ভারতের ভূপ্রকৃতি (অধ্যায় ৫.২)
Published 21-04-26
196 Views
Md. Monjujul Alam
Geography Tutor
Dist : Murshidabad

ভারতের ভূপ্রকৃতি

  1. ভূপ্রাকৃতিক বিভাগ :- ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভারতকে পাঁচটি ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়, যথা –

i) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল

ii) বৃহৎ সমভূমি অঞ্চল

iii) উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল

iv) উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল

v) দ্বীপ অঞ্চল

  1. প্রস্থ বরাবর হিমালয়ের শ্রেণি বিভাগ করো
    অথবা, প্রস্থ বরাবর হিমালয়ের ভূপ্রকৃতি বর্ণনা করো
    অথবা, হিমালয়ের উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত পর্বত শ্রেণিগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো

উঃ – প্রস্থ বরাবর হিমালয়ের শ্রেণি বিভাগ – পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়ে প্রস্থ বরাবর উত্তর-দক্ষিণে চারটি সমান্তরাল পর্বত শ্রেণি রয়েছে । যথা –

i) টেথিস হিমালয় বা ট্রান্স হিমালয়

ii) হিমাদ্রি হিমালয় বা উচ্চ হিমালয়

iii) হিমাচল বা মধ্য হিমালয় বা অব হিমালয়

iv) শিবালিক বা বহিঃহিমালয়

i) টেথিস হিমালয় বা ট্রান্স হিমালয় :-

a) অবস্থান– জম্বু ও কাশ্মীর রাজ্যে অবস্থিত । অধিকাংশই তিব্বতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় একে তিব্বত হিমালয় বলে ।

b) উৎপত্তি– প্রথমবার ভূ-আলোড়নে (7-12 কোটি বছর আগে) উৎপত্তি হয় ।

c) প্রস্থ–পর্বত শ্রেণিটি প্রায় 40 কিমি চওড়া ।

d) উচ্চতা–গড় উচ্চতা প্রায় 4000 মিটার ।

e) বৈশিষ্ট্য – এটি পর্বত ও মালভূমিময় । জাস্কর (সর্বোচ্চ শৃঙ্গ লিওপারগেল 7420 মিটার, লাদাখ, কৈলাস, কারাকোরাম ও আগিল এবং আকসাইচিন মালভূমি আছে ।

ii) হিমাদ্রি হিমালয় বা উচ্চ হিমালয় :-

a) অবস্থান– টেথিস হিমালয়ের দক্ষিণে হিমাচলের উত্তরে অবস্থিত । নেপালে ভারত মহাসাগর লেখ নামে পরিচিত ।

b) উৎপত্তি – টেথিস হিমালয়ের সঙ্গে প্রথমবার ভূ-আলোড়নে উৎপত্তি হয় ।

c) বিস্তার – এটি হিমালয়ের উচ্চতম অংশ, গড় উচ্চতা 6100 মিটার, নাঙ্গা পর্বত থেকে নামচাবারওয়া পর্যন্ত 2400 কিমি দীর্ঘ এবং 25 কিমি প্রশস্ত ।

d) বৈশিষ্ট্য

♦ অসংখ্য তুষার বৃত সুউচ্চ শৃঙ্গ আছে । যথা – মাউন্ট এভারেস্ট (বিশ্বের উচ্চতম), কাঞ্চন জঙ্ঘা (তৃতীয় উচ্চতম), লোটসে, মানাসুল, মাকুল, চোওয়া, ধওলাগিরি, অন্নপূর্ণা, কেদারনাথ, কামেট, নন্দাদেবী।

♦ এখানে বেশকিছু গিরি পথ আছে – বুর্জিলা, (শ্রীনগর ও লে) জেলেপলা, নাথুলা (সিকিম ও চুম্বি), সিপকি লা ।

iii) হিমাচল বা মধ্য হিমালয় :-

a) অবস্থান – হিমাদ্রির দক্ষিণে ও শিবালিকের উত্তরে অবস্থিত ।

b) উৎপত্তি – দ্বিতীয়বার ভূ-আলোড়নের ফলে (2-3 কোটি বছর) উৎপত্তি হয় ।

c) বিস্তার–উচ্চতা মাঝারি গড়ে 3500-6500 মিটার। এটি 60-80 কিমি প্রশস্ত ।

d) বৈশিষ্ট্য

♦ অনেক পর্বত শ্রেণি আছে । যথা – পিরপাঞ্জল, ধাওলাধর, মুসৌরি, নাগটিব্বা, মহাভারত (লেখ)

♦ অনেক গিরি পথ আছে । যথা – পিরপাঞ্জল (শ্রীনগর ও জম্বু) বানিহাল বা জওহর টানেল (এশিয়ার দীর্ঘতম সুড়ঙ্গ), বিডিল, গোলাবঘর ।

♦ শিবালিক ও হিমাচলের অনেক সমান্তরাল ও চওড়া উপত্যকা আছে । যথা – কাশ্মীর, কুলু-কাংড়া।

iv) শিবালিক বা অব হিমালয় :-

a) অবস্থান – এটি হিমালয়ের দক্ষিণতম শ্রেণি । নেপালে চুরিয়া মুরিয়া নামে পরিচিত ।

b) উৎপত্তি – তৃতীয়বার ভূ-আলোড়নে ।

c) বিস্তার – হিমাচলের সমান্তরালে 2400 কিমি দীর্ঘ খুব সংকীর্ণ 15-60 কিমি প্রশস্ত এবং উচ্চতা 600-1500 মিটার ।

d) বৈশিষ্ট্য – দক্ষিণ দিকে খুব খাঁড়া ও উত্তর দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে উপত্যকা সৃষ্টি হয়েছে, যাকে পশ্চিম হিমালয়ে দুন ও পূর্ব হিমালয়ে দুয়াব বলে । দেরাদুন, চৌখাম্বা, কোটা, পাটলি, চুম্বি উপত্যকা ।


Warning: Undefined variable $orig_post in /home/ekarmasangsthan/public_html/wp-content/themes/frontier_20/loop-single.php on line 308
0 0 votes
Article Rating
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments