Blog

  • ভারতের জলবায়ু (অধ্যায় ৫.৪)

    ভারতের জলবায়ু

    1. ভারতের জলবায়ুর প্রকৃতি –

    Ans. ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু ।

    1. ভারতের প্রধান প্রধান ঋতু –

    Ans. চারটি – গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত ।

    1. কালবৈশাখী – 

    গরমকালে পশ্চিমবঙ্গে বিকালে বা সন্ধ্যার দিকে প্রচন্ড বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত ।

    1. আসামে কালবৈশাখীর নাম –

    Ans. বরদৈছিলা

    1. দক্ষিণ ভারতে কালবৈশাখীর নাম –

    Ans. আম্রবৃষ্টি

    1. মৌসুমি নামের উৎপত্তি –

    Ans. মৌসিন আরবি শব্দের অর্থ হল ঋতু ।

    1. মৌসুমি বিস্ফোরণ –

    Ans. বর্ষার শুরুতে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল বৃষ্টিপাতের নাম ।

    1. পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত স্থান –

    Ans. মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জির নিকট মৌসিনরাম ।

    1. ভারতের সর্বপ্রথম মৌসুমি বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চল –

    Ans. কেরালা (1 জুন)

    1. ভারতের বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল –

    Ans. (i) মেঘালয় রাজধানীর শিলং;

    (ii) পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্বঢাল (ব্যাবচ্ছিন্ন) ।

    1. ভারতের শুষ্কতম স্থান –

    Ans. রাজস্থানের বালান ।

    1. বছরে দুবার বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চল –

    Ans. (i) পাঞ্জাব হরিয়ানা,

    (2) করমণ্ডল উপকূল ।

    1. ভারতের সর্বাপেক্ষা কম বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চল –

    Ans. জয়সলমির (বার্ষিক 12 cm)

    1. ভারতের উষ্ণতম স্থান –

    Ans. ব্রিয়া ওয়ালি, বিকানির জেলা (রাজস্থান) 156°C

    1. ভারতের শীতলতম অঞ্চল –

    Ans. জম্মু ও কাশ্মীরের লাদাখ ।

    1. ভারতের শুষ্কতম অঞ্চল –

    Ans. রাজস্থানের জয়সলমির ।

    1. জলবায়ু –

    Ans. কোনো স্থানের অনেক দিনের আবহাওয়ার গড়কে বলা হয় জলবায়ু ।

    1. উত্তর ভারতের জলবায়ু –

    Ans. চরমভাবাপন্ন ।

    1. দক্ষিণ ভারতের জলবায়ু –

    Ans. সমভাবাপন্ন ।

    1. ভারতের একটি স্থানীয় বায়ু –

    Ans. লু ।

    1. আশ্বিনের ঝড়

    Ans. শরৎকালে প্রত্যাবর্তনকারী শুস্ক মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে আর্দ্র সামুদ্রিক বায়ুর সংঘর্ষের ফলে বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণবাত সৃষ্টি হয়ে পূর্ব উপকূলীয় রাজ্যগুলিতে প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয় । এটি আশ্বিনের ঝড় নামে পরিচিত ।

    1. পশ্চিমি ঝঞ্জা

    Ans. শীতকালে ভুমধ্যসাগর থেকে আগত মধ্য অক্ষাংশীয় ঘূর্ণবাত একটানা কয়েকদিন ধরে উত্তর-পশ্চিম ভারতে মেঘলা আকাশ ও হালকা ঝড়বৃষ্টি ঘটায় । এটি পশ্চিমি ঝঞ্জা নামে পরিচিত ।

    1. হিমালয় পর্বতমালা ভারতের জলবায়ুকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করে ?

    Ans. হিমালয় পর্বতের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব :-

    (i) শীতের হাত থেকে রক্ষা :- হিমালয় পর্বতের অবস্থান ভারতীয় উপমহাদেশকে মধ্য এশিয়ার হাড় কাঁপানো শীতের হাত থেকে রক্ষা করে ।

    (ii) প্রবল বৃষ্টিপাত :- হিমালয় পর্বতের অবস্থান দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিমালয়ের দক্ষিণ ঢালে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায় ।

    1. দক্ষিণ ভারতের উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল হল

    Ans. মালনাদ ।

    1. কর্নাটকে আম্রবৃষ্টি

    Ans. চেরি ব্লসম (Cheery Blossom) নামে পরিচিত ।

    1. এল নিনো –এর অর্থ

    Ans. শিশু খ্রিস্ট ।

    1. ভারতের সর্বাধিক খরা প্রবন রাজ্য

    Ans. রাজস্থান ।

    1. ভারতের বন্যাপ্রবণ অঞ্চল

    Ans. উত্তর প্রদেশ ।

    1. আবহাওয়া

    Ans. কোনো স্থানের বায়ুমণ্ডলের স্বল্পকালীন অবস্থাকে আবহাওয়া বলে ।

    1. কালবৈশাখীর অপর নাম

    Ans. নরওয়েস্টার ।

    1. খরা

    Ans. স্বল্প বৃষ্টিপাত জনিত কারণে পরিবেশে যে জলবায়ুগত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাকে খরা বলে ।

    1. আঁধি

    Ans. একটি তীব্র, ঝোড়ো, ধূলিপূর্ণ বায়ু ।

    1. ক্রান্তীয় জেট বায়ুর অপর নাম

    Ans. পূবালি জেট ।

    1. ভারতকে বলা হয়

    Ans. মৌসুমী বায়ুর বিচরণ ক্ষেত্র ।

    1. ভারতের মৌসুমি বায়ুর শাখা দুটি হল

    Ans. (i) আরব সাগরীয় শাখা

    (ii) বঙ্গোপসাগরীয় শাখা ।

    1. ভারতে বর্ষাকালের অপর নাম

    Ans. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন কাল ।

    1. ভারতে শরৎকালের অপর নাম

    Ans. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন কাল ।

    1. স্থলবায়ু সমুদ্রবায়ুর বৃহৎ সংরক্ষণ বলা হয়

    Ans. মৌসুমী বায়ু প্রবাহকে ।

    1. ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন

    Ans. শরৎকালে উপকূলীয় অঞ্চলে যে ঘূর্ণবাত জনিত ঝড় হয়, তাকে ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন বলে ।

    1. শুস্ক অঞ্চল

    Ans. যে সমস্ত অঞ্চলে 20 cm -এর কম বৃষ্টিপাত হয়, তাকে শুস্ক অঞ্চল বলে ।

    1. ভারতের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ু কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ?

    Ans. ভারতের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ু নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করে । যেমন –

    (i) মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের ওপর নির্ভর করে ঋতু পরিবর্তন হয় ।

    (ii) বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আগত আর্দ্র মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতের বেশিরভাগ স্থানে বৃষ্টিপাত হয়, কিন্তু শরৎকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রত্যাগমনের সময় কেবলমাত্র তামিলনাড়ু উপকূলে বৃষ্টিপাত হয় ।

    (iii) মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালি প্রকৃতির জন্য কোনো বছর প্রবল বা কোনো বছর স্বল্প বৃষ্টিপাত হয় । ফলে বন্যা বা খরা হয় ।

    (iv) শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু শীতল স্থলভাগ থেকে ছুটে আসে বলে ভারতের জলবায়ু শীতল ও শুস্ক থাকে ।

    (v) মৌসুমি বায়ুর আগমনে সারা দেশের গড় তাপমাত্রা 5°C – 10°C কমে যায় ।

    1. লু কাকে বলে ?

    Ans. লু :- গ্রীষ্মকালে মে-জুন মাসে উত্তর-পশ্চিম ভারতের রাজস্থান, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ, বিহারে তীব্র সূর্য কিরণের জন্য একপ্রকার উষ্ণ ও শুস্ক বায়ু দুপুরের পর পশ্চিম দিক থেকে শোঁ শোঁ শব্দ করে প্রচন্ড বেগে প্রবাহিত হয়, একে লু বলে । এটি একপ্রকার তাপ প্রবাহ উষ্ণতা 45°C – 50°C হয় । শরীরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেড়ে যায়, একে ‘লু-লাগা’ বলে । প্রতিবছর বহু মানুষ ও গবাদি পশু মারা যায় ।

    1. আঁধি কাকে বলে ?

    Ans. আঁধি :- গ্রীষ্মকালে মে-জুন মাসে রাজস্থানের মরু সংলগ্ন অঞ্চলে বিকেলে যে প্রবল ধূলিঝড় সৃষ্টি হয়, তাকে স্থানীয় ভাষায় আঁধি বলে । এর গতিবেগ 50 – 60 কিমি/ঘন্টা । এতে মেঘ সৃষ্টি ও বৃষ্টি হয় না । প্রচুর ধুলো উড়ে । উষ্ণতা কমে ।

    1. মৌসুমি বিস্ফোরণ কাকে বলে ?

    Ans. জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বা গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখা প্রচুর পরিমানে জলীয় বাস্প বহন করে এনে পশ্চিমঘাট পার্বত্য অঞ্চলে আছড়ে পড়ে হঠাৎ প্রচন্ডভাবে ঘনমেঘ, ধমকা বায়ুসহ বজ্রঝড় ও মুষলধারে বর্ষণের আবির্ভাব ঘটে, একে মৌসুমি বিস্ফোরণ বলে । পশ্চিমা জেট বায়ু উত্তরে সরে গিয়ে ক্রান্তীয় ভারতে পুবালি জেট শক্তিশালী হয়ে পড়লে এই ঘটনা ঘটে ।

    1. ভারতের জলবায়ুর বৈচিত্র্য আলোচনা কর

    Ans. ভারত এক বিশাল দেশ । যার দক্ষিণ থেকে উত্তরে ব্যবধান বেশি । উপকূল থেকে পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির উচ্চতার পার্থক্যও বেশি । এই সব কারণে ভারতে জলবায়ুর বৈচিত্র্যও অধিক । যেমন –

    (i) উষ্ণতার বৈচিত্র্য :- ভারতের সর্বত্র উষ্ণতা সমান নয় । উপকূল অংশে সারাবছর সমভাবাপন্ন জলবায়ু দেখা যায় । মধ্য ভারতে সারাবছর চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে । আবার হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে উষ্ণতা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায় ।

    (ii) বৃষ্টিপাতের বৈচিত্র্য :- ভারতে গড় বৃষ্টিপাত 100 – 1500 সেমি. হলেও রাজস্থানের গড় বৃষ্টিপাত 50 সেমির কম । আবার মেঘালয়ের মৌসিনরামে (ভারতে তথা পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান) বৃষ্টির বার্ষিক পরিমান 1350 সেমি. |

    (iii) বায়ুপ্রবাহের বৈচিত্র্য :- ভারতে মার্চ-আগস্ট মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয় । আবার ভারতে শুষ্ক ও উষ্ণ বায়ু লু, ধূলিঝড়, আঁধি, স্থানীয় বায়ু প্রবাহিত হয় ।

    (iv) জলবায়ুর সামগ্রিক বৈচিত্র্য :- ভারতে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ও মেঘালয়ে নিরক্ষীয় জলবায়ু, জম্মু ও কাশ্মীরে শীতল জলবায়ু, রাজস্থানে মরু জলবায়ু ও পাঞ্জাব হরিয়ানাতে নাতিশীতোষ্ণ জুলবায়ু দেখা যায় ।

    1. সাময়িক বায়ু কাকে বলে ?

    Ans. মৌসুমি একটি আরবি শব্দ মৌসিন থেকে এসেছে । যার অর্থ ঋতু। নির্দিষ্ট ঋতু বা সময়ে সময়ে এই বায়ু প্রবাহিত হয় । তাই একে ঋতু বায়ু বা সাময়িক বায়ু বলে । এই বায়ু ভারতের জলবায়ুকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে । যেমন – ঋতু নিযন্ত্রন ।

    1. জেট বায়ু প্রবাহ ভারতের জলবায়ুকে কীভাবে প্রভাবিত করে ?

    Ans. ভুপৃষ্ট থেকে 9 – 12 কিমি. উচ্চতায় খুব শক্তিশালী এক বায়ুপ্রবাহ ঘটে । এই বায়ুপ্রবাহ আঁকাবাঁকা গতিপথে বা জেটপ্লেনের গতিপথে প্রবাহিত হয় । তাই একে জেট বায়ুপ্রবাহ বলে । এই জেট বায়ুপ্রবাহ ভারতের মৌসুমি বায়ু ও জলবায়ুকে প্রভাবিত করে । যেমন –

    (i) গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে সম্পর্ক :-

    গ্রীষ্মকালে ভারতের ওপর অবস্থানকারী উপক্রান্তীয় জেট বায়ু উত্তরে সরে যায় । আর তখনই ভারতে ক্রান্তীয় পূবালি বায়ুর আগমন ঘটে ও এর সঙ্গে মৌসুমি বায়ু আসে । ফলে ভারতে প্রবল মৌসুমি বৃষ্টিপাত (যা মৌসুমি বিস্ফোরণ নামে পরিচিত) শুরু হয় ।

    (ii) শীতকালীন মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে সম্পর্ক :-

    শীতকালে ভারতে উপমহাদেশ অঞ্চলে উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেটবায়ু অবস্থানের কারণে এখানে উচ্চচাপ বিরাজ করে, ফলে উপমহাদেশ থেকে মৌসুমি বায়ু প্রত্যাগমন করে । অর্থাৎ মৌসুমি বায়ু আগমন ও প্রত্যাগমনের সঙ্গে জেটবায়ু আন্তঃসম্পর্ক যুক্ত ।

    1. ভারতের মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর

    Ans. ভারতের মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য :-

    (i) মৌসুমি বায়ু গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় ।

    (ii) ভারতে গ্রীষ্মকাল আর্দ্র ও শীতকালে শুষ্ক হয় ।

    (iii) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতে বর্ষাকালে সর্বাধিক পরিমান বৃষ্টি হয় । (90%)

    (iv) উত্তর-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতে শীতকাল শুষ্ক থাকে । তামিলনাড়ুর করমণ্ডল উপকূল ছাড়া আর অন্য কোথাও বৃষ্টি হয় না ।

    (v) পশ্চিমি ঝঞ্জা এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের ফলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কিছুটা বৃষ্টি হয় ।

    (vi) ভারতের মৌসুমি বৃষ্টিপাত একটানা হয় না । মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাতের বিরতি ঘটে ।

    1. ভারতের উল্লেখযোগ্য বায়ুপ্রবাহ ও তাদের আঞ্চলিক অবস্থান লেখ ?

    Ans.

    বায়ুপ্রবাহ কোথায় দেখা যায়
    (i) আঁধি (Andhi) উত্তর পশ্চিম ভারত বিশেষত পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি ।
    (ii) কালবৈশাখী (Norwester Blinding Storm) পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা কালবৈশাখী (Kala Baisakhis) অসম বরদৈছিলা (Bardolichheela)
    (iii) আম্রবৃষ্টি (Mango Shorer) দক্ষিণ ভারত কেরালা ও কর্ণাটকের উপকূলবর্তী অঞ্চল তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশ ।
    (iv) কফিবৃষ্টি (Cherry Blossom) কর্ণাটক
    (v) চা বৃষ্টি (Tea Shower) অসম
    (vi) লু (Loo) উত্তরপ্রদেশ, বিহার, রাজস্থান, পাঞ্জাব ।
    (vii) আশ্বিনের ঝড় (Strom Of Aswin) পশ্চিমবঙ্গের শরৎকাল
    1. আবহাওয়া জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য লেখ

    Ans.

    বিষয় আবহাওয়া জলবায়ু
    (i) সংজ্ঞা কোনো নির্দিষ্ট স্থানের কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বায়ুমণ্ডলের কতগুলি উপাদানের অবস্থাকে আবহাওয়া বলে । কোনো বিরাট অঞ্চলের 30-40 বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে জলবায়ু বলে ।
    (ii) সময় আবহাওয়া হল কোনো স্থানের বা দিনের বা কয়েক ঘন্টার অবস্থা । জলবায়ু হল বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘকালীন অবস্থা ।
    (iii) পরিবর্তন কোনো স্থানের আবহাওয়া প্রত্যেকদিনই পরিবর্তন হয় । জলবায়ু পরিবর্তন হয় ঋতুভেদে ।
    (iv) স্থায়িত্ব আবহাওয়া ক্ষণস্থায়ী কোনো অঞ্চলের জলবায়ু বছরের পর বছর প্রায় একইরকম থাকে ।
    (v) প্রভাব আবহাওয়া মানুষের দৈনন্দিন কাজে প্রভাব বিস্তার করে । জলবায়ু কোনো স্থানের মাটি, স্বাভাবিক উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান জীবনযাত্রার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে ।
  • ভারতের জলসম্পদ (অধ্যায় ৫.৩)

    ভারতের জলসম্পদ

    1. ভারতের দীর্ঘতম নদী –

    Ans. গঙ্গা (2525 km)

    1. দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা –

    Ans. গোদাবরী নদী

    1. ভারতের দীর্ঘতম উপনদী –

    Ans. যমুনা নদী

    1. ভারতের পশ্চিমবাহিনী নদী –

    Ans. নর্মদা, তাপ্তি, মাহি, সবরমতী ইত্যাদি ।

    1. ভারতের পূর্ব বাহিনী নদী –

    Ans. গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী, সুবর্ণরেখা, মহানদী ইত্যাদি ।

    1. ভারতের অন্তর্বাহিনী নদী –

    Ans. লুনি

    1. ভারতের জলবিভাজিকা সমূহ –

    Ans. তিনটি –

    (i) উত্তরের হিমালয় পর্বত

    (ii) মধ্যভারতের বিন্ধ্য পর্বত

    (iii) দক্ষিণের পশ্চিমঘাট পর্বত

    1. ভারতের সর্বোচ্চ জলপ্রপাত –

    Ans.  গেরসোপ্পা বা যোগ বা মহাত্মা গান্ধি জলপ্রপাত (253 মি. সরাবতী নদী)

    1. ভারত তথা পৃথিবীর বৃহত্তম নদী দ্বীপ –

    Ans. ব্রহ্মপুত্রের মাজুলি দ্বীপ ।

    1. ভারত তথা পৃথিবীর বৃহত্তম নদী খাত –

    Ans. নামচাবারওয়ার সাংকো (ব্রহ্মপুত্র) ।

    1. পৃথিবীর বৃহত্তম লবনাত্মক উপহ্রদ –

    Ans. চিল্কা (উড়িশা) ।

    1. ভারতের বৃহত্তম হ্রদ –

    Ans. উলার হ্রদ (জম্মু ও কাশ্মীর) ।

    1. ভারতের বৃহত্তম লবনাত্মক হ্রদ –

    Ans. সম্বর হ্রদ (রাজস্থান) ।

    1. ভারতের দীর্ঘতম খাল –

    Ans. উচ্চ গঙ্গা খাল (1412 km) ।

    1. পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘতম খাল –

    Ans. মেদিনীপুর খাল (520 কিমি.) ।

    1. ভারতের উচ্চতম লবনাত্মক জলের হ্রদ –

    Ans. জম্মু ও কাশ্মীরের লাদাখ অঞ্চলের প্যাংগং হ্রদ  |

    1. ভারতের বৃহত্তম সেচ খাল –

    Ans. ইন্দিরা গান্ধি খাল (649 km রাজস্থান) ।

    1. ভারতের বৃহত্তম স্বাদু জলের হ্রদ –

    Ans. উলার হ্রদ ।

    1. ভারতের দীর্ঘতম বাঁধ –

    Ans. হীরাকুঁদ বাঁধ (ওড়িশা 15 km) ।

    1. ভারতের উচ্চতম বাঁধ –

    Ans. তেহরী বাঁধ (260 মিটার) ।

    1. নদীমাতৃক দেশ –

    Ans. ভারতকে নদীমাতৃক দেশ বলে কারণ 14 টি বড়ো ও 44 টি মাঝারি নদী অববাহিকা সারা দেশকে সুপ্রাচীন কাল থেকে বিধৌত করে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়েছে । সন্তান স্নেহে ভারতবাসীকে লালন পালন করছে । তাই ভারতকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয় ।

    1. উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি বিখ্যাত হ্রদ –

    Ans. লোকটাক হ্রদ ।

    1. অন্তর্বাহিনী নদী :-

    Ans. যে সমস্ত নদীর প্রবাহপথ কোনো দেশ বা মহাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ – অর্থাৎ যেসব নদী স্থলভাগের বাইরে কোনও সাগর বা জলভাগে না পড়ে স্থলভাগের মধ্যেই কোনো হ্রদ বা জলাশয়ে পতিত হয় কিংবা স্থলভাগেই বিলীন হয়ে যায়, সেইসব নদীকে অন্তর্বাহিনী নদী বলে ।

    1. জলসংরক্ষনের পদ্ধতি আলোচনা কর ?

    Ans. বর্তমান ভারতে নানান পদ্ধতিতে জলসংরক্ষন করা হয়, যেমন –

    (i) জল-বিভাজিকা উন্নয়ন :- জল-বিভাজিকা উন্নয়নের মাধ্যমে ভুপৃষ্টের জল কোনো জলাশয়ে সঞ্চিত রেখে তার মাধ্যমে নানান কাজকর্ম করা হয় । এর দ্বারা একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, তেমনি অন্যদিকে ওই জল নানান অর্থনৈতিক কাজেও ব্যবহৃত হয় । বর্তমান ভারতের বিভিন্ন স্থানে জল-বিভাজিকা উন্নয়ন কল্পে নানান প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে ।

    (ii) বৃষ্টির জলসংরক্ষন :- বর্তমানে বৃষ্টির জল ধরে রেখে জল সংরক্ষন করার পদ্ধতি চালু করা হয়েছে । বৃষ্টির জল প্রধানত দুই ভাবে ধরে রাখা যায়, যেমন –

    (a) বাড়ির ছাদে জল সংরক্ষণ,

    (b) ভুপৃষ্টের বিভিন্ন আধারে জলের সংরক্ষণ ।

    এই দুই পদ্ধতিতে প্রধানত জলাশয় নির্মাণ করে জল সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে ।

    1. উত্তর দক্ষিণ ভারতের নদনদীর বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য লেখ ।

    Ans.

    বিষয়

    উত্তর ভারতের নদনদী

    দক্ষিণ ভারতের নদনদী

    (i) উৎপত্তি অধিকাংশ নদীই হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়েছে । পশ্চিমঘাট পর্বত ও মধ্য ভারতের উচ্চভূমি থেকে উৎপন্ন হয়েছে ।
    (ii) বয়স নদীগুলি বয়সে নবীন । নদীগুলি বয়সে প্রাচীন ।
    (iii) জলের উৎস এরা বরফগলা জলে পুষ্ট । এরা বৃষ্টির জলে পুষ্ট ।
    (iv) দৈর্ঘ্য ও অববাহিকা নদীগুলির দৈর্ঘ্য এবং অববাহিকা বেশ বড়ো । নদীগুলির দৈর্ঘ্য এবং অববাহিকা খুব একটা বড়ো নয় ।
    (v) বদ্বীপ প্রায় প্রতিটি নদীতেই বদ্বীপ আছে । কোনো কোনো নদীর বদ্বীপ আছে ।
    (vi) নাব্যতা ও নৌ-পরিবহন নাব্যতা বেশি ও নৌ-পরিবহনের উপযুক্ত । নাব্যতা কম ও নৌ-পরিবহনের অনুপযুক্ত ।
    1. দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ নদী পূর্ববাহিনী কেন ?

    Ans. দক্ষিণ ভারতের ভূমির ঢাল পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ নদী পূর্ববাহিনী ।

    1. দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি খরস্রোতা কেন ?

    Ans. দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি কঠিন আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলাস্তর দ্বারা গঠিত প্রাচীন ও বন্ধুর মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত । উঁচু-নীচু বন্ধুর ভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ও নদীর ঢাল অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এই দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি খরস্রোতা ।

    1. দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি চিরপ্রবাহী নয় কেন ?

    Ans. দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি কেবলমাত্র বর্ষার জলে পুষ্ট । হিমবাহ বা বরফগলা জল এরা পায় না বলে নদীগুলিতে সারাবছর জল থাকে না । তাই এই নদীগুলি চিরপ্রবাহী নয় ।

    1. বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলতে কী বোঝো ?

    Ans. যে নদী পরিকল্পনার সাহায্যে কোনো নদী উপত্যকার অধিবাসীদের সর্বাঙ্গীন আর্থসামাজিক বিকাশের জন্য নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে ও সংলগ্ন অঞ্চলে জলাশয় নির্মাণ করে নদী উপত্যকায় সেতু বন্ধন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলসেচ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, জল পরিবহন, পানীয় জল সরবরাহ এবং মৎসচাষ প্রকল্প প্রভৃতি বহুমুখী উদ্দেশ্য সাধন করা হয়, তাকে ‘বহুমূখী নদী পরিকল্পনা’ বলে ।

    1. সেচ খাল সম্পর্কে আলোচনা কর

    Ans. ভারতের নদী সম্মৃদ্ধ অঞ্চলে প্রায় 80% কৃষিজমিতে সেচ খালের সাহায্যে জলসেচ করা হয় । ভারতের খালগুলি প্রধানত দুই ধরণের । যথা –

    (i) নিত্যবহ খাল :- ভারতে –

    (a) উত্তর প্রদেশের গঙ্গা ও যমুনা নদীর মধ্যবর্তী স্থান ।

    (b) রাজস্থানের গঙ্গা নগর জেলা ।

    (c) পশ্চিম পাঞ্জাব সমভূমি এবং

    (d) পশ্চিমবঙ্গের দামোদর উপত্যকায় প্রধানত নিত্যবহ সেচখাল দেখা যায় ।

    (ii) অনিত্যবহ খাল বা প্লাবন খাল :- প্লাবন খাল সাধারণত বর্ষার প্লাবনে জলপূর্ণ হয় । ভারতে প্লাবন খাল দ্বারা সেচ প্লাবিত অঞ্চলগুলি হল –

    (a) ওড়িশার মহানদী বদ্বীপ,

    (b) তামিলনাড়ুর কাবেরী বদ্বীপ,

    (c) অন্ধপ্রদেশের গোদাবরী-কৃষ্ণা বদ্বীপ ইত্যাদি ।

    1. ভৌমজল কাকে বলে ? এর অতিরিক্ত ব্যবহার ও তার প্রভাব লেখ

    Ans. ভৌমজল :- সাধারণভাবে যে জল ভূগর্ভে পাওয়া যায়, তাকে ভৌমজল বলে । ভৌমজল সাধারণত দূষণমুক্ত, তাই সেচের কাজে ভৌমজলের উপযোগিতা অনস্বীকার্য |

    ব্যবহার ও প্রভাব :- বর্তমানে নানান কাজের জন্য ভৌমজল এত বেশি পরিমানে ব্যবহৃত হচ্ছে যে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীতে ভৌমজলের ভান্ডার শেষ হয়ে যাবে । তাই বর্তমানে নানান বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করে ভৌমজলের ভান্ডার বাড়ানোর চেষ্টা চলছে ।

    1. ভারতের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বহুমুখী নদী পরিকল্পনার নাম লেখ

    Ans. ভারতের উল্লেখযোগ্য বহুমুখী নদী পরিকল্পনাগুলি হল –

    (i) দামোদর নদী পরিকল্পনা

    (ii) ভাকরা-নাঙ্গাল পরিকল্পনা

    (iii) মহানদী প্রকল্প

    (iv) ময়ূরাক্ষী প্রকল্প

    (v) কংসাবতী প্রকল্প

    (vi) তিস্তা প্রকল্প

    (vii) নাগার্জুন সাগর প্রকল্প

    (viii) তুঙ্গভদ্রা প্রকল্প

    (ix) কোশী প্রকল্প

    (x) চম্বল প্রকল্প

    (xi) রামগঙ্গা প্রকল্প

    1. জল সংরক্ষণের গুরুত্ব লেখ

    Ans. গুরুত্ব :-

    (i) প্রাকৃতিক উপায়ে জল সংরক্ষণ করলে খরচ কম হয় |

    (ii) জল হল সম্পদ । তাই সম্পদকে সংরক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় |

    (iii) জলসংরক্ষন করলে চাষের সুবিধা হয় |

    (iv) বাঁধ দিয়ে জল সংরক্ষণ করলে তা জলসেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও অন্যান্য কাজেও ব্যবহৃত হয় ।

    (v) বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও জল সংরক্ষণ প্রয়োজন ।

    1. বহুমুখী নদী পরিকল্পনার উদ্দেশ্য লেখ

    Ans. উদ্দেশ্য :- বহুমুখী নদী পরিকল্পনার মাধ্যমে নিম্নলিখিত উদ্দেশ্য সাধন করা হয়, যথা :-

    (i) টারবাইনের সাহায্যে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় ।

    (ii) কৃত্রিম হ্রদে মৎসচাষ করা হয় ।

    (iii) পানীয় জল সরবরাহ করা হয় ।

    (iv) বাঁধগুলো নদীর ওপর সেতু হিসেবে ব্যবহৃত হয় ।

    (v) বিভিন্ন জলাশয়, খাল প্রভৃতির সাহায্যে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয় ।

    1. দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন সম্পর্কে যা জানো লেখ

    Ans. অবস্থান :- দামোদর নদী পরিকল্পনা ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুমুখী পরিকল্পনা । ঝাড়খন্ড ও পশ্চিমবঙ্গের প্রায় 24,235 বর্গকিমি. স্থান জুড়ে এই DVC গড়ে উঠেছে ।

    গড়ে ওঠার কারণ :- দুঃখের নদ বলে পরিচিত দামোদর নদীর বন্যার প্রকোপে বহু লোকের জীবন ও সম্পত্তিহানি ঘটত । 1948 সালে মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রের টেনেসি ভ্যালি অথরিটি অনুকরণে DVC তত্ত্বাবধানে ডব্লু এল ভর ডুইন এই প্রকল্পটি রচনা করেন ও 1955 সালে প্রকল্পটি শেষ হয় ।

    উদ্দেশ্য :- এই প্রকল্পের উদ্দেশ্যগুলি হল –

    (i) বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা ।

    (ii) জলসেচ ব্যবস্থা গ্রহণ ।

    (iii) বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ।

    (iv) জলপথ পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ।

    (v) শিল্পকেন্দ্রে জল ও বিদ্যুতের জোগান ।

    (vi) নিকটবর্তী বাড়িতে জল সরবরাহ করা ।

    (ix) অরণ্য সৃজন ও মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ করা এবং সর্বোপরি ।

    (x) দামোদর উপত্যকা অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নতি ঘটানো ।

    উপকৃত অঞ্চল :- পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, বর্ধমান, হুগলি, পুরুলিয়া, হাওড়া প্রভৃতি জেলা এবং ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ, পালামৌ, রাঁচি, ধানবাদ, সাঁওতাল প্রভৃতি শিল্প অঞ্চল হল DVC দ্বারা উপকৃত ।

    1. গঙ্গা নদীর উৎস গতিপথ বর্ণনা কর

    Ans. গঙ্গা ভারতের প্রধান ও দীর্ঘতম নদী । এর মোট দীর্ঘ প্রায় 2525 km.। এর মধ্যে 2017 কিমি. ভারতে প্রবাহিত হয়েছে । এই নদীতে প্রধানত তিনটি গতিপথ লক্ষ্য করা যায় ।

    যথা :- উচ্চগতি, মধ্যগতি ও নিম্নগতি । এই কারণে গঙ্গাকে আদর্শ নদী বলা হয়।

    গতিপথের বর্ণনা :-

    (i) উৎস ও উচ্চগতি :- উত্তরাখন্ডের কুমায়ুন হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ তুষার গূহা থেকে উৎপন্ন ভাগীরথী হল গঙ্গার উৎস নদী । শতপন্থা হিমালয় থেকে উৎপন্ন অলকানন্দের সঙ্গে রুদ্র প্রয়াগে মন্দাকিনি মিলিত হয়ে অলকানন্দ নামে দেবপ্রয়াগের কাছে ভাগীরথীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে । দেবপ্রয়াগের পর থেকে ভাগীরথী অলকানন্দের মিলিত প্রবাহ গঙ্গা ।

    (ii) মধ্যগতি :- হরিদ্বার থেকে রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত প্রায় 1600 কিমি. প্রবাহ গঙ্গার মধ্যগতি । হরিদ্বার থেকে প্রথমে দক্ষিণপূর্ব ও পরে পূর্বদিকে অসংখ্য বাঁক সৃষ্টি করে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ।

    (iii) নিম্নগতি :- পশ্চিমবঙ্গের ধুলিয়ান থেকে মোহনা পর্যন্ত গঙ্গার নিম্নগতি । পশ্চিমবঙ্গের ধুলিয়ান গিরিয়ার কাছে এসে গঙ্গা দুই ভাগে ভাগ হয়েছে । প্রধান শাখাটি পদ্মা নাম নিয়ে বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে । অপ্রধান শাখাটি মুর্শিদাবাদ, কলকাতার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে ।

  • ভারতের ভূপ্রকৃতি (অধ্যায় ৫.২)

    ভারতের ভূপ্রকৃতি

    1. ভূপ্রাকৃতিক বিভাগ :- ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভারতকে পাঁচটি ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়, যথা –

    i) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল

    ii) বৃহৎ সমভূমি অঞ্চল

    iii) উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল

    iv) উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল

    v) দ্বীপ অঞ্চল

    1. প্রস্থ বরাবর হিমালয়ের শ্রেণি বিভাগ করো
      অথবা, প্রস্থ বরাবর হিমালয়ের ভূপ্রকৃতি বর্ণনা করো
      অথবা, হিমালয়ের উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত পর্বত শ্রেণিগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো

    উঃ – প্রস্থ বরাবর হিমালয়ের শ্রেণি বিভাগ – পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়ে প্রস্থ বরাবর উত্তর-দক্ষিণে চারটি সমান্তরাল পর্বত শ্রেণি রয়েছে । যথা –

    i) টেথিস হিমালয় বা ট্রান্স হিমালয়

    ii) হিমাদ্রি হিমালয় বা উচ্চ হিমালয়

    iii) হিমাচল বা মধ্য হিমালয় বা অব হিমালয়

    iv) শিবালিক বা বহিঃহিমালয়

    i) টেথিস হিমালয় বা ট্রান্স হিমালয় :-

    a) অবস্থান– জম্বু ও কাশ্মীর রাজ্যে অবস্থিত । অধিকাংশই তিব্বতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় একে তিব্বত হিমালয় বলে ।

    b) উৎপত্তি– প্রথমবার ভূ-আলোড়নে (7-12 কোটি বছর আগে) উৎপত্তি হয় ।

    c) প্রস্থ–পর্বত শ্রেণিটি প্রায় 40 কিমি চওড়া ।

    d) উচ্চতা–গড় উচ্চতা প্রায় 4000 মিটার ।

    e) বৈশিষ্ট্য – এটি পর্বত ও মালভূমিময় । জাস্কর (সর্বোচ্চ শৃঙ্গ লিওপারগেল 7420 মিটার, লাদাখ, কৈলাস, কারাকোরাম ও আগিল এবং আকসাইচিন মালভূমি আছে ।

    ii) হিমাদ্রি হিমালয় বা উচ্চ হিমালয় :-

    a) অবস্থান– টেথিস হিমালয়ের দক্ষিণে হিমাচলের উত্তরে অবস্থিত । নেপালে ভারত মহাসাগর লেখ নামে পরিচিত ।

    b) উৎপত্তি – টেথিস হিমালয়ের সঙ্গে প্রথমবার ভূ-আলোড়নে উৎপত্তি হয় ।

    c) বিস্তার – এটি হিমালয়ের উচ্চতম অংশ, গড় উচ্চতা 6100 মিটার, নাঙ্গা পর্বত থেকে নামচাবারওয়া পর্যন্ত 2400 কিমি দীর্ঘ এবং 25 কিমি প্রশস্ত ।

    d) বৈশিষ্ট্য

    ♦ অসংখ্য তুষার বৃত সুউচ্চ শৃঙ্গ আছে । যথা – মাউন্ট এভারেস্ট (বিশ্বের উচ্চতম), কাঞ্চন জঙ্ঘা (তৃতীয় উচ্চতম), লোটসে, মানাসুল, মাকুল, চোওয়া, ধওলাগিরি, অন্নপূর্ণা, কেদারনাথ, কামেট, নন্দাদেবী।

    ♦ এখানে বেশকিছু গিরি পথ আছে – বুর্জিলা, (শ্রীনগর ও লে) জেলেপলা, নাথুলা (সিকিম ও চুম্বি), সিপকি লা ।

    iii) হিমাচল বা মধ্য হিমালয় :-

    a) অবস্থান – হিমাদ্রির দক্ষিণে ও শিবালিকের উত্তরে অবস্থিত ।

    b) উৎপত্তি – দ্বিতীয়বার ভূ-আলোড়নের ফলে (2-3 কোটি বছর) উৎপত্তি হয় ।

    c) বিস্তার–উচ্চতা মাঝারি গড়ে 3500-6500 মিটার। এটি 60-80 কিমি প্রশস্ত ।

    d) বৈশিষ্ট্য

    ♦ অনেক পর্বত শ্রেণি আছে । যথা – পিরপাঞ্জল, ধাওলাধর, মুসৌরি, নাগটিব্বা, মহাভারত (লেখ)

    ♦ অনেক গিরি পথ আছে । যথা – পিরপাঞ্জল (শ্রীনগর ও জম্বু) বানিহাল বা জওহর টানেল (এশিয়ার দীর্ঘতম সুড়ঙ্গ), বিডিল, গোলাবঘর ।

    ♦ শিবালিক ও হিমাচলের অনেক সমান্তরাল ও চওড়া উপত্যকা আছে । যথা – কাশ্মীর, কুলু-কাংড়া।

    iv) শিবালিক বা অব হিমালয় :-

    a) অবস্থান – এটি হিমালয়ের দক্ষিণতম শ্রেণি । নেপালে চুরিয়া মুরিয়া নামে পরিচিত ।

    b) উৎপত্তি – তৃতীয়বার ভূ-আলোড়নে ।

    c) বিস্তার – হিমাচলের সমান্তরালে 2400 কিমি দীর্ঘ খুব সংকীর্ণ 15-60 কিমি প্রশস্ত এবং উচ্চতা 600-1500 মিটার ।

    d) বৈশিষ্ট্য – দক্ষিণ দিকে খুব খাঁড়া ও উত্তর দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে উপত্যকা সৃষ্টি হয়েছে, যাকে পশ্চিম হিমালয়ে দুন ও পূর্ব হিমালয়ে দুয়াব বলে । দেরাদুন, চৌখাম্বা, কোটা, পাটলি, চুম্বি উপত্যকা ।

  • ভারতের অবস্থান ও প্রশাসনিক বিভাগ (অধ্যায় ৫.১) অতিরিক্ত

    ভারতপ্রাকৃতিক পরিবেশ

    অবস্থান, প্রশাসনিক বিভাগ

    1. ভারতের অক্ষাংশগত অবস্থান লেখ ।

    উঃ – ভারত দক্ষিণে 8°4′ উত্তর অক্ষাংশ (কন্যা কুমারিকা অন্তরীপ) থেকে উত্তরে 37°6′ উত্তর অক্ষাংশ (কাশ্মীরের ইন্দিরাকল) পর্যন্ত বিস্তৃত । অক্ষাংশগত ভাবে ভারত উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত।

    1. ভারতের সীমানা বর্ণনা কর 

    উঃ – ভারতের উত্তরে হিমালয় পর্বত এবং চিন, নেপাল, ভুটান অবস্থিত । ভারতের পশ্চিমে পাকিস্থান ও আরব সাগর, পূর্বে মায়ানমার ও বাংলাদেশ, বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণে শ্রীলঙ্কা ও ভারত মহাসাগর ।

    1. উপদ্বীপ কাকে বলে ?

    উঃ – তিনদিক জলভাগ দ্বারা বেষ্টিত স্থল ভাগকে উপদ্বীপ বলে ।

    যেমন – ভারত হল একটি উপদ্বীপ । কারন ভারতের তিন দিকে রয়েছে তিনটি সাগর (পূর্বে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে আরব সাগর এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর)। ভারত পৃথিবীর বৃহত্তম উপদ্বীপ ।

    1. উপসাগর কাকে বলে ?

    উঃ – তিনদিক স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলভাগকে উপসাগর বলে ।

    যেমন – কচ্ছ উপসাগর, খাম্বাত উপসাগর ইত্যাদি ।

    1. ভারতের বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের নাম লেখ ?

    উঃ – i) ভারতের বৃহত্তম রাজ্য – রাজস্থান

    ii) বৃহত্তম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল – আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপ ।

    iii) ক্ষুদ্রতম রাজ্য – গোয়া

    iv) ক্ষুদ্রতম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল – লাক্ষাদ্বীপ ।

    1. ভারতের পশ্চিমে ও দক্ষিণে অবস্থিত উপসাগরগুলির নাম লেখ

    উঃ –

    ♦ পশ্চিমে ভারতের উপসাগর হল – কচ্ছ উপসাগর ও খাম্বাত উপসাগর ।

    ♦ দক্ষিনে ভারতের উপসাগর হল – মান্নার উপসাগর ।

    1. ভারতের কোন রাজ্যের জেলার সংখ্যা সর্বাধিক এবং সর্বনিম্ন ?

    উঃ – ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের জেলার সংখ্যা সর্বাধিক (72 টি) এবং ত্রিপুরা ও সিকিম রাজ্যের জেলার সংখ্যা সর্বনিম্ন (4 টি) ।

    1. সর্বাধিক রাজ্য দ্বারা সীমানা স্পর্শ করেছে এমন দুটি রাজ্যের নাম লেখ ?

    উঃ – সর্বাধিক রাজ্য দ্বারা সীমানা স্পর্শকারী রাজ্য হল –

    i) উত্তরপ্রদেশ – 8টি (উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, রাজস্থান ও বিহার)।

    ii) অসম – 7টি (পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ)।

    1. ভারতের রাজ্যসমূহের পুনঃর্গঠনের প্রধান ভিত্তি কী ছিল ?

    উঃ – ভারতের রাজ্যসমূহের পুনঃর্গঠনের প্রধান ভিত্তিগুলি হল – ভাষা, সংস্কৃতি, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রাকৃতিক সাদৃশ্য ।

    1. SAARC কী ?

    উঃ – পুরো অর্থ – South Asian Association For Regional Co-Operation বা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা পরিষদ ।

    স্থাপন – 8 ডিসেম্বর, 1985 খ্রিস্টাব্দ ।

    সদস্য দেশ – ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, ভূটান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ (8টি) ।

    সদর দপ্তর – নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ।

    1. ভারতকে উপমহাদেশ বলা হয় কেন ?

    উঃ – এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশে ভারতসহ পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ভূ-প্রাকৃতিক, জলবায়ু, আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সাদৃশ্য দেখা যায় । 6 টি দেশের মধ্যে একেবারে মধ্যভাগে অবস্থিত ভারতের ক্ষেত্রমান, জনসংখ্যা এবং প্রভাব প্রতিপত্তি সবচেয়ে বেশি । ভারত হল এই অঞ্চলটির মূলচালিকা শক্তি । তাই এই অঞ্চলকে ভারতীয় উপমহাদেশ বলা হয় ।

    1. ভারতের সীমান্তরেখার বিভিন্ন নাম লেখ ?

    উঃ –

    সীমান্ত রেখা

    রাষ্ট্র

    ম্যাকমোহন লাইন অরুণাচল প্রদেশে ভারত – চিন
    র‍্যাডক্লিফলাইন ভারত – পাকিস্তান
    ডুরান্ড লাইন ভারত – আফগানিস্তান
    Line of Control [LOC] ভারত – পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর
    Line of Actual Control [LAC] ভারত – চিন অধিকৃত কাশ্মীর
    24° প্যারালাল ভারত – পাকিস্তান (পাক দাবি)
    28° প্যারালাল ভারতীয় কাশ্মীর – পাকিস্তানের কাশ্মীর
    1. ভারতের রাজ্য পুনর্গঠনের ভিত্তিগুলি কী কী ?

    উঃ – ভারতের রাজ্য পুনর্গঠনের ভিত্তিগুলি হল –

    i) ভাষা – বহু ভাষার দেশ ভারতে 122 টি প্রধান ভাষা এবং 22 টি সংবিধান স্বীকৃত ভাষা আছে । তাই মূলত আঞ্চলিক ভাষার ভিত্তিতেই রাজ্য ভাগ করা হয়েছে ।

    যেথা – অসম, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু ।

    ii) উন্নয়ন পরিকল্পনা – সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন ঘটানো ও পরিকল্পনা গ্রহনের জন্য উত্তরাখন্ড, ছত্তিশ গড়ের জন্ম হয় ।

    iii) প্রশাসনিক সুবিধা – সুবিশাল রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ কর্মচালানোর জটিলতার জন্য রাজ্য পুনর্গঠন করা হয় ।

    যেমন – উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ত্রিপুরা ।

    iv) সংস্কৃতি – সামাজিক, আচার-অনুষ্ঠান, সংস্কারের পার্থক্যের জন্য একই ভাষা সত্ত্বেও রাজ্য গঠন করা হয়েছে ।

    যেমন – ঝাড়খন্ড, উত্তরাখণ্ড ।

    v) প্রাকৃতিক ও ভৌগলিক – অভিন্ন প্রাকৃতিক ও ভৌগলিক পরিবেশের জন্য রাজ্য গঠন করা হয় ।

    1. ভারতের ভূপ্রাকৃতিক বিভাগগুলি কী কী ?

    উঃ – ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ভূমিরূপের বৈশিষ্টানুসারে ভারত কে 5টি প্রধান ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়, যথা –

    i) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল

    ii) বৃহৎ সমভূমি অঞ্চল

    iii) উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল

    iv) উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল

    v) দ্বীপ অঞ্চল

    1. ভারতের আয়তন লেখ

    উঃ – 32 লক্ষ 87 হাজার 782 বর্গকিমি ।

    1. আয়তনে পৃথিবীতে ভারতের স্থানসপ্তম
    2. জনসংখ্যা (2011) – 121 কোটি 1 লক্ষ 93 হাজার 4 শত 22 জন ।
    3. ভারতের উত্তরতম বিন্দুকাশ্মীরের ইন্দিরা কল ।
    4. ভারতের দক্ষিণতম বিন্দুআন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ইন্দিরা পয়েন্ট ।
    5. ভারতের মূল ভূখন্ডের দক্ষিণতম বিন্দুকন্যাকুমারিকা অন্তরীপ ।
    6. ভারতের পূর্বতম বিন্দুঅরুণাচল প্রদেশের কিবিথু ।
    7. ভারতের পশ্চিমতম বিন্দুগুজরাটের গুহার মোটা ।
    8. ভারতের প্রমান দ্রাঘিমারেখা82°30′ পূর্ব ।
    9. ভারতের নবীনতম রাজ্যতেলেঙ্গানা ।
    10. ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে বৃহত্তমআয়তনে রাজস্থান, জনসংখ্যায় উত্তরপ্রদেশ, জনঘনত্বে বিহার ।
    11. ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে ক্ষুদ্রতমআয়তনে গোয়া, জনসংখ্যায় সিকিম, জনঘনত্বে অরুণাচল প্রদেশ ।
    12. কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে বৃহত্তমআয়তনে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, জনসংখ্যায় ও জনঘনত্বে দিল্লি ।
    13. কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে ক্ষুদ্রতমআয়তনে ও জনসংখ্যায় লাক্ষাদ্বীপ, জনঘনত্বে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ।
    14. ভারতের প্রথম ভাষাভিত্তিক রাজ্যঅন্ধ্রপ্রদেশ ।
    15. ভারতের বৃহত্তম জেলাকচ্ছ ।
    16. ভারতের ক্ষুদ্রতম জেলামাহে ।
    17. ভারতের রাষ্ট্রীয় ভাষাহিন্দি ।
    18. ভারতের প্রধান সংযোগ কারী ভাষা – ইংরেজি ।
    19. ভারতের সংবিধান স্বীকৃত ভাষা 22 টি ।
    20. ভারতের মোট জেলা সংখ্যা 683 টি ।
    21. সর্বাধিক জেলার সংখ্যাবিশিষ্ট রাজ্যউত্তরপ্রদেশ (72টি) ।
    22. সর্বনিম্ন জেলার সংখ্যাবিশিষ্ট রাজ্য সিকিম (4টি) ।
    23. অর্থনৈতিক রাজধানী ও ভারতের প্রবেশদ্বার মুম্বাই ।
    24. ভারতের সর্বাধিক সাক্ষরতার হারকেরালা ।
    25. ভারতের সর্বনিম্ন সাক্ষরতার হারবিহার ।
    26. ভারতের পূর্ব পশ্চিম দ্রঘিমারেখার মধ্যে সময়ের পার্থক্য 1 ঘন্টা 56 মিনিট বা প্রায় 2 ঘন্টা ।
    27. ভারতের উল্লেখযোগ্য প্রণালী

    উঃ –

    প্রনালী

    অবস্থান

    i) গ্রেট চ্যানেল আন্দামান ও নিকোবর, ইন্দোনেশিয়া
    ii ) 10° চ্যানেল আন্দামান ও নিকোবর
    iii) 9° চ্যানেল মিনিকয় ও লাক্ষাদ্বীপ
    iv) 8° চ্যানেল মালদ্বীপ ও মিনিকয়
    v) মান্নার উপসাগর ও পক প্রনালী ভারত ও শ্রীলঙ্কা
    1. দুন কাকে বলে ?

    উঃ – শিবালিক পর্বতের উত্তরে যে সমতল অনুদৈর্ঘ্য উপত্যকা সৃষ্টি হয়েছে উত্তরাখন্ডের স্থানীয় ভাষায় তাকে দুন বলে ।

    উৎপত্তি – শিবালিকের উত্থানের পরে হিমাদ্রি ও হিমাচল থেকে আগত নদীগুলি রুদ্ধ হয়ে হ্রদ সৃষ্টি করে এবং ক্ষতিয় পদার্থ জমা হতে থাকে । পরে নদীগুলি শিবালিক কেটে দক্ষিণে প্রবাহিত হলে এদের জল সরে গিয়ে প্রশস্ত সমভূমি গঠন করে ।

    উদাহরণ – দেরাদুন হল ভারতের বৃহত্তম দুন ।

    1. ছিটমহল কী ?

    উঃ – ইংরেজ শাসনের অবসানের পর ভারত ভাগের সময় 8 টি থানা (পঞ্চগর, ডিমলা, দেবীগঞ্জ, পাটগ্রাম, হাতিবাঁধা, লাল মনির হাট, ফুলবাড়ি ও ভূরাঙ্গামারি ) এলাকা পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে চলে যায় অর্থাৎ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং বাংলাদেশের কিছু ভূখন্ড ভারতে চলে আসে । এই জমিগুলি হল ছিটমহল ।

    1. কাশ্মীর উপত্যকা কাকে বলে ?

    উঃ – জম্বু কাশ্মীর রাজ্যের পিরপাঞ্চল ও জাস্কর পর্বতের মাঝে বিশ্ব বিখ্যাত হ্রদ সমভূমিকে কাশ্মীর উপত্যকা বলে ।

    বৈশিষ্ট্য

    i) এটি 135 কিমি দীর্ঘ 40 কিমি প্রশস্ত 4921 বর্গকিমি ক্ষেত্র যুক্ত ।

    ii) ডাল, উলার হ্রদ, বরফাবৃত শৃঙ্গ, পপলার চিনার বিক্ষেপ, নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য এটি ভূস্বর্গ নামে বিশ্ব বিখ্যাত ।

    উৎপত্তি – প্রাচীনকালে এখানে হ্রদ ছিল যা নদী ও হিমবাহ দ্বারা ভরাট হয়ে সমভূমিটি সৃষ্টি হয় । উপত্যকার 100 – 200 মিটার উঁচু ভূমিটিতে যে ধাপযুক্ত উর্বর পলিস্তর সৃষ্টি হয়েছে , তা কারেওয়া নামে পরিচিত । এতে জাফরান চাষ প্রসিদ্ধ ।

    1. আকসাইচিন কী ?

    উঃ – চিন অধিকৃত কাশ্মীরে কারকোরামের উত্তর -পূর্বে পর্বত বেষ্টিত উঁচু মালভূমি হল আকসাইচিন । উচ্চতা 4500 মিটারেরও বেশি । লবণাত্মক হ্রদ লিং জিটান আছে ।

    1. সোডা সমভূমি কী ?

    উঃ – জম্বু কাশ্মীরের উত্তর -পূর্বে আকসাইচিন মালভূমির উত্তরে প্রায় সমতল উচ্চভূমি হল সোডা সমভূমি । এটি চিন অধিকৃত ।

    1. মরুস্থলী শব্দের অর্থ কী ? এই প্রকার নামকরণের কারণ কী ?

    উঃ – ‘মরু’ শব্দের অর্থ মৃত ও ‘স্থলী’ শব্দের অর্থ দেশ । অর্থাৎ মৃতের দেশ ।

    এই মরুস্থলীটি ভারতীয় মরুভূমির সর্ব পশ্চিমে অবস্থিত । এই অঞ্চলে মাইলের পর মাইল জুড়ে ছড়িয়ে আছে ।শুধু বালি আর বালি । কোথাও সবুজের কোনো চিহ্ন নেই । অতি অল্প বৃষ্টিপাতের কারনে এই অঞ্চলে জীবনের অস্তিত্ব প্রায় নেই বলে এই অঞ্চলটির নাম মরুস্থলী বা মৃতের দেশ নামকরণ হয়েছে ।

    1. ডেকানট্র্যাপ কী ?

    উঃ – উপদ্বীপীয় মালভূমির উত্তর -পশ্চিমাংশে ব্যাসল্ট লাভা গঠিত ও পূর্বাংশে ধাপযুক্ত অঞ্চলকে ডেকানট্র্যাপ বলে ।

    উৎপত্তি – ক্রেটাসিয়াস থেকে ইয়োসিন যুগে কয়েককোটি বছর আগে বিদার অগ্ন্যুৎপাতে তরল ব্যাসল্ট লাভা চাদরের আকারে জমা হয়ে সৃষ্টি হয় ।

    বৈশিষ্ট্য –

    i) ক্ষেত্রমান প্রায় 5 লক্ষ বর্গকিমি ।

    ii) লাভা স্তর পূর্বে 150 মিটার থেকে পশ্চিমে 3000 মিটার গভীর ।

    iii) লাভা নির্গমনে বিরতির জন্য পূর্ব দিক সিঁড়ির মতো ধাপযুক্ত ।

    1. তাল কী ? উদাহরণ দাও ?

    উঃ – ক্ষুমায়ন হিমালয়ে হিমবাহ ক্ষয়কার্যের মাধ্যমে অসংখ্য অবনমিত অংশের সৃষ্টি হয় । পরবর্তীকালে এই অবনমিত অংশগুলিতে জল জমে হ্রদের সৃষ্টি হয় । এই হ্রদগুলিকে স্থানীয় ভাষায় তাল বলে ।

    যেমন – সাততাল, ভিমতাল, পুনাতাল, নৈনিতাল ।

    51. পূর্ব হিমালয় ও পশ্চিম হিমালয়ের মধ্যে পার্থক্য লেখ  ?

    উঃ –

    বিষয়

    পূর্ব হিমালয়

    পশ্চিম হিমালয়

    i) বিস্তার এটি সিঙ্গালীলা পর্বত থেকে নামচাবারওয়া শৃঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত । এটি নাঙ্গাপর্বত থেকে কালি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ।
    ii) শিবালিক পূর্ব হিমালয়ে শিবালিক পর্বতের অস্তিত্ব নেই । পশ্চিম হিমালয়ে শিবালিক পর্বতের অবস্থান সুস্পষ্ট ।
    iii) ঢাল দক্ষিণ থেকে উত্তরে উচ্চতা হঠাৎ বাড়ায় খাড়া ঢাল যুক্ত । দক্ষিণ থেকে উত্তরে উচ্চতা ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ায় মৃদু ঢাল ।
    iv) পর্বত এখানে পর্বত, শৃঙ্গ, হিমবাহের সংখ্যা খুব কম ।

    যথা – সিঙ্গালিলা, দার্জিলিং পর্বত, কাঞ্চনজঙ্ঘা, নামচা বারওয়া শৃঙ্গ।

    এখানেপর্বত, শৃঙ্গ, হিমবাহের সংখ্যা অনেক বেশি ।

    যথা – লাদাখ, কারাকোরাম, জাস্করপর্বত, k2, কামেট শৃঙ্গ।

    1. হিমালয় পর্বতমালাকে কী কী অঞ্চলে ভাগ করা হয় ?

    উঃ – দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয় পর্বত মালাকে 3টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়,

    যথা – i) পশ্চিম হিমালয়

    ii) মধ্য হিমালয়

    iii) পূর্ব হিমালয়

    প্রস্থ বরাবর হিমালয় পর্বত মালাকে 4 ভাগে ভাগ করা হয়,

    যথা – i) টেথিস হিমালয়

    ii) হিমাদ্রি হিমালয়

    iii) হিমাচল হিমালয়

    iv) শিবালিক হিমালয়

    1. দুন কাকে বলে ?

    উঃ – হিমালয়ের পাদদেশের অংশই শিবালিক । 10-50 কিমি প্রশস্ত ও গড়ে 600 মিটার উচ্চ অংশটি পূর্বে সৃষ্টি হওয়া হিমাদ্রি ও হিমাচল থেকে নদী প্রবাহিতপলি, বালি, প্রস্তর-কণা প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে গঠিত হয়েছে । শিবালিকের দক্ষিণ ঢাল খাড়া, উত্তর দিকের ঢাল ঢালু হয়ে নেমে গেছে সমতল উপত্যকায় । এগুলিকেই দুন বলে ।

    যেমন – দেহরাদুন (বৃহত্তম), রাজৌলি দুন, চৌখম্বা দুন, পতৌতি দুন । অঞ্চলগুলি উর্বর বলে কৃষি সমৃদ্ধ ।

    1. ভারত এশিয়ার দীর্ঘতম সুড়ঙ্গ কোথায় নির্মান করা হয়েছে ?

    উঃ – বানিহালে এশিয়ার দীর্ঘতম সুড়ঙ্গ জওহর টানেল নির্মান করা হয়েছে ।

    1. ভূস্বর্গ কাকে বলে ?

    উঃ – কোলাহোই পর্বত শৃঙ্গের পূর্বে হিন্দু দের তীর্থস্থান অমরনাথ গুহা অবস্থিত । এখানকার হিমাদ্রি ও পিরপাঞ্জালের মধ্যে 150 কিমি দীর্ঘ 380 কিমি প্রশস্ত কাশ্মীর উপত্যকাকে প্রাকৃতির সৌন্দের্যের জন্য তাকে ভূস্বর্গ বলে ।

    1. ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদের নাম লেখ ?

    উঃ – ডাল ও উলার মিষ্টি জলের হ্রদ ।

    1. ডোবা খোলা বা বাদুড়ের গুহা কাকে বলে ?

    উঃ – পূর্ব-পশ্চিমে 240 কিমি দীর্ঘ ও উত্তর-দক্ষিণে 97 কিমি প্রশস্ত । এখানকার গারো পাহাড় (সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নুরুরেক – 1,412 মিটার), খাসিয়া পাহাড় (সর্বোচ্চ শৃঙ্গ শিলং পাহাড় – 1,961 মিটার) ও জয়ন্তিয়া উল্লেখযোগ্য । এই মালভূমিতে পার্বত্য গুহা আছে । গারো পাহাড়ের সিজু (1,900 মিটার দীর্ঘ), গুহাটি বিখ্যাত । একে স্থানীয় ভাষায় ডোবা খোলা বা বাদুড়ের গুহা বলে ।

    1. ঘগগর কাকে বলে ?

    উঃ – ঘগগর :- ভারতের মরু অঞ্চলটি পাঞ্জাব সমভূমির দক্ষিণে রাজস্থান রাজ্যের আরাবল্লি পর্বতের পশ্চিমে অবস্থিত । এটি সিন্ধু-গঙ্গা সমভূমির শুষ্ক অঞ্চল । এক সময় শতদ্রু, সরস্বতী, দৃশদবতী নদী এখানে প্রবাহিত ছিল । সরস্বতী নদীর শুষ্ক খাত এখনও রয়েছে । একেই ঘগগর বলে ।

    1. ভূপ্রকৃতি অনুসারে মরু অঞ্চলকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী ?

    উঃ – শ্রেণিবিভাগ – ভূপ্রাকৃতিক তারতম্য অনুসারে মরু সমভূমিকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা-

    i) বাগর :- মরুভূমির পুর্বদিকে আরাবল্লি পর্বতের পাদদেশের অংশটি বাগর নামে পরিচিত ।

    ii) রোহি :- আরাবল্লির পশ্চিমের নদীবিধৌত উর্বর প্লাবনভূমি অঞ্চল হল রোহি ।

    iii) ক্ষুদ্র মরু :- রোহির পশ্চিম প্রান্তের অংশ হল ক্ষুদ্র মরু অঞ্চল ।

    iv) হামাদা :- ক্ষুদ্র মরুর পশ্চিম প্রান্তে বালি ও শিলাখন্ড দ্বারা গঠিত অঞ্চল হল হামাদা ।

    v) মরুস্থলী :- হামাদার পশ্চিমের অঞ্চলটি সম্পূর্ণ বালুকাময়, রুক্ষ ও উদ্ভিদহীন অঞ্চল । এটিই হল আসল থর মরুভূমি । মরুস্থলীতে বহু বালিয়াড়ি দেখা যায় । এগুলিকেই ধ্রিয়ান বলে । ধ্রিয়ান শব্দের অর্থ অস্থিতিশীল বা চলমান ।

    1. বীহড় কাকে বলে ?

    উঃ – পূর্ব রাজস্থান উচ্চভূমির পুর্বে অবস্থিত অঞ্চলটি উত্তর -পূর্বে ঢালু । চম্বল এখান কার প্রধাননদী । চম্বল অঞ্চলের এবড়ো খেবড়ো ভূমিকে বীহড় বলে ।

    1. ময়দান বা মালনাদ কাকে বলে ?

    উঃ – মহারাষ্ট্র মালভূমির দক্ষিণে এই মালভূমি অবস্থিত । এই মালভূমির উত্তর-পূর্বাংশ কিছুটা কম উচ্চ । একে ‘ময়দান’ বলে । কর্ণাটক মালভূমির দক্ষিণ ও পশ্চিমাংশ অধিক উচ্চ । একে ‘মালনাদ’ বলে ।

    1. নীলগিরির কুন্ডা কাকে বলে ?

    উঃ – পূর্বঘাট, পশ্চিম ঘাট ও দক্ষিণ ঘাট পর্বত শ্রেণীর মিলন ক্ষেত্রে নীলগিরি অবস্থিত । দোদাবেতা, মাকুর্তি নীলগিরির প্রধান শৃঙ্গ । নীলগিরির দক্ষিণ-পশ্চিমাংশকে কুন্ডা বলে ।

    1. দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী ?

    উঃ – পশ্চিম ঘাটের আনাইমুদি ।

    1. পূর্ব উপকূল সমভূমিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী ?

    উঃ – পূর্ব উপকূল সমভূমিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যথা –

    i) উত্তর সরকার উপকূল

    ii) করমণ্ডল উপকূল

    i) উত্তর সরকার উপকূল :- এই উপকূলের উত্তরাংশের সুবর্ণ রেখার মোহনা থেকে কৃষ্ণা নদীর মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলকে উত্তর সরকার উপকূল বলে ।

    ii) করমণ্ডল উপকূল :- এই উপকূল কৃষ্ণা নদীর মোহনা থেকে কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত বিস্তৃত দক্ষিণাংশের উপকূলকে করমণ্ডল উপকূল বলে ।

    1. থেড়িস কাকে বলে ?

    উঃ – পুলিকট হ্রদ থেকে কন্যাকুমারীকা অন্তরীপ পর্যন্ত বিস্তৃত । উপকূলটি 100 কিমি চওড়া । এখানে কাবেরী নদীর বদ্বীপ আছে । এই উপকূলে বহু বালিয়াড়ি দেখা যায় । এগুলিকে স্থানীয় ভাষায় থেড়িস বলে ।

    1. কয়াল কাকে বলে ?

    উঃ – কেরল রাজ্যের এই উপকূল গড়ে 25 কিমি প্রশস্ত এখানে শৈলশিরা দেখা যায় । এখানে বহু লেগুন বা ব্যাকওয়াটার দেখা যায় । স্থানীয় ভাষায় এগুলিকে কয়াল বলে । এখানে ভেম্বানাথ কয়াল বিখ্যাত ।

    1. পূর্ব উপকূল সমভূমি ও পশ্চিম উপকূল সমভূমির মধ্যে পার্থক্য লেখ

    উঃ – পূর্ব উপকূল সমভূমি ও পশ্চিম উপকূল সমভূমির মধ্যে পার্থক্য –

    বিষয়

    পূর্ব উপকূল সমভূমি

    পশ্চিম উপকূল সমভূমি

    i) বিস্তার পূর্ব উপকূল সমভূমি চওড়া (গড় বিস্তার 100 – 200 কিমি)। পশ্চিম উপকূল সমভূমি সংকীর্ণ (গড় বিস্তার 60 – 75 কিমি)।
    ii) দৈর্ঘ্য পূর্ব উপকূল কম দীর্ঘ (1500 কিমি) পশ্চিম উপকূল তুলনা মূলক বেশি (2500 কিমি)
    iii) হ্রদ ও উপহ্রদ হ্রদ ও উপহ্রদের সংখ্যা কম (তবে চিল্কা হ্রদ উল্লেখযোগ্য) হ্রদ ও উপহ্রদের সংখ্যা বেশি (স্থানীয় নাম কয়াল)
    iv) বদ্বীপ মহানন্দা, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী নদীতে বদ্বীপ আছে । নর্মদা ও তাপ্তি নদীতে বদ্বীপ সৃষ্টি হয়নি ।
    v) সমুদ্র বন্দর উপকূল ভগ্ন নয় বলে বন্দরের সংখ্যা কম । উপকূল ভগ্ন বলে বন্দরের সংখ্যা বেশি ।
    1. ভূপ্রাকৃতিক বিভাগ সমূহের গুরুত্ব আলোচনা কর ?

    উঃ – ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এগুলি হল –

    i) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের গুরুত্ব :-

    a) উত্তর ভারতের প্রায় সমস্ত নদীই এই পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়েছে এবং এদের পলি দিয়েই ভারতের বিশাল সমভূমি গঠিত হয়েছে ।

    b) হিমালয়ের বনভূমি ভারতের সম্পদ ।

    ii) উত্তরের সমভূমি অঞ্চলের গুরুত্ব :-

    a) সমভূমি বলে পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ।

    b) নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে বহু শহর-নগরের বিস্তার ঘটেছে ।

    iii) উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলের গুরুত্ব :-

    a) মালভূমি বলে উপদ্বীপীয় নদীগুলির খরস্রোত; জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী ।

    b) লাভা গঠিত কালো মাটি তুলা, গম ও আখ চাষের উপযোগী ।

    iv) উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চলের গুরুত্ব :-

    a) পূর্ব উপকূল প্রশস্ত ও পলিগঠিত । ফলে কৃষি সহায়ক অধিবাসীর কৃষি জীবি ।

    b) পূর্ব উপকূলের নদীগুলি নাব্য বলে পরিবহন ও মৎস্য শিকারের উপযোগী ।

    v) দ্বীপপুঞ্জ অঞ্চলের গুরুত্ব :-

    a) আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বিশাল বনভূমিতে কাষ্ঠ সম্পদ আহরন ও কাষ্ঠ শিল্পের সঙ্গে বহু লোক নিযুক্ত ।

    b) দ্বীপপুঞ্জে প্রচুর নারকেল গাছ থাকায় এর সঙ্গে বহু লোক যুক্ত ।

    1. বেট কাকে বলে ?

    উঃ – পূর্বে যমুনা ও পশ্চিমে শতদ্রু নদীর মধ্য ভাগে পাঞ্জাব সমভূমি অবস্থিত । শতদ্রু ও ইরাবতী নদী বাহিত পলি সঞ্চয়ে এই সমভূমিটির উৎপত্তি হয়েছে । পাঞ্জাব সমভূমির নবীন পলি মৃত্তিকা বেট নামে পরিচিত ।

    1. ভাঙর ও খাদেরের মধ্যে পার্থক্য লেখ

    উঃ – ভাঙর ও খাদেরের মধ্যে পার্থক্য :-

    পার্থক্যের বিষয়

    ভাঙর

    খাদার

    i) অবস্থান উচ্চ গঙ্গা সমভূমির নদী থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের পলি গঠিত কিছুটা উঁচু সমতল ভূমি । উচ্চ গঙ্গা সমভূমির নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের পলি গঠিত কিছুটা নীচু সমতল ভূমি ।
    ii) প্রাচীনত্ব এই পলি মাটি বয়েসে প্রাচীন । এই পলিমাটি বয়েসে নবীন ।
    iii) উপাদান এই মাটিতে চুন জাতীয় পদার্থ বেশি থাকে । এই মাটিতে বালির ভাগ বেশি থাকে ।
    iv) উর্বরতা এই মাটির উর্বরতা কম । এই মাটির উর্বরতা বেশি ।
    v) বন্যা ও পলি সঞ্চয় বন্যার প্রকোপ কম বলে এখানে পলি সঞ্চয়ের পরিমাণ ও কম । বন্যার প্রকোপ বেশি বলে প্রতিবছর বন্যায় এখানে নতুন পলি সঞ্চয় ঘটে
    vi) পরিচিতি উত্তরপ্রদেশে ‘খাদার’ এবং পাঞ্জাবে ‘ধায়া’। পাঞ্জাবে ‘বেট’।
    1. উত্তরের সমভূমি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও

    উঃ – উত্তরের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল ও দক্ষিণের উপদ্বীপীয় মালভূমির মধ্য ভাগে অবস্থান করেছে উত্তরের বিশাল সমভূমি । সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র নদী অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই সমভূমিটি ভারত তথা বিশ্বের বৃহত্তম সঞ্চয়জাত সমভূমি ।

    ভূপ্রকৃতি – ভূপ্রকৃতি সমতল ও বৈচিত্রহীন । ভূপ্রকৃতির তারতম্য অনুসারে পূর্বে এই অঞ্চল ভাবর, তরাই, ভাঙ্গর, খাদার এই চার ভাগে ভাগ করা হত ।

    শ্রেণি বিভাগ – ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে উত্তরের সমভূমি অঞ্চলকে চারটি ভাগে ভাগ কারা হয়, যথা –

    i) ব্রহ্মপুত্র সমভূমি :- সমগ্র অসম রাজ্যে ব্রহ্মপুত্র নদ ও তার উপনদীর পলি জমে এই সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে । দৈর্ঘ্য প্রায় 750 কিমি, বিস্তার 80 কিমি । এখানে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে পৃথিবীর বৃহত্তম নদী মধ্যবর্তী মাজুলি দ্বীপে গড়ে উঠেছে ।

    ii) গঙ্গা সমভূমি :- যমুনা নদী থেকে বাংলাদেশ সীমানা পর্যন্ত উত্তরে সমভূমির বৃহৎ অঞ্চলটি উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত । আয়তন প্রায়75 লক্ষ বর্গকিমি । গঙ্গা সমভূমিকে তিনটি উপ-অঞ্চলে ভাগ করা হয়, যথা –

    গঙ্গা সমভূমি

    উচ্চ গঙ্গা সমভূমি

    মধ্য গঙ্গা সমভূমি

    নিম্ন গঙ্গা সমভূমি

    পশ্চিমে যমুনা নদী থেকে পূর্বে এলাহাবাদ পর্যন্ত বিস্তৃত । এই সমভূমি গঙ্গা যমুনা দোয়াব, রোহিল খন্ড সমভূমি, অযোধ্যা ও যমুনা পার সমভূমি নিয়ে গঠিত । এলাহাবাদ থেকে পূর্বে রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত মধ্য গঙ্গা সমভূমি প্রায় 600 কিমি দীর্ঘ, উচ্চতা 100 মিটার । এখানে ভাঙ্গার ও খাদার রয়েছে । রাজমহল পাহাড় থেকে বঙ্গোপসাগর মোহনা পর্যন্ত দার্জিলিং ও পুরুলিয়া বাদে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে সমভূমিটি বিস্তৃত ।

    iii) পাঞ্জাব সমভূমি :- পূর্বে যমুনা নদী থেকে পশ্চিমে শতদ্রু ও বিপাশা নদীর অববাহিকা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সমভূমি সিন্ধুর উপনদী বিতস্তা, ইরাবতী, বিপাশা, চন্দ্রভাগা ও শতদ্রুর পলি সঞ্চয়ে গঠিত ।

    বৈশিষ্ট্য

    a) দোয়াব – এখানকার নদী মধ্যবর্তী সমভূমিকে দোয়াব বলে ।

    b) ধায়া ও বেট – প্রাচীন প্লাবন সমভূমিকে ধায়া ও নবীন গঠিত অঞ্চলকে বেট বলে ।

    c) খোস বা চোস – উত্তরের ক্ষয়প্রাপ্ত অঞ্চলকে খোস বা চোস বলে ।

    iv) ভারতীয় মরু সমভূমি :- ভারতের পশ্চিমে রাজস্থান রাজ্যের পশ্চিম দিকে থর মরুভূমির ভারতের অংশটি ভারতীয় মরু বা মরুস্থলী বা মৃতের দেশ নামে পরিচিত । বালি, পাথর, কাঁকড় পূর্ণ এই অঞ্চলের আয়তন প্রায়75 লক্ষ বর্গকিমি । অঞ্চলটি ক্ষুদ্র পাঁচটি উপঅঞ্চলে বিভক্ত ।

    যথা – a) বাগার – একেবারে পূর্বপ্রান্তে আরাবল্লি পর্বতের পাদদেশে স্বল্প পলি যুক্ত তৃণ অঞ্চল হল বাগার ।

    b) রোহি – আরাবল্লির পশ্চিমাংশে যে প্লাবন ভূমি সেটিই রোহি ।

    c) থালি – রোহির পশ্চিমাংশে সংকীর্ণ বালিময় সমভূমি হল থালি ।

    d) হামাদা – শিলা বা প্রস্তরময় মরু ভূমি হামাদা ।

    e) আর্গ – পশ্চিম সীমান্তে বালুকা ময় মরুভূমি হল আর্গ ।

    1. প্রস্থ অনুযায়ী হিমালয়ের শ্রেণিবিভাগ করে যে কোনো দুটি ভাগের বিবরণ দাও ?

    উঃ – হিমালয় পর্বতটি বিভিন্ন উচ্চতার চারটি সমান্তরাল পর্বত শ্রেণির সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে । দক্ষিণ থেকে উত্তরে বা প্রস্থ বরাবর চারটি পর্বতশ্রেণি হল –

    i) শিবালিক হিমালয়

    ii) হিমাচল হিমালয় বা অবহিমালয়

    iii) হিমাদ্রি বা উচ্চ হিমালয়

    iv) টেথিস হিমালয় বা তিব্বতীয় হিমালয়

    টেথিস হিমালয় :- বাংলায় একে হিমালয় ওর অঞ্চল বলে । হিমাদ্রির উত্তরে ট্রান্স বা টেথিস বা তিব্বতীয় হিমালয় অবস্থিত ।

    বৈশিষ্ট্য

    a) উৎপত্তি কাল – আজ থেকে প্রায় 7 কোটি বছর আগে উৎপত্তি হয় ।

    b) বিস্তার ও উচ্চতা – প্রকৃত পক্ষে এটি তুষার মালভূমি । প্রস্থ প্রায় 40 কিমি, দৈর্ঘ্য প্রায় 1000 কিমি এবং গড় উচ্চতা 5500-6000 মিটার ।

    c) উল্লেখযোগ্য পর্বত শৃঙ্গ – এই অংশে জাস্কর পর্বত শ্রেণি অবস্থিত । এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ লিওপারগেল । এছাড়া ও লাদাখ, কৈলাস ও কারাকোরাম পর্বতশ্রেণি এবং আখসাইচিন মালভূমি আছে ।

    হিমাদ্রি হিমালয় :- হিমাচল হিমালয়ের উত্তরে অবস্থান করেছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশ্রেণি হিমাদ্রি বা উচ্চ হিমালয় বা হিমগিরি । এটি মূলত গ্রানাইট ও নীস শিলা দ্বারা গঠিত ।

    বৈশিষ্ট্য

    a) উৎপত্তি কাল – প্রায় 7-12 কোটি বছর আগে ।

    b) বিস্তার ও গড় উচ্চতা – গড় বিস্তার 25 কিমি, গড় উচ্চতা 6000 মিটারের ও বেশি ।

    c) উল্লেখযোগ্য পর্বত শৃঙ্গ – পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট, তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্জনজঙ্ঘা, মাকালু, ধবলগিরি, নন্দাদেবী, কামেট প্রভৃতি উচ্চতম শৃঙ্গগুলি অবস্থিত ।

    1. ভারতের উপকূলীয় সমভূমির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও

    উঃ – উপদ্বীপীয় মালভূমির দু-পাশে উপকূল বরাবর যে সংকীর্ণ উপকূল সমভূমি গড়ে উঠেছে, তাকে উপকূলীয় সমভূমি বলা হয় । এই উপকূলীয় সমভূমিকে 2 ভাগে ভাগ করা হয়, যথা –

    i) পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি :– এই সমভূমির প্রধান তিনটি বিভাগ রয়েছে, যথা –

    a) উপকূল সমভূমি – ওড়িশায় মূলত মহানদীর বদ্বীপ অংশে প্রায় 400 কিমি দীর্ঘ এই সমভূমি দেখা যায় ।

    b) অন্ধ্র সমভূমি – উৎকল সমভূমির দক্ষিণে ও পুলিকট হ্রদ পর্যন্ত বিস্তৃত ।

    c) তামিলনাড়ু সমভূমি – পুলিকট হ্রদ থেকে কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত বিস্তৃত । একে দক্ষিণ ভারতের শষ্য ভান্ডার বলা হয় ।

    ii) পশ্চিম উপকূলের সমভূমি :- এই সমভূমির প্রধান ছয়টি ভাগ রয়েছে, যথা –

    a) কচ্ছের রণ – গুজরাটের উত্তরে প্রায় 73600 বর্গকিমি স্থান জুড়ে অবস্থিত । অগভীর জলাভুমি রণ নামে পরিচিত ।

    b) কচ্ছ উপদ্বীপ – রণের দক্ষিণে কচ্ছ উপদ্বীপ অবস্থিত । কচ্ছ শব্দের অর্থ হল জলময় দেশ ।

    c) কাথিয়া বাড় উপদ্বীপ – কচ্ছ উপদ্বীপের দক্ষিণাংশে এই অঞ্চল অবস্থিত । এখানে গির, গিরনার, ওসম প্রভৃতি পাহাড় দেখা যায় ।

    d) গুজরাট সমভূমি – কাথিয়া বাড়ের দক্ষিণে সবরমতী, মাহি, নর্মদা নদী বাহিত পলি দ্বারা এই সমভূমি গঠিত ।

    e) কোঙ্কন উপকূল সমভূমি – গুজরাট সমভূমি থেকে দক্ষিণে গোয়া পর্যন্ত এই সমভূমি 500 কিমি দীর্ঘ এই সমভূমি খুবই ভগ্ন ও সংকীর্ণ ।

    f) কর্ণাটক উপকূলীয় সমভূমি – গোয়া থেকে ম্যাঙ্গালর পর্যন্ত এই সমভূমিটি বিস্তৃত ।

    1. পশ্চিম হিমালয়ের ভূপ্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও ।

    উঃ – পশ্চিম হিমালয় :- এই হিমালয় পশ্চিমে নাঙ্গা পর্বত থেকে পূর্বে নেপালের পশ্চিম সীমানায় অবস্থিত কালি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত । পশ্চিম হিমালয়কে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায় ।

    যথা –

    i) কাশ্মীর হিমালয় – জম্বু ও কাশ্মীরের প্রায় 5 লক্ষ বর্গ কিমি জুড়ে এর অবস্থান ।

    a) শিবালিকের জম্বু ও পুঞ্চ পাহাড়, b) পিরপাঞ্চাল, c) জাস্কর পর্বত, d) লাডাক, ও e) কারাকোরাম পর্বত শ্রেণি কাশ্মীর হিমালয়ে অবস্থিত ।

    ii) পাঞ্জাব ও হিমাচল হিমালয় – পাঞ্জাব ও হিমাচল প্রদেশের প্রায় 64 হাজার বর্গ কিমি জুড়ে এই হিমালয় অবস্থিত । ধাওলাধার, নাগটিব্বা, মুসৌরি এখানকার প্রধান শৈলশিরা ।

    iii) কুমায়ুন হিমালয় – উত্তরাখন্ডে রাজ্যের প্রায় 4600 বর্গ কিমি জুড়ে এটি অবস্থান করেছে । এখানকার প্রধান পর্বত শ্রেণি হল – শিবালিক, হিমাচল ও হিমাদ্রি । শিবালিক ও হিমাচলের মাঝে দুন উপত্যকা অবস্থিত । এখানে যে সব হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ দেখা যায় তাদের তাল বলে ।

    যেমন – নৈনিতাল, ভীমতাল, সাততাল ও পুনাতল প্রভৃতি ।

    1. দাক্ষিণাত্য মালভূমির অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য লেখ । / দাক্ষিণত্য মালভূমির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও । / দাক্ষিণাত্য মালভূমির ভূপ্রকৃতি আলোচনা কর ।

    উঃ – দাক্ষিণাত্য মালভূমি :- উত্তরে বিন্ধ্য পর্বত, পূর্বে পূর্ব ঘাট পর্বত ও পশ্চিমে পশ্চিম ঘাট পর্বত দ্বারা বেষ্টিত মালভূমি অঞ্চলটি দাক্ষিণাত্য মালভূমি নামে পরিচিত । ভারতের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন এই ভূখন্ডটি গন্ডোয়ানা ল্যান্ডের অংশ বিশেষ । এই অঞ্চলকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে । যথা-

    i) পার্বত্য অংশ – এই অঞ্চলকে আবার 3 ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথা –

    a) উত্তরের পার্বত্য সমূহ – এই পর্বত শ্রেণির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ অমর কন্টক (1057 মিটার) ।

    b) পশ্চিমঘাট পর্বত বা সহ্যাদ্রি – এই পর্বত শ্রেণির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ভাভুলমালা (2339 মিটার) ।

    c) পূর্বঘাট পর্বত বা মলয়াদ্রি – এই পর্বত শ্রেণির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বিলিগির রঙ্গন (1750 মিটার) ।

    ii) মালভূমি অংশ – দাক্ষিণাত্য অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য মালভূমি গুলি হল –

    a) মহারাষ্ট্র মালভূমি – মহারাষ্ট্রের ব্যাসল্ট শিলায় গঠিত বিশাল মালভূমি অঞ্চলটি ডেকান্ট্র্যাপ নামে পরিচিত ।

    b) কর্ণাটক মালভূমি – ডেকান্ট্র্যাপের দক্ষিণে অবস্থিত এই ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির গড় উচ্চতা 450 মিটার ।

    c) তেলাঙ্গানা মালভূমি – কর্ণাটক মালভূমির পূর্বে অন্ধ্রপ্রদেশের এই মালভূমিটি প্রধানত নীস শিলাদ্বারা গঠিত ।

    দাক্ষিণাত্য মালভূমির বৈশিষ্ট্য :-

    i) এটি প্রাচীন গন্ডোয়ানা শিন্ডের অবশিষ্ট্যাংশ,

    ii) প্রাচীন ও কঠিন গ্রানাইট, ব্যাসল্ট ও নিস শিলা দ্বারা গঠিত ।

    iii) মালভূমিটি উত্তর – পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ পূর্ব দিকে ঢালু এবং উত্তর – দক্ষিণে প্রায় 1700 কিমি দীর্ঘ,

    iv) গড় উচ্চতা প্রায় 600 মিটারের কাছাকাছি,

    v) এটি প্রধানত ক্ষয়প্রাপ্ত ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি ।

  • ভারত এর প্রাকৃতিক পরিবেশ (অধ্যায় ৫.১ )

    ভারতএর প্রাকৃতিক পরিবেশ

    অবস্থান ও প্রশাসনিক বিভাগ

    1. অবস্থান :-

    অক্ষ্যাংশগত অবস্থান :
    ভারত দক্ষিনে 8°4′ উত্তর অক্ষ্যাংশ (কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ) থেকে উত্তরে 37°6′ উত্তর অক্ষ্যাংশ (কাশ্মীরের ইন্দিরা কল) পর্যন্ত বিস্তৃত । অক্ষ্যাংশগত ভাবে ভারত উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত ।

    দ্রাঘিমাগত অবস্থান :
    ভারত পশ্চিমে 68°7′ পূর্ব দ্রাঘিমা (গুজরাটের গূহার মোটার ) থেকে 97°25′ পূর্ব দ্রাঘিমা (আরুনাচল প্রদেশের কিবিথু) পর্যন্ত বিস্তৃত । দ্রাঘিমাগত দিক থেকে পূর্ব গোলার্ধে অবস্থিত ।

    1. সীমানা :-
      ভারতের উত্তরে হিমালয় পর্বত এবং চিন, নেপাল, ভূটান অবস্থিত । ভারতের পশ্চিমে পাকিস্তান ও আরব সাগর এবং দক্ষিনে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও ভারত মহাসাগর । পূর্বে মায়ান্মার,বাংলাদেশ এবং বঙ্গোপসাগর অবস্থিত ।
    2. উপদ্বীপ কাকে বলে ?

    উপদ্বীপ :-
    তিনদিক জলভাগ দ্বারা বেষ্টিত স্থলভাগকে উপদ্বীপ বলে । যেমন- ভারত হলো একটি উপদ্বীপ, কারন ভারতের তিনদিকে রয়েছে 3 টি সাগর (পূর্বে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে আরব সাগর এবং দক্ষিনে ভারত মহাসাগর) । ভারত পৃথিবীর বৃহত্তম উপদ্বীপ ।

    1. উপসাগর :
      তিনদিক স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলভাগকে উপসাগর বলে । যেমন – খাম্বাত, কচ্ছ, উপসাগর ইত্যাদি ।
    2. ভারতের রাজ্যসমূহের পুনর্গঠনের প্রধান ভিত্তি কী ছিল ?

    ♦ ভারতের রাজ্য পুনর্গঠনের প্রধান ভিত্তি গুলি হল – i) ভাষা ii) সংস্কৃতি iii) প্রশাসনিক দক্ষতাবৃদ্ধি iv) অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা v) প্রাকিতিক ও ভৌগোলিক সাদৃশ্য ।

    1. বিস্তার :-
      কাশ্মীর – কন্যাকুমারী উত্তর দক্ষিনে 3214 km এবং গুজরাট – আরুনাচল প্রদেশ পূর্ব –পশ্চিমে 2933 km বিস্তৃত ।
    2. SAARC( সার্ক) :-
      South Asian Association for Regional Co-operation বা দক্ষিনে এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা পরিষদ ।

    স্থাপন :
    8 ডিসেম্বর 1985 সাল ।

    সদস্য দেশ :
    ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ । 8 টি দেশ মিলে এটি গঠিত হয় ।

    সদরদপ্তর :-

    নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ।

    1. ভারতের প্রতিবেশী দেশ :
      9 টি । পাকিস্তান, আফগানিস্তান, চিন, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ ।
    2. ভারতীয় উপমহাদেশ :-
      এশিয় মহাদেশের দক্ষিনাংশে ভারতসহ পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ভূ-প্রাকৃতিক, জলবায়ু, আর্থ সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সাদৃশ্য দেখা যায় । 6 টি দেশের মধ্যে একেবারে মধ্যভাগে অবস্থিত ভারতের ক্ষেত্রে মান, জনসংখ্যা এবং প্রভাব প্রতিপত্তি সবচেয়ে বেশি । ভারত হল এই অঞ্চলটির মূল চালিকা শক্তি । তাই এই অঞ্চলটিকে ভারতীয় উপমহাদেশ বলা হয় ।
    3. ভারতের উল্লেখযোগ্য প্রনালী :-
    প্রনালী অবস্থান
    গ্রেট  চ্যানেল আন্দামান ও নিকোবর, ইন্দোনেশিয়া
    10 চ্যানেল আন্দামান ও নিকোবর
    9 চ্যানেল মিনিকয় ও লাক্ষাদ্বীপ
    8 চ্যানেল মালদ্বীপ ও মিনিকয়
    মান্নার উপসাগর ও পক প্রণালী ভারত ও শ্রীলংকা
    1. ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সীমানারেখা :
    সীমান্ত রেখা কোন কোন দেশের মধ্যে অবস্থিত
    ম্যাকমোহন লাইন অরুণাচল প্রদেশে – ভারত ও চিন
    র‍্যাডক্লিফ লাইন ভারত ও পাকিস্তান
    LOC( Line of Control ) ভারত – পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর
    24 তম প্যরালাল ভারত – পাকিস্তান (পাকিস্তান দাবি করে )
    28 তম প্যরালাল ভারতীয় কাশ্মীর – পাক অধিকৃত কাশ্মীর
    ডুরান্ড লাইন ভারত ও আফগানিস্তান
    LAC (Line of Actual Control) ভারত ও চিন অধিকৃত কাশ্মীর
    IB (International Border) ভারত ও বাংলাদেশ
    1. রাজ্য পুনর্গঠনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস :
    1957 অসম থেকে নাগাল্যান্ড কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন ।
    1960 বোম্বাই ভেঙে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট রাজ্য গঠন ।
    1961 গোয়া, দমন ও দিউ এবং পদুচেরী কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন ।
    1964 নাগাল্যান্ড রাজ্য গঠন ।
    1966 পাঞ্জাব ভেঙে হরিয়ানা রাজ্য ও চণ্ডীগড় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন ।
    1969 অসম থেকে মেঘালয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন ।
    1970 হিমাচল প্রদেশ রাজ্য গঠন ।
    1971 ত্রিপুরা, মনিপুর ও মেঘালয় রাজ্য গঠন ।
    1975 সিকিম রাজ্য গঠন । (1976 ) মিজোরাম রাজ্য গঠন ।
    1987 অরুণাচল প্রদেশ ও গোয়া রাজ্য গঠন ।
    1993 দিল্লি জাতীয় রাজধানী গঠন ।
    2000 মধ্যপ্রদেশ ভেঙে ছত্তিসগড়, উত্তরপ্রদেশ ভেঙে উত্তরাখন্ড, বিহার ভেঙে   ঝাড়খন্ড ।
    2014 অন্ধ্রপ্রদেশ ভেঙে তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন ।
    1. গুরুত্বপূর্ন তথ্য :

    i) নবীনতম অঙ্গরাজ্য – তেলেঙ্গানা ।

    ii) অঙ্গরাজ্যগুলির মধ্যে বৃহত্তম – a) আয়তনে – রাজস্থান, b) জনসংখ্যায় – উত্তরপ্রদেশ, c) জনঘনত্বে – বিহার ।

    iii) অঙ্গরাজ্যগুলির মধ্যে ক্ষুদ্রতম – a) আয়তনে – গোয়া, b) জনসংখ্যায় – সিকিম, c) জনঘনত্বে – অরুনাচল প্রদেশ ।

    iv) কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে বৃহত্তম – a) আয়তনে – জম্মু ও কাশ্মীর, b) জনসংখ্যায় ও জনঘনত্বে দিল্লি ।

    v) কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে ক্ষুদ্রতম – a) আয়তনে ও জনসংখ্যায় – লাক্ষাদ্বীপ, b) জনঘনত্বে – আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ।

    vi) ভারতের প্রধান ভাষাভিত্তিক রাজ্য – অন্ধ্রপ্রদেশ ।

    1. বর্তমানে ভারতে অঙ্গরাজ্য – 28 টি ।
    2. বর্তমানে ভারতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল – 7 টি ।
    3. ভারতের প্রান্তবিন্দু

    i) ভারতের পশ্চিমতম প্রান্তবিন্দু হল – গুজরাটের গুহার মোটার (মোতি গ্রাম)।

    ii) ভারতের পূর্বতম প্রান্তবিন্দু হল – আরুনাচল প্রদেশের কিবিথু।

    iii) ভারতের উত্তরতম প্রান্তবিন্দু হল – জম্মু ও কাশ্মীর -এর পূর্বে কারাকোরাম পর্বত শ্রেণীর ইন্দিরা কল ।

    iv) ভারতের দক্ষিনতম প্রান্তবিন্দু হলআন্দামান ও নিকোবর দ্বিপপুঞ্জের ইন্দিরা পয়েন্ট ।

    v) ভারতের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিনতম বিন্দু – তামিলনাড়ুর কন্যা-কুমারিকা অন্তরীপ ।

    1. ভারতের সর্ববৃহৎ প্রতিবেশী দেশ – চীন ।
    2. ভারতের সর্বাপেক্ষা ছোট প্রতিবেশী দেশ – মালদ্বীপ ।
    3. কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল চণ্ডীগড় – ভারতে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যের রাজধানী ও চণ্ডীগড় এর রাজধানী । চণ্ডীগড় ভারতে 3 টি জায়গার রাজধানী ।
    4. আয়তনের বিচারে ভারতের পৃথিবীতে স্থান – সপ্তম ।
    5. ভারতের প্রামান্য দ্রাঘিমারেখা হল – 82°30′ পূর্ব ।
    6. ভারতের রাজ্য পূনর্গঠনের মুল ভিত্তি হলভাষা ।
    7. ভারতে রাজ্য পুনর্গঠন পরিষদের সুপারিশ প্রথম কার্যকরী হয়1956 সালে ।
    8.  ভারতের প্রবেশ দ্বার বলা হয়মুম্বাই কে ।
    9.  ভারতে আর্ন্তজাতিক সিমারেখা সর্বাধিক – বাংলাদেশের সঙ্গে ।
    10. ভারতের সংবিধান স্বীকৃত ভাষা – 22 টি ।
    11. ভারতে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন তৈরি হয় – 1953 সালে ।
    12. ভারতের মশলার বাগান নামে পরিচিত– কেরল ।
    13. এশিয়ার ডিমের ঝুড়িনামে পরিচিত – অন্ধ্রপ্রদেশ ।
    14. পঞ্চনদের দেশবলা হয় – পাঞ্জাব কে ।
    15. আপেলের রাজ্যবলা হয় – হিমাচল প্রদেশকে ।
    16. ভারতের সুইজারল্যান্ডবলা হয় – কাশ্মীর ।
    17. ভূস্বর্গবলা হয় – কাশ্মীর কে ।
    18. কর্কটক্রান্তিরেখা (Tropic of Cancer) ভারতের যে রাজ্যের উপর দিয়ে গিয়েছে – গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মিজোরাম ।
    19. সর্বাধিক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সীমা স্পর্শকারী রাজ্য

    ♦ পশ্চিমবঙ্গ নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ ।

    ♦ অরুনাচল প্রদেশ – ভুটান, চিন ও মায়ানমার ।

    1. ভারতের সবচেয়ে কম সীমানা স্পর্শকারী রাজ্য – সিকিম ।
    2. প্রনালী
      দুটি স্থলভাগ যে সংকীর্ণ জলভাগ দ্বারা বিচ্ছিন্ন থাকে তাকে প্রণালী বলে । যেমন –পক প্রনালী ।
    3. NFFA (North East Frontier Agency) উত্তর পূর্ব সীমান্ত অঞ্চল
      সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলি নিয়ে গঠিত অঞ্চল উত্তর পূর্ব ভারতের সিমান্তবর্তী রাজ্যগুলি নিয়ে গঠিত অঞ্চল উত্তর পূর্ব সীমান্ত অঞ্চল নামে পরিচিত ।
    4. করিডর (Corridor)
      দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে যখন কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য একটি দেশের অভ্যন্তরে অন্যদেশকে তার এলাকা বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হয় তাকে করিডর বলে ।