাশ্মীরের উত্তর -পূর্বে আকসাইচিন মালভূমির উত্তরে প্রায় সমতল উচ্চভূমি হল সোডা সমভূমি । এটি চিন অধিকৃত ।

    1. মরুস্থলী শব্দের অর্থ কী ? এই প্রকার নামকরণের কারণ কী ?

    উঃ – ‘মরু’ শব্দের অর্থ মৃত ও ‘স্থলী’ শব্দের অর্থ দেশ । অর্থাৎ মৃতের দেশ ।

    এই মরুস্থলীটি ভারতীয় মরুভূমির সর্ব পশ্চিমে অবস্থিত । এই অঞ্চলে মাইলের পর মাইল জুড়ে ছড়িয়ে আছে ।শুধু বালি আর বালি । কোথাও সবুজের কোনো চিহ্ন নেই । অতি অল্প বৃষ্টিপাতের কারনে এই অঞ্চলে জীবনের অস্তিত্ব প্রায় নেই বলে এই অঞ্চলটির নাম মরুস্থলী বা মৃতের দেশ নামকরণ হয়েছে ।

    1. ডেকানট্র্যাপ কী ?

    উঃ – উপদ্বীপীয় মালভূমির উত্তর -পশ্চিমাংশে ব্যাসল্ট লাভা গঠিত ও পূর্বাংশে ধাপযুক্ত অঞ্চলকে ডেকানট্র্যাপ বলে ।

    উৎপত্তি – ক্রেটাসিয়াস থেকে ইয়োসিন যুগে কয়েককোটি বছর আগে বিদার অগ্ন্যুৎপাতে তরল ব্যাসল্ট লাভা চাদরের আকারে জমা হয়ে সৃষ্টি হয় ।

    বৈশিষ্ট্য –

    i) ক্ষেত্রমান প্রায় 5 লক্ষ বর্গকিমি ।

    ii) লাভা স্তর পূর্বে 150 মিটার থেকে পশ্চিমে 3000 মিটার গভীর ।

    iii) লাভা নির্গমনে বিরতির জন্য পূর্ব দিক সিঁড়ির মতো ধাপযুক্ত ।

    1. তাল কী ? উদাহরণ দাও ?

    উঃ – ক্ষুমায়ন হিমালয়ে হিমবাহ ক্ষয়কার্যের মাধ্যমে অসংখ্য অবনমিত অংশের সৃষ্টি হয় । পরবর্তীকালে এই অবনমিত অংশগুলিতে জল জমে হ্রদের সৃষ্টি হয় । এই হ্রদগুলিকে স্থানীয় ভাষায় তাল বলে ।

    যেমন – সাততাল, ভিমতাল, পুনাতাল, নৈনিতাল ।

    51. পূর্ব হিমালয় ও পশ্চিম হিমালয়ের মধ্যে পার্থক্য লেখ  ?

    উঃ –

    বিষয়

    পূর্ব হিমালয়

    পশ্চিম হিমালয়

    i) বিস্তার এটি সিঙ্গালীলা পর্বত থেকে নামচাবারওয়া শৃঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত । এটি নাঙ্গাপর্বত থেকে কালি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ।
    ii) শিবালিক পূর্ব হিমালয়ে শিবালিক পর্বতের অস্তিত্ব নেই । পশ্চিম হিমালয়ে শিবালিক পর্বতের অবস্থান সুস্পষ্ট ।
    iii) ঢাল দক্ষিণ থেকে উত্তরে উচ্চতা হঠাৎ বাড়ায় খাড়া ঢাল যুক্ত । দক্ষিণ থেকে উত্তরে উচ্চতা ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ায় মৃদু ঢাল ।
    iv) পর্বত এখানে পর্বত, শৃঙ্গ, হিমবাহের সংখ্যা খুব কম ।

    যথা – সিঙ্গালিলা, দার্জিলিং পর্বত, কাঞ্চনজঙ্ঘা, নামচা বারওয়া শৃঙ্গ।

    এখানেপর্বত, শৃঙ্গ, হিমবাহের সংখ্যা অনেক বেশি ।

    যথা – লাদাখ, কারাকোরাম, জাস্করপর্বত, k2, কামেট শৃঙ্গ।

    1. হিমালয় পর্বতমালাকে কী কী অঞ্চলে ভাগ করা হয় ?

    উঃ – দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয় পর্বত মালাকে 3টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়,

    যথা – i) পশ্চিম হিমালয়

    ii) মধ্য হিমালয়

    iii) পূর্ব হিমালয়

    প্রস্থ বরাবর হিমালয় পর্বত মালাকে 4 ভাগে ভাগ করা হয়,

    যথা – i) টেথিস হিমালয়

    ii) হিমাদ্রি হিমালয়

    iii) হিমাচল হিমালয়

    iv) শিবালিক হিমালয়

    1. দুন কাকে বলে ?

    উঃ – হিমালয়ের পাদদেশের অংশই শিবালিক । 10-50 কিমি প্রশস্ত ও গড়ে 600 মিটার উচ্চ অংশটি পূর্বে সৃষ্টি হওয়া হিমাদ্রি ও হিমাচল থেকে নদী প্রবাহিতপলি, বালি, প্রস্তর-কণা প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে গঠিত হয়েছে । শিবালিকের দক্ষিণ ঢাল খাড়া, উত্তর দিকের ঢাল ঢালু হয়ে নেমে গেছে সমতল উপত্যকায় । এগুলিকেই দুন বলে ।

    যেমন – দেহরাদুন (বৃহত্তম), রাজৌলি দুন, চৌখম্বা দুন, পতৌতি দুন । অঞ্চলগুলি উর্বর বলে কৃষি সমৃদ্ধ ।

    1. ভারত এশিয়ার দীর্ঘতম সুড়ঙ্গ কোথায় নির্মান করা হয়েছে ?

    উঃ – বানিহালে এশিয়ার দীর্ঘতম সুড়ঙ্গ জওহর টানেল নির্মান করা হয়েছে ।

    1. ভূস্বর্গ কাকে বলে ?

    উঃ – কোলাহোই পর্বত শৃঙ্গের পূর্বে হিন্দু দের তীর্থস্থান অমরনাথ গুহা অবস্থিত । এখানকার হিমাদ্রি ও পিরপাঞ্জালের মধ্যে 150 কিমি দীর্ঘ 380 কিমি প্রশস্ত কাশ্মীর উপত্যকাকে প্রাকৃতির সৌন্দের্যের জন্য তাকে ভূস্বর্গ বলে ।

    1. ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদের নাম লেখ ?

    উঃ – ডাল ও উলার মিষ্টি জলের হ্রদ ।

    1. ডোবা খোলা বা বাদুড়ের গুহা কাকে বলে ?

    উঃ – পূর্ব-পশ্চিমে 240 কিমি দীর্ঘ ও উত্তর-দক্ষিণে 97 কিমি প্রশস্ত । এখানকার গারো পাহাড় (সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নুরুরেক – 1,412 মিটার), খাসিয়া পাহাড় (সর্বোচ্চ শৃঙ্গ শিলং পাহাড় – 1,961 মিটার) ও জয়ন্তিয়া উল্লেখযোগ্য । এই মালভূমিতে পার্বত্য গুহা আছে । গারো পাহাড়ের সিজু (1,900 মিটার দীর্ঘ), গুহাটি বিখ্যাত । একে স্থানীয় ভাষায় ডোবা খোলা বা বাদুড়ের গুহা বলে ।

    1. ঘগগর কাকে বলে ?

    উঃ – ঘগগর :- ভারতের মরু অঞ্চলটি পাঞ্জাব সমভূমির দক্ষিণে রাজস্থান রাজ্যের আরাবল্লি পর্বতের পশ্চিমে অবস্থিত । এটি সিন্ধু-গঙ্গা সমভূমির শুষ্ক অঞ্চল । এক সময় শতদ্রু, সরস্বতী, দৃশদবতী নদী এখানে প্রবাহিত ছিল । সরস্বতী নদীর শুষ্ক খাত এখনও রয়েছে । একেই ঘগগর বলে ।

    1. ভূপ্রকৃতি অনুসারে মরু অঞ্চলকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী ?

    উঃ – শ্রেণিবিভাগ – ভূপ্রাকৃতিক তারতম্য অনুসারে মরু সমভূমিকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা-

    i) বাগর :- মরুভূমির পুর্বদিকে আরাবল্লি পর্বতের পাদদেশের অংশটি বাগর নামে পরিচিত ।

    ii) রোহি :- আরাবল্লির পশ্চিমের নদীবিধৌত উর্বর প্লাবনভূমি অঞ্চল হল রোহি ।

    iii) ক্ষুদ্র মরু :- রোহির পশ্চিম প্রান্তের অংশ হল ক্ষুদ্র মরু অঞ্চল ।

    iv) হামাদা :- ক্ষুদ্র মরুর পশ্চিম প্রান্তে বালি ও শিলাখন্ড দ্বারা গঠিত অঞ্চল হল হামাদা ।

    v) মরুস্থলী :- হামাদার পশ্চিমের অঞ্চলটি সম্পূর্ণ বালুকাময়, রুক্ষ ও উদ্ভিদহীন অঞ্চল । এটিই হল আসল থর মরুভূমি । মরুস্থলীতে বহু বালিয়াড়ি দেখা যায় । এগুলিকেই ধ্রিয়ান বলে । ধ্রিয়ান শব্দের অর্থ অস্থিতিশীল বা চলমান ।

    1. বীহড় কাকে বলে ?

    উঃ – পূর্ব রাজস্থান উচ্চভূমির পুর্বে অবস্থিত অঞ্চলটি উত্তর -পূর্বে ঢালু । চম্বল এখান কার প্রধাননদী । চম্বল অঞ্চলের এবড়ো খেবড়ো ভূমিকে বীহড় বলে ।

    1. ময়দান বা মালনাদ কাকে বলে ?

    উঃ – মহারাষ্ট্র মালভূমির দক্ষিণে এই মালভূমি অবস্থিত । এই মালভূমির উত্তর-পূর্বাংশ কিছুটা কম উচ্চ । একে ‘ময়দান’ বলে । কর্ণাটক মালভূমির দক্ষিণ ও পশ্চিমাংশ অধিক উচ্চ । একে ‘মালনাদ’ বলে ।

    1. নীলগিরির কুন্ডা কাকে বলে ?

    উঃ – পূর্বঘাট, পশ্চিম ঘাট ও দক্ষিণ ঘাট পর্বত শ্রেণীর মিলন ক্ষেত্রে নীলগিরি অবস্থিত । দোদাবেতা, মাকুর্তি নীলগিরির প্রধান শৃঙ্গ । নীলগিরির দক্ষিণ-পশ্চিমাংশকে কুন্ডা বলে ।

    1. দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী ?

    উঃ – পশ্চিম ঘাটের আনাইমুদি ।

    1. পূর্ব উপকূল সমভূমিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী ?

    উঃ – পূর্ব উপকূল সমভূমিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যথা –

    i) উত্তর সরকার উপকূল

    ii) করমণ্ডল উপকূল

    i) উত্তর সরকার উপকূল :- এই উপকূলের উত্তরাংশের সুবর্ণ রেখার মোহনা থেকে কৃষ্ণা নদীর মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলকে উত্তর সরকার উপকূল বলে ।

    ii) করমণ্ডল উপকূল :- এই উপকূল কৃষ্ণা নদীর মোহনা থেকে কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত বিস্তৃত দক্ষিণাংশের উপকূলকে করমণ্ডল উপকূল বলে ।

    1. থেড়িস কাকে বলে ?

    উঃ – পুলিকট হ্রদ থেকে কন্যাকুমারীকা অন্তরীপ পর্যন্ত বিস্তৃত । উপকূলটি 100 কিমি চওড়া । এখানে কাবেরী নদীর বদ্বীপ আছে । এই উপকূলে বহু বালিয়াড়ি দেখা যায় । এগুলিকে স্থানীয় ভাষায় থেড়িস বলে ।

    1. কয়াল কাকে বলে ?

    উঃ – কেরল রাজ্যের এই উপকূল গড়ে 25 কিমি প্রশস্ত এখানে শৈলশিরা দেখা যায় । এখানে বহু লেগুন বা ব্যাকওয়াটার দেখা যায় । স্থানীয় ভাষায় এগুলিকে কয়াল বলে । এখানে ভেম্বানাথ কয়াল বিখ্যাত ।

    1. পূর্ব উপকূল সমভূমি ও পশ্চিম উপকূল সমভূমির মধ্যে পার্থক্য লেখ

    উঃ – পূর্ব উপকূল সমভূমি ও পশ্চিম উপকূল সমভূমির মধ্যে পার্থক্য –

    বিষয়

    পূর্ব উপকূল সমভূমি

    পশ্চিম উপকূল সমভূমি

    i) বিস্তার পূর্ব উপকূল সমভূমি চওড়া (গড় বিস্তার 100 – 200 কিমি)। পশ্চিম উপকূল সমভূমি সংকীর্ণ (গড় বিস্তার 60 – 75 কিমি)।
    ii) দৈর্ঘ্য পূর্ব উপকূল কম দীর্ঘ (1500 কিমি) পশ্চিম উপকূল তুলনা মূলক বেশি (2500 কিমি)
    iii) হ্রদ ও উপহ্রদ হ্রদ ও উপহ্রদের সংখ্যা কম (তবে চিল্কা হ্রদ উল্লেখযোগ্য) হ্রদ ও উপহ্রদের সংখ্যা বেশি (স্থানীয় নাম কয়াল)
    iv) বদ্বীপ মহানন্দা, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী নদীতে বদ্বীপ আছে । নর্মদা ও তাপ্তি নদীতে বদ্বীপ সৃষ্টি হয়নি ।
    v) সমুদ্র বন্দর উপকূল ভগ্ন নয় বলে বন্দরের সংখ্যা কম । উপকূল ভগ্ন বলে বন্দরের সংখ্যা বেশি ।
    1. ভূপ্রাকৃতিক বিভাগ সমূহের গুরুত্ব আলোচনা কর ?

    উঃ – ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এগুলি হল –

    i) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের গুরুত্ব :-

    a) উত্তর ভারতের প্রায় সমস্ত নদীই এই পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়েছে এবং এদের পলি দিয়েই ভারতের বিশাল সমভূমি গঠিত হয়েছে ।

    b) হিমালয়ের বনভূমি ভারতের সম্পদ ।

    ii) উত্তরের সমভূমি অঞ্চলের গুরুত্ব :-

    a) সমভূমি বলে পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ।

    b) নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে বহু শহর-নগরের বিস্তার ঘটেছে ।

    iii) উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলের গুরুত্ব :-

    a) মালভূমি বলে উপদ্বীপীয় নদীগুলির খরস্রোত; জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী ।

    b) লাভা গঠিত কালো মাটি তুলা, গম ও আখ চাষের উপযোগী ।

    iv) উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চলের গুরুত্ব :-

    a) পূর্ব উপকূল প্রশস্ত ও পলিগঠিত । ফলে কৃষি সহায়ক অধিবাসীর কৃষি জীবি ।

    b) পূর্ব উপকূলের নদীগুলি নাব্য বলে পরিবহন ও মৎস্য শিকারের উপযোগী ।

    v) দ্বীপপুঞ্জ অঞ্চলের গুরুত্ব :-

    a) আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বিশাল বনভূমিতে কাষ্ঠ সম্পদ আহরন ও কাষ্ঠ শিল্পের সঙ্গে বহু লোক নিযুক্ত ।

    b) দ্বীপপুঞ্জে প্রচুর নারকেল গাছ থাকায় এর সঙ্গে বহু লোক যুক্ত ।

    1. বেট কাকে বলে ?

    উঃ – পূর্বে যমুনা ও পশ্চিমে শতদ্রু নদীর মধ্য ভাগে পাঞ্জাব সমভূমি অবস্থিত । শতদ্রু ও ইরাবতী নদী বাহিত পলি সঞ্চয়ে এই সমভূমিটির উৎপত্তি হয়েছে । পাঞ্জাব সমভূমির নবীন পলি মৃত্তিকা বেট নামে পরিচিত ।

    1. ভাঙর ও খাদেরের মধ্যে পার্থক্য লেখ

    উঃ – ভাঙর ও খাদেরের মধ্যে পার্থক্য :-

    পার্থক্যের বিষয়

    ভাঙর

    খাদার

    i) অবস্থান উচ্চ গঙ্গা সমভূমির নদী থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের পলি গঠিত কিছুটা উঁচু সমতল ভূমি । উচ্চ গঙ্গা সমভূমির নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের পলি গঠিত কিছুটা নীচু সমতল ভূমি ।
    ii) প্রাচীনত্ব এই পলি মাটি বয়েসে প্রাচীন । এই পলিমাটি বয়েসে নবীন ।
    iii) উপাদান এই মাটিতে চুন জাতীয় পদার্থ বেশি থাকে । এই মাটিতে বালির ভাগ বেশি থাকে ।
    iv) উর্বরতা এই মাটির উর্বরতা কম । এই মাটির উর্বরতা বেশি ।
    v) বন্যা ও পলি সঞ্চয় বন্যার প্রকোপ কম বলে এখানে পলি সঞ্চয়ের পরিমাণ ও কম । বন্যার প্রকোপ বেশি বলে প্রতিবছর বন্যায় এখানে নতুন পলি সঞ্চয় ঘটে
    vi) পরিচিতি উত্তরপ্রদেশে ‘খাদার’ এবং পাঞ্জাবে ‘ধায়া’। পাঞ্জাবে ‘বেট’।
    1. উত্তরের সমভূমি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও

    উঃ – উত্তরের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল ও দক্ষিণের উপদ্বীপীয় মালভূমির মধ্য ভাগে অবস্থান করেছে উত্তরের বিশাল সমভূমি । সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র নদী অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই সমভূমিটি ভারত তথা বিশ্বের বৃহত্তম সঞ্চয়জাত সমভূমি ।

    ভূপ্রকৃতি – ভূপ্রকৃতি সমতল ও বৈচিত্রহীন । ভূপ্রকৃতির তারতম্য অনুসারে পূর্বে এই অঞ্চল ভাবর, তরাই, ভাঙ্গর, খাদার এই চার ভাগে ভাগ করা হত ।

    শ্রেণি বিভাগ – ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে উত্তরের সমভূমি অঞ্চলকে চারটি ভাগে ভাগ কারা হয়, যথা –

    i) ব্রহ্মপুত্র সমভূমি :- সমগ্র অসম রাজ্যে ব্রহ্মপুত্র নদ ও তার উপনদীর পলি জমে এই সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে । দৈর্ঘ্য প্রায় 750 কিমি, বিস্তার 80 কিমি । এখানে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে পৃথিবীর বৃহত্তম নদী মধ্যবর্তী মাজুলি দ্বীপে গড়ে উঠেছে ।

    ii) গঙ্গা সমভূমি :- যমুনা নদী থেকে বাংলাদেশ সীমানা পর্যন্ত উত্তরে সমভূমির বৃহৎ অঞ্চলটি উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত । আয়তন প্রায়75 লক্ষ বর্গকিমি । গঙ্গা সমভূমিকে তিনটি উপ-অঞ্চলে ভাগ করা হয়, যথা –

    গঙ্গা সমভূমি

    উচ্চ গঙ্গা সমভূমি

    মধ্য গঙ্গা সমভূমি

    নিম্ন গঙ্গা সমভূমি

    পশ্চিমে যমুনা নদী থেকে পূর্বে এলাহাবাদ পর্যন্ত বিস্তৃত । এই সমভূমি গঙ্গা যমুনা দোয়াব, রোহিল খন্ড সমভূমি, অযোধ্যা ও যমুনা পার সমভূমি নিয়ে গঠিত । এলাহাবাদ থেকে পূর্বে রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত মধ্য গঙ্গা সমভূমি প্রায় 600 কিমি দীর্ঘ, উচ্চতা 100 মিটার । এখানে ভাঙ্গার ও খাদার রয়েছে । রাজমহল পাহাড় থেকে বঙ্গোপসাগর মোহনা পর্যন্ত দার্জিলিং ও পুরুলিয়া বাদে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে সমভূমিটি বিস্তৃত ।

    iii) পাঞ্জাব সমভূমি :- পূর্বে যমুনা নদী থেকে পশ্চিমে শতদ্রু ও বিপাশা নদীর অববাহিকা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সমভূমি সিন্ধুর উপনদী বিতস্তা, ইরাবতী, বিপাশা, চন্দ্রভাগা ও শতদ্রুর পলি সঞ্চয়ে গঠিত ।

    বৈশিষ্ট্য

    a) দোয়াব – এখানকার নদী মধ্যবর্তী সমভূমিকে দোয়াব বলে ।

    b) ধায়া ও বেট – প্রাচীন প্লাবন সমভূমিকে ধায়া ও নবীন গঠিত অঞ্চলকে বেট বলে ।

    c) খোস বা চোস – উত্তরের ক্ষয়প্রাপ্ত অঞ্চলকে খোস বা চোস বলে ।

    iv) ভারতীয় মরু সমভূমি :- ভারতের পশ্চিমে রাজস্থান রাজ্যের পশ্চিম দিকে থর মরুভূমির ভারতের অংশটি ভারতীয় মরু বা মরুস্থলী বা মৃতের দেশ নামে পরিচিত । বালি, পাথর, কাঁকড় পূর্ণ এই অঞ্চলের আয়তন প্রায়75 লক্ষ বর্গকিমি । অঞ্চলটি ক্ষুদ্র পাঁচটি উপঅঞ্চলে বিভক্ত ।

    যথা – a) বাগার – একেবারে পূর্বপ্রান্তে আরাবল্লি পর্বতের পাদদেশে স্বল্প পলি যুক্ত তৃণ অঞ্চল হল বাগার ।

    b) রোহি – আরাবল্লির পশ্চিমাংশে যে প্লাবন ভূমি সেটিই রোহি ।

    c) থালি – রোহির পশ্চিমাংশে সংকীর্ণ বালিময় সমভূমি হল থালি ।

    d) হামাদা – শিলা বা প্রস্তরময় মরু ভূমি হামাদা ।

    e) আর্গ – পশ্চিম সীমান্তে বালুকা ময় মরুভূমি হল আর্গ ।

    1. প্রস্থ অনুযায়ী হিমালয়ের শ্রেণিবিভাগ করে যে কোনো দুটি ভাগের বিবরণ দাও ?

    উঃ – হিমালয় পর্বতটি বিভিন্ন উচ্চতার চারটি সমান্তরাল পর্বত শ্রেণির সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে । দক্ষিণ থেকে উত্তরে বা প্রস্থ বরাবর চারটি পর্বতশ্রেণি হল –

    i) শিবালিক হিমালয়

    ii) হিমাচল হিমালয় বা অবহিমালয়

    iii) হিমাদ্রি বা উচ্চ হিমালয়

    iv) টেথিস হিমালয় বা তিব্বতীয় হিমালয়

    টেথিস হিমালয় :- বাংলায় একে হিমালয় ওর অঞ্চল বলে । হিমাদ্রির উত্তরে ট্রান্স বা টেথিস বা তিব্বতীয় হিমালয় অবস্থিত ।

    বৈশিষ্ট্য

    a) উৎপত্তি কাল – আজ থেকে প্রায় 7 কোটি বছর আগে উৎপত্তি হয় ।

    b) বিস্তার ও উচ্চতা – প্রকৃত পক্ষে এটি তুষার মালভূমি । প্রস্থ প্রায় 40 কিমি, দৈর্ঘ্য প্রায় 1000 কিমি এবং গড় উচ্চতা 5500-6000 মিটার ।

    c) উল্লেখযোগ্য পর্বত শৃঙ্গ – এই অংশে জাস্কর পর্বত শ্রেণি অবস্থিত । এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ লিওপারগেল । এছাড়া ও লাদাখ, কৈলাস ও কারাকোরাম পর্বতশ্রেণি এবং আখসাইচিন মালভূমি আছে ।

    হিমাদ্রি হিমালয় :- হিমাচল হিমালয়ের উত্তরে অবস্থান করেছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশ্রেণি হিমাদ্রি বা উচ্চ হিমালয় বা হিমগিরি । এটি মূলত গ্রানাইট ও নীস শিলা দ্বারা গঠিত ।

    বৈশিষ্ট্য

    a) উৎপত্তি কাল – প্রায় 7-12 কোটি বছর আগে ।

    b) বিস্তার ও গড় উচ্চতা – গড় বিস্তার 25 কিমি, গড় উচ্চতা 6000 মিটারের ও বেশি ।

    c) উল্লেখযোগ্য পর্বত শৃঙ্গ – পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট, তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্জনজঙ্ঘা, মাকালু, ধবলগিরি, নন্দাদেবী, কামেট প্রভৃতি উচ্চতম শৃঙ্গগুলি অবস্থিত ।

    1. ভারতের উপকূলীয় সমভূমির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও

    উঃ – উপদ্বীপীয় মালভূমির দু-পাশে উপকূল বরাবর যে সংকীর্ণ উপকূল সমভূমি গড়ে উঠেছে, তাকে উপকূলীয় সমভূমি বলা হয় । এই উপকূলীয় সমভূমিকে 2 ভাগে ভাগ করা হয়, যথা –

    i) পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি :– এই সমভূমির প্রধান তিনটি বিভাগ রয়েছে, যথা –

    a) উপকূল সমভূমি – ওড়িশায় মূলত মহানদীর বদ্বীপ অংশে প্রায় 400 কিমি দীর্ঘ এই সমভূমি দেখা যায় ।

    b) অন্ধ্র সমভূমি – উৎকল সমভূমির দক্ষিণে ও পুলিকট হ্রদ পর্যন্ত বিস্তৃত ।

    c) তামিলনাড়ু সমভূমি – পুলিকট হ্রদ থেকে কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত বিস্তৃত । একে দক্ষিণ ভারতের শষ্য ভান্ডার বলা হয় ।

    ii) পশ্চিম উপকূলের সমভূমি :- এই সমভূমির প্রধান ছয়টি ভাগ রয়েছে, যথা –

    a) কচ্ছের রণ – গুজরাটের উত্তরে প্রায় 73600 বর্গকিমি স্থান জুড়ে অবস্থিত । অগভীর জলাভুমি রণ নামে পরিচিত ।

    b) কচ্ছ উপদ্বীপ – রণের দক্ষিণে কচ্ছ উপদ্বীপ অবস্থিত । কচ্ছ শব্দের অর্থ হল জলময় দেশ ।

    c) কাথিয়া বাড় উপদ্বীপ – কচ্ছ উপদ্বীপের দক্ষিণাংশে এই অঞ্চল অবস্থিত । এখানে গির, গিরনার, ওসম প্রভৃতি পাহাড় দেখা যায় ।

    d) গুজরাট সমভূমি – কাথিয়া বাড়ের দক্ষিণে সবরমতী, মাহি, নর্মদা নদী বাহিত পলি দ্বারা এই সমভূমি গঠিত ।

    e) কোঙ্কন উপকূল সমভূমি – গুজরাট সমভূমি থেকে দক্ষিণে গোয়া পর্যন্ত এই সমভূমি 500 কিমি দীর্ঘ এই সমভূমি খুবই ভগ্ন ও সংকীর্ণ ।

    f) কর্ণাটক উপকূলীয় সমভূমি – গোয়া থেকে ম্যাঙ্গালর পর্যন্ত এই সমভূমিটি বিস্তৃত ।

    1. পশ্চিম হিমালয়ের ভূপ্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও ।

    উঃ – পশ্চিম হিমালয় :- এই হিমালয় পশ্চিমে নাঙ্গা পর্বত থেকে পূর্বে নেপালের পশ্চিম সীমানায় অবস্থিত কালি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত । পশ্চিম হিমালয়কে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায় ।

    যথা –

    i) কাশ্মীর হিমালয় – জম্বু ও কাশ্মীরের প্রায় 5 লক্ষ বর্গ কিমি জুড়ে এর অবস্থান ।

    a) শিবালিকের জম্বু ও পুঞ্চ পাহাড়, b) পিরপাঞ্চাল, c) জাস্কর পর্বত, d) লাডাক, ও e) কারাকোরাম পর্বত শ্রেণি কাশ্মীর হিমালয়ে অবস্থিত ।

    ii) পাঞ্জাব ও হিমাচল হিমালয় – পাঞ্জাব ও হিমাচল প্রদেশের প্রায় 64 হাজার বর্গ কিমি জুড়ে এই হিমালয় অবস্থিত । ধাওলাধার, নাগটিব্বা, মুসৌরি এখানকার প্রধান শৈলশিরা ।

    iii) কুমায়ুন হিমালয় – উত্তরাখন্ডে রাজ্যের প্রায় 4600 বর্গ কিমি জুড়ে এটি অবস্থান করেছে । এখানকার প্রধান পর্বত শ্রেণি হল – শিবালিক, হিমাচল ও হিমাদ্রি । শিবালিক ও হিমাচলের মাঝে দুন উপত্যকা অবস্থিত । এখানে যে সব হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ দেখা যায় তাদের তাল বলে ।

    যেমন – নৈনিতাল, ভীমতাল, সাততাল ও পুনাতল প্রভৃতি ।

    1. দাক্ষিণাত্য মালভূমির অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য লেখ । / দাক্ষিণত্য মালভূমির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও । / দাক্ষিণাত্য মালভূমির ভূপ্রকৃতি আলোচনা কর ।

    উঃ – দাক্ষিণাত্য মালভূমি :- উত্তরে বিন্ধ্য পর্বত, পূর্বে পূর্ব ঘাট পর্বত ও পশ্চিমে পশ্চিম ঘাট পর্বত দ্বারা বেষ্টিত মালভূমি অঞ্চলটি দাক্ষিণাত্য মালভূমি নামে পরিচিত । ভারতের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন এই ভূখন্ডটি গন্ডোয়ানা ল্যান্ডের অংশ বিশেষ । এই অঞ্চলকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে । যথা-

    i) পার্বত্য অংশ – এই অঞ্চলকে আবার 3 ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথা –

    a) উত্তরের পার্বত্য সমূহ – এই পর্বত শ্রেণির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ অমর কন্টক (1057 মিটার) ।

    b) পশ্চিমঘাট পর্বত বা সহ্যাদ্রি – এই পর্বত শ্রেণির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ভাভুলমালা (2339 মিটার) ।

    c) পূর্বঘাট পর্বত বা মলয়াদ্রি – এই পর্বত শ্রেণির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বিলিগির রঙ্গন (1750 মিটার) ।

    ii) মালভূমি অংশ – দাক্ষিণাত্য অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য মালভূমি গুলি হল –

    a) মহারাষ্ট্র মালভূমি – মহারাষ্ট্রের ব্যাসল্ট শিলায় গঠিত বিশাল মালভূমি অঞ্চলটি ডেকান্ট্র্যাপ নামে পরিচিত ।

    b) কর্ণাটক মালভূমি – ডেকান্ট্র্যাপের দক্ষিণে অবস্থিত এই ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির গড় উচ্চতা 450 মিটার ।

    c) তেলাঙ্গানা মালভূমি – কর্ণাটক মালভূমির পূর্বে অন্ধ্রপ্রদেশের এই মালভূমিটি প্রধানত নীস শিলাদ্বারা গঠিত ।

    দাক্ষিণাত্য মালভূমির বৈশিষ্ট্য :-

    i) এটি প্রাচীন গন্ডোয়ানা শিন্ডের অবশিষ্ট্যাংশ,

    ii) প্রাচীন ও কঠিন গ্রানাইট, ব্যাসল্ট ও নিস শিলা দ্বারা গঠিত ।

    iii) মালভূমিটি উত্তর – পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ পূর্ব দিকে ঢালু এবং উত্তর – দক্ষিণে প্রায় 1700 কিমি দীর্ঘ,

    iv) গড় উচ্চতা প্রায় 600 মিটারের কাছাকাছি,

    v) এটি প্রধানত ক্ষয়প্রাপ্ত ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি ।

  • ভারত এর প্রাকৃতিক পরিবেশ (অধ্যায় ৫.১ )

    ভারতএর প্রাকৃতিক পরিবেশ

    অবস্থান ও প্রশাসনিক বিভাগ

    1. অবস্থান :-

    অক্ষ্যাংশগত অবস্থান :
    ভারত দক্ষিনে 8°4′ উত্তর অক্ষ্যাংশ (কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ) থেকে উত্তরে 37°6′ উত্তর অক্ষ্যাংশ (কাশ্মীরের ইন্দিরা কল) পর্যন্ত বিস্তৃত । অক্ষ্যাংশগত ভাবে ভারত উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত ।

    দ্রাঘিমাগত অবস্থান :
    ভারত পশ্চিমে 68°7′ পূর্ব দ্রাঘিমা (গুজরাটের গূহার মোটার ) থেকে 97°25′ পূর্ব দ্রাঘিমা (আরুনাচল প্রদেশের কিবিথু) পর্যন্ত বিস্তৃত । দ্রাঘিমাগত দিক থেকে পূর্ব গোলার্ধে অবস্থিত ।

    1. সীমানা :-
      ভারতের উত্তরে হিমালয় পর্বত এবং চিন, নেপাল, ভূটান অবস্থিত । ভারতের পশ্চিমে পাকিস্তান ও আরব সাগর এবং দক্ষিনে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও ভারত মহাসাগর । পূর্বে মায়ান্মার,বাংলাদেশ এবং বঙ্গোপসাগর অবস্থিত ।
    2. উপদ্বীপ কাকে বলে ?

    উপদ্বীপ :-
    তিনদিক জলভাগ দ্বারা বেষ্টিত স্থলভাগকে উপদ্বীপ বলে । যেমন- ভারত হলো একটি উপদ্বীপ, কারন ভারতের তিনদিকে রয়েছে 3 টি সাগর (পূর্বে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে আরব সাগর এবং দক্ষিনে ভারত মহাসাগর) । ভারত পৃথিবীর বৃহত্তম উপদ্বীপ ।

    1. উপসাগর :
      তিনদিক স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলভাগকে উপসাগর বলে । যেমন – খাম্বাত, কচ্ছ, উপসাগর ইত্যাদি ।
    2. ভারতের রাজ্যসমূহের পুনর্গঠনের প্রধান ভিত্তি কী ছিল ?

    ♦ ভারতের রাজ্য পুনর্গঠনের প্রধান ভিত্তি গুলি হল – i) ভাষা ii) সংস্কৃতি iii) প্রশাসনিক দক্ষতাবৃদ্ধি iv) অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা v) প্রাকিতিক ও ভৌগোলিক সাদৃশ্য ।

    1. বিস্তার :-
      কাশ্মীর – কন্যাকুমারী উত্তর দক্ষিনে 3214 km এবং গুজরাট – আরুনাচল প্রদেশ পূর্ব –পশ্চিমে 2933 km বিস্তৃত ।
    2. SAARC( সার্ক) :-
      South Asian Association for Regional Co-operation বা দক্ষিনে এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা পরিষদ ।

    স্থাপন :
    8 ডিসেম্বর 1985 সাল ।

    সদস্য দেশ :
    ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ । 8 টি দেশ মিলে এটি গঠিত হয় ।

    সদরদপ্তর :-

    নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ।

    1. ভারতের প্রতিবেশী দেশ :
      9 টি । পাকিস্তান, আফগানিস্তান, চিন, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ ।
    2. ভারতীয় উপমহাদেশ :-
      এশিয় মহাদেশের দক্ষিনাংশে ভারতসহ পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ভূ-প্রাকৃতিক, জলবায়ু, আর্থ সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সাদৃশ্য দেখা যায় । 6 টি দেশের মধ্যে একেবারে মধ্যভাগে অবস্থিত ভারতের ক্ষেত্রে মান, জনসংখ্যা এবং প্রভাব প্রতিপত্তি সবচেয়ে বেশি । ভারত হল এই অঞ্চলটির মূল চালিকা শক্তি । তাই এই অঞ্চলটিকে ভারতীয় উপমহাদেশ বলা হয় ।
    3. ভারতের উল্লেখযোগ্য প্রনালী :-
    প্রনালী অবস্থান
    গ্রেট  চ্যানেল আন্দামান ও নিকোবর, ইন্দোনেশিয়া
    10 চ্যানেল আন্দামান ও নিকোবর
    9 চ্যানেল মিনিকয় ও লাক্ষাদ্বীপ
    8 চ্যানেল মালদ্বীপ ও মিনিকয়
    মান্নার উপসাগর ও পক প্রণালী ভারত ও শ্রীলংকা
    1. ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সীমানারেখা :
    সীমান্ত রেখা কোন কোন দেশের মধ্যে অবস্থিত
    ম্যাকমোহন লাইন অরুণাচল প্রদেশে – ভারত ও চিন
    র‍্যাডক্লিফ লাইন ভারত ও পাকিস্তান
    LOC( Line of Control ) ভারত – পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর
    24 তম প্যরালাল ভারত – পাকিস্তান (পাকিস্তান দাবি করে )
    28 তম প্যরালাল ভারতীয় কাশ্মীর – পাক অধিকৃত কাশ্মীর
    ডুরান্ড লাইন ভারত ও আফগানিস্তান
    LAC (Line of Actual Control) ভারত ও চিন অধিকৃত কাশ্মীর
    IB (International Border) ভারত ও বাংলাদেশ
    1. রাজ্য পুনর্গঠনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস :
    1957 অসম থেকে নাগাল্যান্ড কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন ।
    1960 বোম্বাই ভেঙে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট রাজ্য গঠন ।
    1961 গোয়া, দমন ও দিউ এবং পদুচেরী কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন ।
    1964 নাগাল্যান্ড রাজ্য গঠন ।
    1966 পাঞ্জাব ভেঙে হরিয়ানা রাজ্য ও চণ্ডীগড় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন ।
    1969 অসম থেকে মেঘালয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন ।
    1970 হিমাচল প্রদেশ রাজ্য গঠন ।
    1971 ত্রিপুরা, মনিপুর ও মেঘালয় রাজ্য গঠন ।
    1975 সিকিম রাজ্য গঠন । (1976 ) মিজোরাম রাজ্য গঠন ।
    1987 অরুণাচল প্রদেশ ও গোয়া রাজ্য গঠন ।
    1993 দিল্লি জাতীয় রাজধানী গঠন ।
    2000 মধ্যপ্রদেশ ভেঙে ছত্তিসগড়, উত্তরপ্রদেশ ভেঙে উত্তরাখন্ড, বিহার ভেঙে   ঝাড়খন্ড ।
    2014 অন্ধ্রপ্রদেশ ভেঙে তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন ।
    1. গুরুত্বপূর্ন তথ্য :

    i) নবীনতম অঙ্গরাজ্য – তেলেঙ্গানা ।

    ii) অঙ্গরাজ্যগুলির মধ্যে বৃহত্তম – a) আয়তনে – রাজস্থান, b) জনসংখ্যায় – উত্তরপ্রদেশ, c) জনঘনত্বে – বিহার ।

    iii) অঙ্গরাজ্যগুলির মধ্যে ক্ষুদ্রতম – a) আয়তনে – গোয়া, b) জনসংখ্যায় – সিকিম, c) জনঘনত্বে – অরুনাচল প্রদেশ ।

    iv) কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে বৃহত্তম – a) আয়তনে – জম্মু ও কাশ্মীর, b) জনসংখ্যায় ও জনঘনত্বে দিল্লি ।

    v) কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে ক্ষুদ্রতম – a) আয়তনে ও জনসংখ্যায় – লাক্ষাদ্বীপ, b) জনঘনত্বে – আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ।

    vi) ভারতের প্রধান ভাষাভিত্তিক রাজ্য – অন্ধ্রপ্রদেশ ।

    1. বর্তমানে ভারতে অঙ্গরাজ্য – 28 টি ।
    2. বর্তমানে ভারতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল – 7 টি ।
    3. ভারতের প্রান্তবিন্দু

    i) ভারতের পশ্চিমতম প্রান্তবিন্দু হল – গুজরাটের গুহার মোটার (মোতি গ্রাম)।

    ii) ভারতের পূর্বতম প্রান্তবিন্দু হল – আরুনাচল প্রদেশের কিবিথু।

    iii) ভারতের উত্তরতম প্রান্তবিন্দু হল – জম্মু ও কাশ্মীর -এর পূর্বে কারাকোরাম পর্বত শ্রেণীর ইন্দিরা কল ।

    iv) ভারতের দক্ষিনতম প্রান্তবিন্দু হলআন্দামান ও নিকোবর দ্বিপপুঞ্জের ইন্দিরা পয়েন্ট ।

    v) ভারতের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিনতম বিন্দু – তামিলনাড়ুর কন্যা-কুমারিকা অন্তরীপ ।

    1. ভারতের সর্ববৃহৎ প্রতিবেশী দেশ – চীন ।
    2. ভারতের সর্বাপেক্ষা ছোট প্রতিবেশী দেশ – মালদ্বীপ ।
    3. কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল চণ্ডীগড় – ভারতে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যের রাজধানী ও চণ্ডীগড় এর রাজধানী । চণ্ডীগড় ভারতে 3 টি জায়গার রাজধানী ।
    4. আয়তনের বিচারে ভারতের পৃথিবীতে স্থান – সপ্তম ।
    5. ভারতের প্রামান্য দ্রাঘিমারেখা হল – 82°30′ পূর্ব ।
    6. ভারতের রাজ্য পূনর্গঠনের মুল ভিত্তি হলভাষা ।
    7. ভারতে রাজ্য পুনর্গঠন পরিষদের সুপারিশ প্রথম কার্যকরী হয়1956 সালে ।
    8.  ভারতের প্রবেশ দ্বার বলা হয়মুম্বাই কে ।
    9.  ভারতে আর্ন্তজাতিক সিমারেখা সর্বাধিক – বাংলাদেশের সঙ্গে ।
    10. ভারতের সংবিধান স্বীকৃত ভাষা – 22 টি ।
    11. ভারতে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন তৈরি হয় – 1953 সালে ।
    12. ভারতের মশলার বাগান নামে পরিচিত– কেরল ।
    13. এশিয়ার ডিমের ঝুড়িনামে পরিচিত – অন্ধ্রপ্রদেশ ।
    14. পঞ্চনদের দেশবলা হয় – পাঞ্জাব কে ।
    15. আপেলের রাজ্যবলা হয় – হিমাচল প্রদেশকে ।
    16. ভারতের সুইজারল্যান্ডবলা হয় – কাশ্মীর ।
    17. ভূস্বর্গবলা হয় – কাশ্মীর কে ।
    18. কর্কটক্রান্তিরেখা (Tropic of Cancer) ভারতের যে রাজ্যের উপর দিয়ে গিয়েছে – গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মিজোরাম ।
    19. সর্বাধিক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সীমা স্পর্শকারী রাজ্য

    ♦ পশ্চিমবঙ্গ নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ ।

    ♦ অরুনাচল প্রদেশ – ভুটান, চিন ও মায়ানমার ।

    1. ভারতের সবচেয়ে কম সীমানা স্পর্শকারী রাজ্য – সিকিম ।
    2. প্রনালী
      দুটি স্থলভাগ যে সংকীর্ণ জলভাগ দ্বারা বিচ্ছিন্ন থাকে তাকে প্রণালী বলে । যেমন –পক প্রনালী ।
    3. NFFA (North East Frontier Agency) উত্তর পূর্ব সীমান্ত অঞ্চল
      সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলি নিয়ে গঠিত অঞ্চল উত্তর পূর্ব ভারতের সিমান্তবর্তী রাজ্যগুলি নিয়ে গঠিত অঞ্চল উত্তর পূর্ব সীমান্ত অঞ্চল নামে পরিচিত ।
    4. করিডর (Corridor)
      দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে যখন কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য একটি দেশের অভ্যন্তরে অন্যদেশকে তার এলাকা বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হয় তাকে করিডর বলে ।
  • বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (অধ্যায় ৪)

    বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

    1. পৃথিবীর সবচেয়ে দূষণযুক্ত দেশ – চিন।
    2. ভারতে বিপজ্জ্বনক বর্জ্য আইন প্রচলিত হয় – 1989 সাল থেকে ।
    3. ভারতে প্রতিদিন – 0.1 লক্ষ টন পৌরসভার কঠিন বর্জ্য তৈরি হয় ।
    4. ভারতের মাথা পিছু – 0.2 কিগ্রা থেকে 0.6 কিগ্রা বর্জ্য তৈরি হয় ।
    5. ভারত বর্তমানে বর্জ্য উৎপাদনে – পৃথিবীতে তৃতীয় স্থান অধিকার করে ।
    6. বিশ্ব পরিবেশ দিবস – 5ই জুন ।
    7. পৃথিবীর মধ্যে সর্বাধিক দূষণ যুক্ত শহর হল – জাবল (ইরান) ।
    8. ভারতে সর্বাধিক দূষণযুক্ত শহর হল – গোয়ালিওর।
    9. ভারতের মধ্যে বর্জ্যের চাপ সবচেয়ে বেশি – কলকাতা শহরে ।
    10. কঠিন বিষাক্ত বর্জ্য – নিউক্লিয়ার রিয়াক্ট্যার ।
    11. কঠিন বিষহীন বর্জ্য – কাঁচের টুকরো ।
    12. তরল বর্জ্য – ডিটারজেন্ট ।
    13. গ্যাসীয় বর্জ্য – জীবাশ্ম জ্বলানি ।
    14. চিকিৎসা বর্জ্য – সিরিঞ্জ ।
    15. তেজস্ক্রিয় বর্জ্য – ট্রিসিয়াম – 3, রেডিয়াম – 226, কার্বন – 14 ।
    16. জৈব সার বা বায়ো ফার্টিলাইজার – জৈব বর্জ্য পদার্থের পচনের ফলে উৎপন্ন সারকে জৈব সার বা বায়ো ফার্টিলাজার বলে ।
    17. জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য – সাকসব্জি খাবারের অবশিষ্টাংশ ।
    18. জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য – প্ল্যাস্টিক, কাঁচ ।
    19. সেলুলোজ – কাগজ শিল্প থেকে উৎপন্ন বর্জ্য ।
    20. কম্পোস্টিং – জীবানু দ্বারা বর্জ্যের বিয়োজন পদ্ধতিকে কম্পোস্টিং বলে ।
    21. নিষ্কাশন – বর্জ্য জল শোধনের পদ্ধতিকে নিষ্কাশন বলে ।
    22. জমি ভরাট করণ – মাটিতে পুঁতে বর্জ্য অপসারণ পদ্ধতিকে জমি ভরাট করণ বলে ।
    23. কৃষি বর্জ্য – পেস্টিসাইড, কীটনাশক দ্রব্য ।
    24. পেট্রোকোক – তৈল শোধনাগার থেকে অসম্পূর্ণ দহনের ফলে উদ্ভুত কণাকে পেট্রোকোক বলে ।
    25. ফ্লাইয়্যাশ – কয়লা দহনে সৃষ্ট সূক্ষ্ম আনুবীক্ষনিক ভস্মকে ফ্লাইয়্যাশ বলে ।
    26. বর্জ্য – ব্যবহারের অযোগ্য, পরিত্যক্ত, কঠিন -তরল -গ্যাসীয় অবস্থায় প্রকৃতিতে পড়ে থাকা বস্তু যা পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারন, তাকে বর্জ্য বলে ।

    যেমন – ভাঙা প্লাস্টিক, ছেঁড়া কাগজ, নোংরা জল ইত্যাদি ।

    1. আবর্জনা – যেসব বর্জ্য আর্দ্র, দুর্গন্ধ নির্গত হয়, পচনশীল তাদের আবর্জনা বলে । এতে 70% আর্দ্রতা থাকে।

    যেমন – বর্জিত খাবার, সব্জির খোসা, মাছের আঁশ, ডিমের খোসা ইত্যাদি ।

    1. জঞ্জাল – যেসব বর্জ্য শুষ্ক, পচনশীল নয় সহজেই দাহ্য তাদের জঞ্জাল বলে । এতে 25% আর্দ্রতা থাকে ।

    যেমন – প্লাস্টিক, পলিথিন, কাঁচ, বৈদ্যুতিক ভাঙা যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ।

    1. জৈব ভঙ্গুর ও অজৈব ভঙ্গুরের মধ্যে পার্থক্য লেখ ।

    উঃ – জৈব ভঙ্গুর ও অজৈব ভঙ্গুরের মধ্যে পার্থক্য :-

    বিষয়

    জৈব ভঙ্গুর

    অজৈব ভঙ্গুর

    i) সংজ্ঞা যে সব জীবজাত বর্জ্য অনুজীবের ক্রিয়াশীলতায় বিনষ্ট হয় ও খুব সহজে মাটিতে মিশে যায়, তাদের জৈব ভঙ্গুর বা জীব বিশ্লেষ্য বর্জ্য বলে । যে সব অজীবজাত বর্জ্য কোনো ভাবে পচে না এবং দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকে, তাদের জৈব অভঙ্গুর বা জীব অবিশ্লেষ্য বর্জ্য বলে ।
    ii) প্রকৃতি এগুলি উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকে সৃষ্টি হয় অর্থাৎ এরা জীব জাত। এগুলি জড় বস্তু থেকে সৃষ্টি হয় অর্থাৎ এরা অজীবজাত।
    iii) অণুজীব এগুলির সঙ্গে বিভিন্ন বিয়োজক ক্রিয়া করে পচন ঘটায় । এদের সঙ্গে কোনো জীবানু ক্রিয়া করতে পারে না । কেবল মাত্র উচ্চচাপ ও তাপ দ্বারা এদের বিশ্লেষণ করা যায় ।
    iv) পরিণতি এগুলির জটিল অবস্থা থেকে সরল অবস্থায় পরিণত হয়ে খুব তাড়াতাড়ি হিউমাস রূপে মাটিতে মিশে যায় । এগুলির জটিল অবস্তার কোনো পরিবর্তন হয় না । দীর্ঘদিন মাটিতে অপরিবর্তিত অবস্থয় পড়ে থাকে ।
    1. ইলেকট্রনিক বর্জ্য – বর্তমানে শিল্পোন্নত দেশে ও শহর গুলিতে নষ্ট হয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক দ্রব্যাদি, কম্পিউটার ইত্যাদি কঠিন বর্জ্য পদার্থ ক্রমশ পুঞ্জীভুত হছে । এগুলি ‘e-waste’ বা ইলেকট্রনিক বর্জ্য নামে পরিচিত । ভারতের মুম্বাই, বেঙ্গালুরু শহরে এজাতীয় বর্জ্যের পরিমাণ খুব বেশি ।
    2. বর্জ্য দূষণের বিভিন্ন রোগ – সিসা দূষণে – ডিসলেক্সিয়া, পারদ দূষণে – মিনামাটা, ক্যাডমিয়াম দূষণে – ইটাই-ইটাই, ফ্লুওরাইড দূষণে – ফ্লোরোসিস, আর্সেনিক দূষণে – ব্ল্যাকফুট।
    3. সিউয়েজ – শহরের নালা নর্দমা ও সেপটিক ট্যাঙ্কে কাদার মতো নোংরা তরল পদার্থকে সিউয়েজ বলে ।
    4. স্লাজ – নর্দমার নীচে বা সিউয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে জল ধারার তল দেশে যে ভারী ও কঠিন উপাদান থিতিয়ে পড়ে, তাকে স্লাজ বলে ।
    5. বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার যন্ত্র – ইনসিনেরেট।
    6. পাইরোলিসিস – কঠিন বর্জ্যের অক্সিজেনহীন দহন ।
    1. সবুজ পাত্র – জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য ।
    2. হলুদ পাত্র – জৈব অবিশ্লেষ্য বর্জ্য ।
    3. ওশান ডাম্পিং – সমুদ্রে কঠিন বর্জ্য নিক্ষেপ ।
    4. লেজিও নিয়ারস – নরওয়েতে স্ক্রাবার থেকে সৃষ্টি রোগ ।
    5. কোলিফর্ম – নদীর জলে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু ।
    6. জাতীয় স্বচ্ছতা দিবস – 2রা অক্টোবর ।
    7. স্বচ্ছ ভারত অভিযান – 2রা অক্টোবর, 2014 নতুন দিল্লি ।
    8. Green City পরিকল্পনা – কলকাতা ।
    9. বিপজ্জ্বনক বর্জ্য বিধি – 1949 খ্রিঃ।
    1. ইউট্রিফিকেশন – কৃষি জমির রাসায়নিক সার জলাশয়ে যুক্ত হলে শৈবালের পোষক খাদ্যের জোগান বৃদ্ধি পায় । জলে শৈবালের সাম্রাজ্য তৈরিতে জল ব্যবহার অযোগ্য হয় । একে উট্রিফিকেশন বলে ।
    2. র‍্যাগপিকার – যে সব গরীব লোকেরা আস্তাকুঁড় বা ভ্যাট থেকে পুর্নব্যবহার যোগ্য বর্জ্য সংগ্রহ করে, তাদের র‍্যাগপিকার বলে ।
    1. ফার্মেন্টেশন – অবায়ুজীবি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে জৈব পদার্থ পচানোর প্রক্রিয়াকে ফার্মেন্টেশন বলে ।
    2. বর্জ্য পদার্থের উৎসগুলি আলোচনা কর ।

    উঃ – পরিবেশের বর্জ্য পদার্থের উৎস নানা ধরেনের, যথা –

    i) গৃহস্থালীর বর্জ্য :- রোজকার ঘরোয়া কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন অব্যবহার্য পদার্থ, যেমন – আনাজের ও ডিমের খোসা, পুরোনো জামাকাপড়, কাগজপত্র, খবরের কাগজ, খেলনার ভাঙা অংশ, কাঁচের বা প্লাস্টিকের বোতল, প্লাস্টিকের ভাঙা বালতি, ভাঙা আসবাবপত্র প্রভৃতি ।

    ii) শিল্প বর্জ্য :- শিল্পাঞ্চল তথা নগরাঞ্চলগুলিতে গড়ে ওঠা বড়ো বড়ো কলকারখানা থেকে নির্গত নানান গ্যাসীয় বর্জ্য পদার্থ, যেমন – বিষাক্ত ধোঁয়া, CO2, CFC, বিষাক্ত কণা প্রভৃতি । এছাড়াও বেশ কিছু ধাতব পদার্থ যা মাটির সঙ্গে মেশে না ।

    iii) কৃষিজ বর্জ্য :- চাষ বাসের সময় যে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক জমিতে বা শস্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে । সেগুলির অবশিষ্টাংশ সাধারণত মাটিতে মিশে বৃষ্টির জলের সঙ্গে বা জলসেচের সঙ্গে ধুয়ে পার্শ্ববর্তী কোনো জলাশয়ে, পুকুর বা নদীতে গিয়ে মেশে ।

    iv) পৌরসভার বর্জ্য :- এই ধরনের বর্জ্য পদার্থের মধ্যে গৃহস্থলী, শিল্পজাত কারখানার বর্জ্য পদার্থ থেকে শুরু করে হাসপাতাল ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নানান বর্জ্য পদার্থের উপস্থিতি বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য ।

    v) জৈব বর্জ্য :- জৈব বর্জ্যগুলির উৎস প্রধানত বিভিন্ন উদ্ভিদ বা প্রানীর দেহাবশেষ । এছাড়াও গৃহস্থলীর নানান অবশিষ্টাংশ এবং চর্ম শিল্পাঞ্চলেও প্রচুর জৈব বর্জ্য পাওয়া যায় ।

    vi) চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্য :- কোনো হাসপাতাল বা নার্সিংহোম সংক্রান্ত জায়গায় থাকা চিকিৎসা সংক্রান্ত নানান বর্জ্য, যেমন – তুলো, গজ কাপড়, ব্যান্ডেজ, শল্যচিকিৎসার নানান ধাতব অংশ বিশেষ, রোগীর জামা কাপড় ও ব্যবহৃত নোংরা কাপড়, ঔষুধের প্যাকেট, সিরিঞ্জ প্রভৃতি।

    1. পরিবেশের ওপর বর্জ্য পদার্থের প্রভাব আলোচনা কর ।

    উঃ – i) বায়ু দূষণ :- বর্জ্য পদার্থগুলিকে পরিবেশের বিভিন্ন স্থানে জমিয়ে রাখার ফলে তা থেকে পচা দুর্গন্ধ নির্গত হয় । তা পারিপার্শ্বিক পরিবেশ তথা সমগ্র বায়ুমন্ডলে বায়ু দূষণ ঘটায় ।

    ii) জল মৃত্তিকা দূষণ :- কৃষি জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার অথবা কীটনাশক তথা পয়ঃপ্রণালী নির্গত তরল বর্জ্যগুলি, বৃষ্টি বা জল সেচের দ্বারা ধুয়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী কোনো নদীতে মিশে সেখানকার স্বাভাবিক জলজ বাস্তুতন্ত্রকে ব্যহত করে । এছাড়া মাটির উর্বর শক্তির পক্ষেও ক্ষতি কারক ।

    iii) বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যহীনতা :- এই বর্জ্য পদার্থের সঞ্চয় এবং তার পরিমাণ পরিবেশে বেড়েই চলেছে । ফলে পুকুর, বনভূমি তৃণভূমি প্রভৃতি স্থানে বাস্তুতন্ত্রগুলি দিনের পর দিন ভারসাম্য হারাছে ।

    iv) জীববৈচিত্র হ্রাস :- পৃথিবীর বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রগুলি উক্ত নানা পরিবেশের দূষণের ফলে তাদের ভারসাম্য হারাচ্ছে, ফলে পরিবেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবগুলি লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এবং পরিবেশে জীববৈচিত্র হ্রাস পাচ্ছে ।

    1. ভার্মিং কম্পোস্টিং :- কেঁচোর বিভিন্ন প্রজাতির সাহায্যে বিভিন্ন জৈব আবর্জনা, সব্জির খোসা ইত্যাদিকে পচিয়ে মিশ্র সার তৈরির পদ্ধতিকে ভার্মি কম্পোস্টিং বলে । এটি জৈব সার । এর ব্যবহারে মাটি ও জলের দূষণ হয় না ।
    1. 3R নীতি :- বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস, পুনর্ব্যবহার ও পুনর্বীকরণকে একত্রে 3R নীতি বলে । 3R -এর অর্থ হল Reduce, Reuse, Recycle.

    1. 4R নীতি :- বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য বা অব্যবহার্য পদার্থসমূহ কে নতুন ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যে পরিবর্তন করে পরিবেশকে দূষণ মুক্ত রাখার প্রক্রিয়াকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলে । প্রধানত 4টি প্রক্রিয়ায় (4R) মাধ্যমে বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা করা হয় ।

    যেমন – i) Reduce বা অপচয় হ্রাস করণ, ii) Reuse বা পুনর্ব্যবহার, iii) Recycle বা পুনর্বীকরণ, iv) Refuse বা প্রত্যাখান করা ।

    1. 1989 – বিপজ্জ্বনক বর্জ্য আইন ।
    2. 1998 – বায়ো মেডিক্যাল বর্জ্য ।
    3. 2000 – কঠিন বর্জ্য পরিচালনা আইন ।
    4. স্ক্রাবার :- স্ক্রাবার নামক যন্ত্রের সাহায্যে বিভিন্ন কলকারখানায় দূষিত ধোঁয়া ও দূষিত ভাসমান কণা বা গ্যাসীয় বর্জ্যকে বিশুদ্ধ করে বায়ুতে ছড়ানোর পদ্ধতিকে স্ক্রাবার বলে ।
  • বারিমণ্ডল (অধ্যায় ৩)

    বারিমণ্ডল

    1. সমুদ্রস্রোত

    Ans. সমুদ্রে জলরাশি নিয়মিতভাবে ও নির্দিষ্ট দিকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয় । সমুদ্র জলের এই গতি বা প্রবাহকে সমুদ্রস্রোত বলে ।

    1. ফেচ

    Ans. বাধাহীন উন্মুক্ত সুমুদ্রের ঢেউকে ফেচ বলে ।

    1. আটলান্টিক মহাসাগরের একটি শীতল স্রোতের নাম হল

    Ans. ল্যব্রাডর স্রোত ।

    1. প্রশান্ত মহাসাগরের একটি উষ্ণ স্রোতের নাম হল

    Ans. কুরেশিয়ো স্রোত ।

    1. প্রশান্ত মহাসাগরের একটি শীতল স্রোতের নাম হল 

    Ans. বেরিং স্রোত ।

    1. ভূপৃষ্টের মোট যে পরিমান অংশ বারিমণ্ডলের অন্তর্গত তা হল

    Ans. প্রায় 71.4% ।

    1. সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ হল 

    Ans. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ ।

    1. ক্যালিফোর্নিয়া স্রোত প্রবাহিত হয়

    Ans. প্রশান্ত মহাসাগরে ।

    1. ষাঁড়াষাঁড়ির বান দেখা যায়

    Ans. হুগলি নদীতে ।

    1. উত্তর ভারত মহাসাগরের সমুদ্রস্রোত

    Ans. মৌসুমি বায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ।

    1. আটলান্টিক মহাসাগরের শৈবাল সাগর

    Ans. ক্যানারি স্রোতের কারণে সৃষ্ট।

    1. নিউ ফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের দঃ – পূর্বে

    Ans. গ্রান্ড ব্যাঙ্ক মগ্ন চড়া অবস্থিত ।

    1. শৈবাল সাগর দেখা যায়

    Ans. আটলান্টিক মহাসাগরে ।

    1. এল নিনো দেখা যায়

    Ans. প্রশান্ত মহাসাগরে ।

    1. প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত

    Ans. উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত

    উষ্ণ স্রোত – কুরেশিয়ো স্রোত, সুসীমা স্রোত, উঃ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ড্রিফট ।

    শীতল স্রোত ক্যালিফোর্নিয়া অলিওসিয়ান, বেরিং, কাম চাটকা ।

    মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত

    উষ্ণস্রোত – উঃ নিরক্ষীয়, দঃ নিরক্ষীয় প্রতিস্রোত ।

    দঃ প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত

    শীতল স্রোত পশ্চিমা, পেরু বা হামবোল্ট ।

    উষ্ণস্রোত এল নিনো, পূর্ব অস্ট্রেলিয় ।

    1. আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোত 

    Ans. উঃ আটলান্টিক  মহাসাগরীয় স্রোত

    উষ্ণ স্রোত – ফ্লোরিডা, উপসাগরীয় (দ্রুততম), উঃ আটলান্টিক ড্রিফট, নরওয়ে, হার্মিংগার ;

    শীতল স্রোত ক্যানারি, ল্যাব্রাডর, পূর্ব গ্রিনল্যান্ড ।

    মধ্য আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোত

    উষ্ণ স্রোত – উঃ নিরক্ষীয় স্রোত, দঃ নিরক্ষীয় স্রোত, নিরক্ষীয় প্রতিস্রোত ।

    দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোত

    উষ্ণ স্রোত – ব্রাজিল স্রোত ;

    শীতল স্রোত ফকল্যান্ড, পশ্চিম বেঙ্গুয়েলা ।

    1. ভারত মহাসাগরীয় স্রোত

    Ans. উঃ ভারত মহাসাগরীয় স্রোত

    উষ্ণ স্রোত – মৌসুমি, সোমালি, উঃ নিরক্ষীয় ।

    ভারত মহাসাগরীয় স্রোত

    উষ্ণ স্রোত – দক্ষিণ নিরক্ষীয়, নিরক্ষীয় প্রতিস্রোত, মাদাস্কার, মোজানিক, আগুল হাস, পশ্চিম  অস্ট্রেলীয়, শীতল পশ্চিম স্রোত ।

    1. হিম শৈল

    Ans. বিশালাকৃতি বরফের স্তুপ যখন সমুদ্রের জলে ভাসতে থাকে তখন তাকে হিমশৈল বলে ।

    1. হিম প্রাচীর

    Ans. আটলান্টিক মহাসাগরে দেখা যায় । উষ্ণ-শীতল স্রোতের সীমারেখা ।

    1. মগ্নচড়া –

    Ans. গভীর প্লাংকটন পূর্ণ ঢালু জমি ।

    1. কুণ্ডলী বা গায়র –

    Ans. প্রশান্ত, আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরের উপক্রান্তীয় অঞ্চলে উষ্ণ ও শীতল স্রোতগুলি পৃথিবীর আবর্তন সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে বেঁকে ও পরস্পর মিলিত হয়ে যে চক্রাকার জলাবর্ত সৃর্ষ্টি হয়, তাকে কুণ্ডলী বা গায়র বলে । এই তিনটি মহাসাগরে মোট পাঁচটি গায়র আছে । যথা – শৈবাল সাগর ।

    1. শৈবাল সাগর

    Ans. উঃ আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে ভাগে উপসাগরীয়, উঃ আটলান্টিক, ক্যানারি ও উঃ নিরক্ষীয় স্রোতের ঘড়ির কাঁটার দিকে চক্রাকারে আবর্তনের ফলে যে স্রোত শুন্য ও সারগাসাম শৈবাল সমৃদ্ধ উপবৃত্তাকার জলাবর্ত বা সাগর সৃষ্টি হয়েছে, তাকে শৈবাল সাগর বলে । এখানে শৈবাল ছাড়া প্ল্যাংটন, মাছ কিছুই জন্মায় না । তাই একে জীবহীন মুরুভূমি বলা হয় । এটি পৃথিবীর এমন এক সাগর যার কোনো উপকূল নেই ।

    1. সমুদ্রতরঙ্গ ও সমুদ্রস্রোতের মধ্যে পার্থক্য লেখ 

    Ans.

    বিষয় সমুদ্রতরঙ্গ সমুদ্রস্রোত
    i) প্রকৃতি উলম্ব আলোড়ন অনুভূমিক প্রবাহ
    ii) স্থান পরিবর্তন স্থান পরিবর্তন না করে এক জায়গায় আবদ্ধ হয়েই ওঠানামা করে, তাই এটি স্থানিক । নির্দিষ্ট দিকে সর্বদাই স্থান পরিবর্তন করে । এটি অগ্রগতি সম্পন্ন ।
    iii) উৎপত্তির শক্তি বায়ু শক্তি হল প্রধান । বায়ু, কোরিওলিস বল, জলের ও লবন ও তারতম্য প্রভৃতি ।
    iv) প্রবাহের অঞ্চল সমুদ্রের পৃষ্ঠদেশে । সমুদ্রের পৃষ্ঠ ও গভীর সমুদ্র – উভয় অঞ্চল ।
    v) উপকূলের সঙ্গে সম্পর্ক উপকূলের প্রায় সমকোন আঘাত করে। প্রায় সমান্তরাল ভাবে প্রবাহিত হয় ।
    vi) কাজ সমুদ্রতরঙ্গ সামুদ্রিক ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্য করে উপকূলের ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায় । সমুদ্রস্রোত উপকূল ভাগের জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রন করে ।
    1. সমুদ্রস্রোতকে কয় ভাগে ভাগ করা হয় ও কী কী ? এদের মধ্যে পার্থক্য লেখ

    Ans. সমুদ্রস্রোতকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় ।  যথা – (a) উষ্ণস্রোত (b) শীতল স্রোত

    বিষয় উষ্ণস্রোত শীতল স্রোত
    i) সংজ্ঞা উষ্ণ সমুদ্রের গরম ও হালকা জলরাশি সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে পৃষ্ঠ প্রবাহ রূপে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়, একে উষ্ণ স্রোত বলে । শীতল সমুদ্রের ঠান্ডা ও ভারী জলরাশি অন্তঃপ্রাবাহ রূপে উষ্ণ মন্ডলের দিকে প্রবাহিত  হয়, একে শীতল স্রোত বলে ।
    ii) উৎপত্তি নিরক্ষীয় অঞ্চল বরাবর উৎপত্তি লাভ  করে । উত্তর মেরু অথবা দঃ মেরু অঞ্চল বরাবর উৎপত্তি লাভ করে ।
    iii) উপকূলের প্রভাব উপকূল অঞ্চলের আবহাওয়া উষ্ণ হয় । উপকূল অঞ্চলে আবহাওয়া শীতল হয় ।
    iv) প্রবাহ নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরুর দিকে প্রবাহিত হয় । মেরু অঞ্চল থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় ।
    v) মৎস ক্ষেত্র উষ্ণ সমুদ্রে গড়ে উঠে না । শীতল সমুদ্রে গড়ে ওঠে ।
    vi) হিম শৈল উষ্ণ সমুদ্রে থাকে না । শীতল সমুদ্রে থাকে ।
    vii) উষ্ণতা ও লবণতা খুব বেশি । কম ।
    viii) বর্ণ গাঢ় নীল বর্ণের হয় । গাঢ় সবুজ বর্ণের হয় ।
    ix) উদাহরণ উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত । শীতল ল্যাব্রাডার স্রোত ।
    1. মগ্নচড়া 

    Ans. উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে হিমশৈলের গলনের ফলে নুড়ি, কাঁকর, পলি, বালি সঞ্চিত হয়ে যে নিম্ন ভূমিভাগ গড়ে উঠে, তাকে মগ্নচড়া বলে ।

    যেমন – গ্রান্ড ব্যাঙ্ক (পৃথিবীর বৃহত্তম), জরজেস ব্যাঙ্ক, ডগার্স ব্যাঙ্ক, স্যান্ট ব্যাঙ্ক ।

    1. ফেরেলের সূত্রটি লেখ ।

    Ans. বিজ্ঞানী ফেরেল ঊনবিংশ শতকের পঞ্চাশের দশকে বায়ু ও সমুদ্রস্রোতের গতিবিক্ষেপ জনিত একটি সূত্র উদ্ভাবন করেন । সেটি হল পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে উত্তর গোলার্ধের কোনো গতিশীল কণা তার প্রকৃত গতিপথের ডানদিকে বেঁকে যায় এবং দঃ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়, একেই ফেরেলের সূত্র বলে ।

    কারণ  উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে যাওয়ার সময় কোরিওলিস বলের তারতম্যেই এই গতি বিক্ষেপণ ঘটে ।

    1. কোরিওলিস বল কাকে বলে

    Ans. 1835 খ্রিঃ প্রথম জি. ডি. কোরিওলিস কোরিওলিস বল সম্পর্কে বলেন ।

    পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে পৃথিবীর ওপর যে বল সৃষ্টি হয়, তাকে কোরিওলিস বল বলে ।

    কারণ কোরিওলিস বলেন পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে যে বল সৃষ্টি হয় তার প্রভাবে বায়ু, সমুদ্র স্রোত প্রভৃতি সোজা পথে প্রবাহিত না হয়ে উঃ গোলার্ধে কিছুটা ডানদিকে এবং দঃ গোলার্ধে কিছুটা বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয় ।

    1. সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণগুলি আলোচনা কর 

    Ans. সামুদ্রস্রোত সৃষ্টি, প্রবাহ ও গতিপ্রকৃতি নানা কারণে নিয়ন্ত্রিত হয় । সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি হল –

    (i) বায়ুপ্রবাহ  আধুনিক বৈজ্ঞানিকদের মতে, বায়ুপ্রবাহই হল সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ । নিয়ত বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের গতি লক্ষ করলে দেখা যায় যে, প্রবল নিয়ত বায়ুপ্রবাহ নির্দিষ্ট পথে প্রবাহিত হওয়ার সময় সমুদ্রস্র্রোতকেও নিজের প্রবাহপথের দিকে টেনে নিয়ে যায় ।

    (ii) সমুদ্রজলের উষ্ণতা ও লবণত্ব

    (a) সূর্যরশ্মি ভুপৃষ্টের সর্বত্র সমান ভাবে পড়ে না । নিরক্ষীয় অঞ্চলে লম্বভাবে পড়া প্রবল সূর্যকিরণে সমুদ্রের জল অধিক উষ্ণ, প্রসারিত ও হালকা হয়ে নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে বহিঃস্রোত রূপে শীতল মেরু অঞ্চলের দিকে এবং মেরু অঞ্চলের তীর্যক সূর্য কিরণে সমুদ্রের জল শীতল, ঘন ও ভারী হয়ে অন্তঃস্রোত রূপে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় ।

    (b) সমুদ্রে অধিক লবনাক্ত জলের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় তা কম লবনাক্ত জলের দিকে অন্তঃস্রোত রূপে এবং কম লবনাক্ত জল হালকা হওয়ায় বহিঃস্রোত রূপে বেশি লবনাক্ত জলের দিকে প্রবাহিত হয় ।

    (iii) সমুদ্রজলের ঘনত্ব সমুদ্রজলের ঘনত্ব তার লবনত্বের ওপর নির্ভর করে । ফলে কোথাও সমুদ্রজলের ঘনত্ব বেশি, কোথাও কম । ঘনত্বের পার্থক্যের জন্যই নিরক্ষীয় অঞ্চলের আমাজন নদীর সুপেয় জল তটরেখা থেকে 300 km পর্যন্ত আটলান্টিক মহাসাগরের লবনাক্ত জলরাশির ওপর ভেসে থাকে ।

    (iv) বরফের গলন দুই মেরু সংলগ্ন সমুদ্রজলে বিপুল পরিমানে বরফে গলে মেশার ফলে সমুদ্রে মিষ্টি জলের পরিমান বৃদ্ধি পায় এবং লবনত্ব হ্রাস পায় ।

    (v) উপকূলের আকৃতি – সমুদ্র স্রোতের প্রবাহপথে মহাদেশীয় উপকূল ভাগ বা দ্বীপসমূহের অবস্থানের ফলে সমুদ্রেস্রোতের দিকে পরিবর্তীত হয় ।

    1. উপকূলের জলবায়ু বা জলবায়ুর পরিবর্তন সম্পর্কে আলোচনা করা ।

    Ans. সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল তথা পৃথিবীর জলবায়ুতে নানান পরিবর্তন লক্ষ করা যায়, যথা –

    (i) উষ্ণতা ওপর প্রভাব  শীতল সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে যেমন উষ্ণ মন্ডলের দেশগুলির সমুদ্র উপকূলীয় জলবায়ু কিছুটা শীতল তেমনি উষ্ণ স্রোতের প্রভাবে উচ্চ অক্ষাংশের দেশগুলির জলবায়ু কিছুটা উষ্ণ হয় ।

    (ii) বৃষ্টিপাতের বন্টনের প্রভাব  উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে এসে বায়ু জলীয় বাস্পপূর্ণ হয়ে স্থলভাগে বৃষ্টিপাত ঘটায় ।

    (iii) তুষারপাত সৃষ্টি শীতল সমুদ্রস্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু অনেক সময় তুষারপাত হয় ।

    (iv) মরুভূমি সৃষ্টি   শীতলস্রোত প্রবাহিত মহাদেশের পশ্চিম উপকূলে অনাবৃষ্টির জন্য কালাহারি, সোনেরান, আটাকামা মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে ।

    (v) জলবায়ুর পরিবর্তন  সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে কোথাও কোথাও স্থানীয়ভাবে জলবায়ুর পরিবর্তন লক্ষ করা যায় ।

    1. জোয়ার ভাটা

    Ans. চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে একই জায়গায় সাগর, মহাসাগর ও নদনদীর জলরাশির একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিয়মিতভাবে ছন্দময় উত্থান বা ফুল ওঠাকে জোয়ার এবং সমকোণে অবস্থিত স্থানগুলিতে জলরাশির পতন বা নিচু হওয়াকে ভাটা বলে । একই স্থানে প্রতিদিন দুবার করে জোয়ার ভাটা হয় ।

    1. জোয়ারভাটার প্রধান কারণ 

    Ans. (i) চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব ।

    (ii) পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিক বল ।

    1. জোয়ারের প্রকারভেদ 

    Ans. জোয়ারকে দুই ভাগে ভাগ করা হয় । যথা –

    (i) মুখ্য জোয়ার  পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সমুদ্র-জলের যে অংশ চাঁদের সম্মুখীন হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ বেশি কার্যকর হয় । এর ফলে যে জলস্ফীতি হয়, তাকে মুখ্য জোয়ার বলে ।

    (ii) গৌ জোয়ার – চাঁদের আকর্ষণের বিপরীত দিকে প্রধানত কম শক্তিশালী যে জোয়ারের সৃর্ষ্টি হয়, তাকে গৌণ জোয়ার বলে ।

    1. অমাবস্যা তিথি –

    Ans. এই তিথিতে সূর্য ও পৃথিবীর কেন্দ্রের সঙ্গে চাঁদের যে কেন্দ্র মধ্যবর্তী অবস্থান থাকে, একে সংযোগ অবস্থা বলে ।

    1. পূর্ণিমা তিথি 

    Ans. এই তিথিতে চাঁদের কেন্দ্র সূর্য ও পৃথিবীর পরে থাকে । তিনটি কেন্দ্রেই একই সরল রেখায় অবস্থান করে, এই অবস্থানকে প্রতিযোগ অবস্থান বলে ।

    চিত্র :- অমবস্যা ও পূর্ণিমা তিথি এবং ভরা ও মরা কোটাল ।

    1. তেজ বা ভরা কোটাল 

    Ans. অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করলে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সঙ্গে সূর্যের আকর্ষণ বলের মিলিত শক্তির প্রভাবে সমুদ্রে পৃষ্ঠে সবথেকে প্রবল জোয়ার হয়, একে ভরা কোটাল বা তেজ জোয়ার বলে ।

    1. মরা কোটাল 

    Ans. কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্যের পরস্পর বিরোধী দুর্বল আকর্ষণে সমুদ্রপৃষ্ঠে সবচেয়ে দুর্বল জোয়ার হয়, একে মরা কোটাল বলে । কোটাল শব্দের উৎপত্তি তামিল শব্দ কজল থেকে । যার অর্থ সমূদ্র ।

    1. সিজিগি

    Ans. চাঁদের কেন্দ্র পৃথিবীর ও সূর্যের কেন্দ্রের সঙ্গে একই একই সরলরেখায় অবস্থান করলে জ্যোতিশাস্ত্রনুসারে তাকে সিজিগি বলে । একে 2 ভাগে ভাগ করা হয় । যথা – (i) সংযোগ অবস্থা, (ii) প্রতিযোগ অবস্থা ।

    1. অ্যাপোজি

    Ans. পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরতম অবস্থাকে অ্যাপোজি বলে । এই সময় চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব সর্বাধিক 407000 কিমি. ।

    1. পেরিজি 

    Ans. চন্দ্রের পৃথিবী পরিক্রমার সময় চন্দ্র ও পৃথিবীর নিকটতম অবস্থাকে পেরিজি বলে । এই সময় চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব হয় 356000 কিমি. ।

    1. মুখ্য গৌণ জোয়ারের মধ্যে পার্থক্য লেখ ।

    Ans.

    বিষয় মুখ্য জোয়ার গৌণ জোয়ার
    i) সংজ্ঞা পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সমুদ্র-জলের যে অংশ চাঁদের সম্মুখীন হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ বেশি কার্যকর হয় । এর ফলে যে জলস্ফীতি হয়, তাকে মুখ্য জোয়ার বলে । চাঁদের আকর্ষণের বিপরীত দিকে প্রধানত কম শক্তিশালী যে জোয়ারের সৃর্ষ্টি হয়, তাকে গৌণ জোয়ার বলে ।
                   ii) প্রাবল্য মুখ্য জোয়ারের প্রাবল্য গৌণ জোয়ারের চেয়ে অনেক বেশি । গৌণ জোয়ারের প্রাবল্য মুখ্য জোয়ারের চেয়ে অনেক কম ।
    iii) কারণ চাঁদের আকর্ষণ শক্তির টানে মুখ্য জোয়ার হয়ে থকে । পৃথিবীর আবর্তন সৃষ্ট বিকর্ষণ বল দ্বারা গৌণ জোয়ার হয় ।
    iv) অবস্থান এই সময় পৃথিবীর জোয়ার স্থলটি চাঁদের সামনে থকে । এই সময় জোয়ার স্থলটি চাঁদের প্রতিপাদ স্থানে থাকে ।
    v) ভিন্ননাম এই জোয়ার চাঁদের মহাকর্ষ শক্তির ফলে সরাসরি হয় বলে একে প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে । এই জোয়ার পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক বলের ফলে হয় বলে একে পরোক্ষ জোয়ার বলে ।
    1. সমুদ্রস্রোত জোয়ারভাটা মধ্যে পার্থক্য লেখ

    Ans.

    পার্থক্যের ভিত্তি জোয়ারভাটা

    সমুদ্রস্রোত

    i) বিষয় চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে সমুদ্র-জলের নির্দিষ্ট সময়ান্তরে উত্থান হল জোয়ার এবং পতন হল ভাটা । পৃথিবীর আবর্তনে ও কোরিওলিস বল, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্র-জলের উষ্ণতা ও লবনের তারতম্য প্রভৃতি কারণে সমুদ্র-জলের একমুখী প্রবাহ হল সমুদ্রস্রোত ।
    ii) সময় নির্দিষ্ট সময়ান্তরে ঘটে । প্রায় সবসময়ই একইদিকে প্রবাহিত হয় ।
    iii) অঞ্চল সমুদ্রের সব জায়গায় এর প্রভাব পড়ে । সমুদ্রের নির্দিষ্ট অংশে -এর প্রভাব পড়ে ।
    iv) প্রবাহ জোয়ারের প্রভাবে জাহাজে চলাচলে সুবিধা হয় এবং নদীর নাব্যতা বজায় থকে । সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূলের জলবায়ুতে প্রভাব পড়ে, মগ্নচড়া সৃষ্টি হয় এবং মৎস্য শিকারে সুবিধা হয় ।
    1. জোয়ার-ভাটার ফলাফলগুলি আলোচনা কর 

    Ans. জোয়ার-ভাটার নিম্নলিখিত ফলাফলগুলি রয়েছে । যেমন –

    জোয়ার-ভাটার সুফল –

    i) জোয়ারের ফলে নদীতে জলের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং নৌচলাচলে সুবিধা হয় ।

    ii) ভাটার টানে নদী আবর্জনা ও পলিমুক্ত হয় ।

    iii) জোয়ারের জল নদীখাতে ঢুকে এর বিস্তার ও গভীরতা বৃদ্ধি করে, ফলে নদীবন্দরে জাহাজে চলাচলে সুবিধা হয় ।

    iv) জোয়ারের জলে পুষ্ট খাঁড়িতে বহুরকম জলজ উদ্ভিদ, অন্যান্য জলজ প্রাণী, উভচর প্রাণী এবং মাছ দেখা যায় ।

    v) আজকাল উন্নত দেশগুলিতে জোয়ারের জলকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় ।

    জোয়ার-ভাটার কুফল 

    (i) জোয়ারের জল অনেক সময় নদী – মোহনার পলি তুলে নিয়ে দেশের অভ্যান্তরে নদী গর্ভে জমা করে নদীর গভীরতা জমা করে নদীর গভীরতা কমিয়ে ফেলে ।

    (ii) জোয়ারের জলে নদীর মিষ্টি জল লবনাক্ত হয়ে যাওয়ার তা খাওয়ার ও সেচের কাজে অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে ।

    (iii) প্রবল জোয়ারের ফলে নদীতে যে জলস্ফীতি ঘটে তার ফলে অনেক সময় নদীতীরের চাষাবাদ ও বাড়ি ঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয় ।

    (iv) প্রবল জোয়ারের ফলে নদীতে বান আসলে, তার ফলে নৌকাডুবি এবং জীবনহানির সম্ভাবনা থাকে ।

    1. জোয়ারভাটার সৃষ্টির কারণগুলি লেখ চিত্রসহ।

    Ans. দুটি প্রধান কারণে জোয়ার ভাটা হয়। যথা :

    (i) পৃথিবীর আবর্তন –
    পৃথিবীর তার মেরুদন্ড বা নিজের অক্ষের চারিদিকে নির্দিষ্ট গতিতে অবিরাম ঘুরে চলেছে । পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে কেন্দ্র বিমুখ বা বহির্মুখী শক্তির উৎপন্ন হয় । এই বহির্মুখী শক্তির প্রভাবে সমুদ্রের জল বাইরের দিকে বেরিয়ে যাতে চায় । চাঁদের আকর্ষণে সমুদ্রের যেখানে জোয়ার হয়, ঠিক তার বিপরীত দিকে চাঁদের আকর্ষণে তুলনায় কেন্দ্রবিমুখ বলের প্র্রভাব বেশি হয় । ফলে সমুদ্রের ওই স্থানেও জোয়ারে হয় ।

    সমুদ্রের পরস্পর বিপরীত যে দুটি স্থানে জোয়ার হয়, তার সমকোণে অবস্থিত দুটি স্থানে তখন ভাটা হয় ।

    (ii) পৃথিবীর ওপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ 
    সূর্যের ভর চাঁদের তুলনায় প্রায় 2 কোটি 60 লক্ষ গুন বেশি । কিন্তু চাঁদের তুলনায় সূর্য প্রায় 390 গুন দূরে অবস্থিত । চাঁদের ভর কম হওয়ার সত্ত্বেও সূর্যের তুলনায় চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে রয়েছে বলে, পৃথিবীর ওপর চাঁদের আকর্ষণ সূর্যের তুলনায় প্রায় 2 গুন বেশি । তাই প্রধান চাঁদের আকর্ষণে জোয়ার হয় ।

    চিত্র :- জোয়ার ভাটা সৃষ্টি

    1. বাণডাকা কাকে বলে ?
      অথবা, 
      গঙ্গা নদীতে বাণডাকে কেন ?

    Ans. জোয়ারের সময় সমুদ্রের জল প্রবল বেগে নদীর মোহনা থেকে নদী প্রবাহের বিপরীত মুখে নদী খাতের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হলে, যে জলোচ্ছাস হয়, তাকে বান বা বানডাকা বলে । বর্ষাকালে ভরা কোটালে নদীর মোহনার কাছাকাছি অংশে বান ডাকে । হুগলি নদীতে এই ধরনের বানকে ষাঁড়াষাঁড়ির বান বলে । আমাজন নদীতে একে স্থানীয় ভাষায় পোরোরেকাস (প্রবল গর্জন) বলে ।

    উদাহরণ :- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি, ইংল্যান্ডের টেমস, ব্রাজিলের আমাজন, চীনের ইয়াং সিকিয়াং নদীতে বান ডাকে ।

    1. বেলোর্মি

    Ans. পৃথিবীর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করায় জোয়ারের জল স্রোতের আকারের বিপরীত দিকে অর্থাৎ পূর্ব থেকে পশ্চিমে এবং ভাটার টান পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত হয়, একে বোলোর্মি বলে । উন্মুক্ত সমুদ্রে এটি সুস্পষ্টভাবে দেখা যায় ।

    1. ভরা কোটাল মরা কোটালের মধ্যে পার্থক্য লেখ 

    Ans.

    বিষয় ভরা কোটাল মরা কোটাল
    i) সংজ্ঞা অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করলে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সঙ্গে সূর্যের আকর্ষণ বলের মিলিত শক্তির প্রভাবে সমুদ্রে পৃষ্ঠে সবথেকে প্রবল জোয়ার হয়, একে ভরা কোটাল বা তেজ জোয়ার বলে । কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্যের পরস্পর বিরোধী দুর্বল আকর্ষণে সমুদ্রপৃষ্ঠে সবচেয়ে দুর্বল জোয়ার হয়, একে মরা কোটাল বলে । কোটাল শব্দের উৎপত্তি তামিল শব্দ কজল থেকে । যার অর্থ সমূদ্র ।
    ii) প্রাবল্য জোয়ারের প্রাবল্য সবচেয়ে বেশি ও ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে । জোয়ারের প্রাবল্য সবচেয়ে কম ও ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না ।
    iii) তিথি অমাবস্যা ও পূর্ণিমার দিন এটি হয় । কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমীর দিন এটি হয় ।
    iv) অবস্থা এসময় চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় থাকে । পৃথিবীকে কেন্দ্র করে চাঁদ ও সূর্য পরস্পর সমকোণে থাকে ।
    v) আকর্ষণ এক্ষেত্রে চাঁদ, সূর্যের আকর্ষণ বল একই দিকে কাজ করে । এক্ষেত্রে চাঁদ সূর্যের আকর্ষণ বল পরস্পর বিরোধী ।
    1. প্রক্সিজিয়ান

    Ans. পেরিজি ও সিজিগি অবস্থান মিলে গিয়ে অমবস্যা ও পূর্ণিমা তিথি আসলে ভরা কোটাল প্রবলতম হয় ও জোয়ারের  সীমা সর্বোচ্চ হয়, এই অবস্থানকে প্রক্সিজিয়ান বলে । প্রতি দেড় বছরে এটি ঘটে ।

    1. মহাকর্ষ সূত্র আবিষ্কার করেন

    Ans. স্যার আইজাক নিউটন; 1642 – 1727 খ্রিস্টাব্দে ।